জার্সি বুট তুলে রাখবেন আজ আলফাজ
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৯
ফুটবল মাঠ থেকে আজই বিদায় নেবেন দেশের এক সময়ের সেরা স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ।
ফুটবল ক্যারিয়ারে যবনিকা টানার কথা অনেক আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিলেন না। আজ মোহামেডান আবাহনী ম্যাচেই জার্সি আর বুট জোড়া খুলে তুলে রাখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সতীর্থরা অনেক আগেই মাঠ ছেড়ে দর্শক হয়ে গেছেন। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন, অদম্য শক্তি আর পরিবারের প্রেরণা নিয়ে খেলে যাচ্ছিলেন এই ফুটবলার। তবে মোহামেডান থেকেই ফুটবলকে বিদায় নেয়ার জন্যই আবার ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
আলফাজ ১৯৮৩ সালে ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার টুর্নামেন্ট এরশাদ কাপ ফুটবল দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। খেলেছিলেন লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবে। প্রথম বিভাগ ফুটবলে ’৯২ সালে রহমতগঞ্জ দিয়ে শুরু। ৯৫ সালে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ থেকে মোহামেডানের সাদাকালো জার্সি গায়ে জড়ান। খেলেছেন ২০০৫ সাল পর্যন্ত। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, আবাহনী লিমিটেড এবং বিজেএমসি হয়ে আবার মোহামেডানে যোগ দেন তিনি।
এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। তবে শেখ রাসেল, আবাহনী এবং বিজেএমসিতে থাকাকালীন তার ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতা কমে আসতে শুরু করে। ৯৫ সালে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত সার্ক ফুটবলের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান। জাতীয় দলে খেলেছেন টানা ২০০৮ সাল পর্যন্ত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আলফাজের অনেক বড় অর্জন হচ্ছে ১৯৯৬ সালে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের বিবেচনায় মাসের সেরা খেলোয়াড় বিবেচিত হওয়া। এরপর বাংলাদেশের ফুটবলে আর কেউ সন্মানজনক এ খেতাবটি পাননি। অথচ এই আলফাজ ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতেই অর্থ উপার্জনের জন্য দালাল ধরে জাপানে পাড়ি জমাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জাপানে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে নারিতা বিমানবন্দর থেকে ফিরে এসে অনূর্ধ্ব-১৮ গাজী রাবার টুর্নামেন্টের মাধ্যমে পুনরায় ফুটবলে যোগ দিয়েছিলেন দেশের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
সেদিনের ফিরে আসা আলফাজের গোলে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সাফ গেমস ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আলফাজের স্মৃতিতেও ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতম দিক হলো কাঠমান্ডু সাফ গেমস ফুটবলের ফাইনাল। নেপালের বিরুদ্ধে ফাইনালে আলফাজের গোলে স্বর্ণ জয় করে বহু কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণকে করায়াত্ত করতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল।
২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশ দলে ছিলেন দেশের স্বীকৃত ফুটবল তারকাদের একটি প্রজন্মের শেষজন আলফাজ।