প্র জ ন্ম মু খ
বাংলার পথ ধরে
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩৩
পরিবারের সবাই তখনও কিছুটা হতাশ। বাংলায় ভর্তি হওয়া মানে ভবিষ্যত্ নিশ্চিত অন্ধকার। আসলে বৈশ্বিকতার দোহাই দিয়ে বাংলাকে যতটা না খাটো করে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে, সে রকম কোনো সুযোগ নেই। হোসনে আরা মনে করেন, পছন্দের বিভাগে পড়তে আসার সুযোগটা সব সময় সবার হয় না, এটাই রূঢ় বাস্তবতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেই বিষয়েই হোক, ফলাফলটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় দিনশেষে। হোসনে আরা অবশ্য আগ্রহ নিয়েই বাংলা পড়তে এসেছিলেন। পাঠ্যের বাইরের নানান বিষয়ে ছিল তার ঝোঁক, পড়তেন অনেক ধরনের বই। আর এগুলোও তার ইর্ষণীয় সাফল্য এনে দিতে অনেকটা সহায়ক ছিল।
বাংলাতে পড়ে কতটা ভালো অবস্থানে কাজ করা সম্ভব? বিভিন্ন পেশায় তাদের সম্ভাবনাই বা কেমন? হোসনে আরা মনে করেন, সরকারি কলেজে বাংলাতে শিক্ষকতার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আর আমাদের দেশে অনেক সময়ই বিষয়ের আঙ্গিকে ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে না, সেই বাস্তবতা তৈরি হয়নি। সুতরাং বাংলাতে পড়েও সরকারি বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে, দরকার কেবল নিজের আগ্রহের জায়গাটা বুঝে সেই মাফিক এগোনো।
নতুন প্রজন্ম নিয়ে ভাবনা কেমন হোসনে আরার? তিনিও এই প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে মনে করেন, ‘নতুনদের বুঝতে আমরা কিছুটা সময় নেই। তাদেরকে নিয়ে নেতিবাচক কথাগুলো ফলাও করে প্রচার করি আমরা। আসলে সংকটের সময়ই কেবল তাদের আসল রূপ ফুটে ওঠে তাদের। নির্দ্বিধায় তাদের উপর আস্থা রাখতে পারি আমরা, তারাই আমাদের ভবিষ্যত্, আলোর পথের যাত্রী। সুতরাং প্রজন্মকে অভিবাদন জানিয়ে তাদের পথচলার সুযোগটা করে দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।’
আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি হয়েছে, মাদ্রাসা, বাংলা, ইংরেজি এই তিন মাধ্যমে বিভাজন করে ফেলা হয় শৈশব থেকেই। এটা কতটা ইতিবাচক, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের ঐক্যের দিক বিবেচনায় কতটা আশাব্যঞ্জক? হোসনে আরা মনে করেন, ‘বৈশ্বিকতার সাথে গা ভাসাব ঠিক আছে, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। পড়াশোনার মাধ্যম যাই হোক, পারিবারিক শিক্ষাটাই আমাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি। একটা ছেলে বাংলা মাধ্যম, আরেকটা মেয়ে ,মাদ্রাসা পড়ুয়া, এইভাবে বিভাজন করা উচিত নয়। সরকার উচ্চশিক্ষায় সমমান নিশ্চিত করেছে, কাজের ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে সব মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের।’ তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করে বলেন, ‘বিভাজনটা যেন আমরাই তৈরি না করে দিই। নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্মই এই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসবে।’
মিডিয়াতে বিভিন্ন মিশ্র ভাষার প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম প্রজন্মের এই প্রতিনিধির কাছে। তিনি বলেন, ‘বিকৃত ভাষার একটা দল তৈরি হয়েছে, এটা জনপ্রিয়ও হয়েছে এক শ্রেণীর মানুষের মাঝে। কিন্তু সাহিত্য সংস্কৃতি কিন্তু সমকালীন প্রতিচ্ছবি, এটাই চিরায়ত হয়ে থাকে আগামীর মাঝে। সে জন্যই ক্ষণিকের এই জনপ্রিয়তা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এটা নিয়েই প্রশ্ন। এখন আসা যাক, এটা দোষণীয় কি না? যদি না জেনে আঞ্চলিক বা অন্যরকম ভাষা ব্যবহার করা হয়, সেটা দোষের নয়। কিন্তু অহেতুক কৌলিন্যের দোহাই দিয়ে মিশ্র ভাষায় কথা বলা দোষনীয়। পরিবর্তন আমাদের ভাষাতে হবেই, সেটা যেন ইতিবাচক হয়।’
হোসনে আরা শিক্ষক হিসেবে বেশ প্রিয় তার শিক্ষার্থীদের কাছে। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন সফল মানুষ। স্রোতের বিপরীতে চলে তিনি আজকের এই অবস্থানে, এসেছেন এটাই বা কম কি! বাবা-মায়ের পাঁচ সন্তানের মাঝে তিনিই সবার চেয়ে ছোট। সবার ভালোবাসা পেয়ে পেয়ে আন্দন্দেই কেটে গিয়েছে তার শৈশবের দিনগুলো। কামরুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, তারপর ভিকারুন্নিসা নূন কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই স্বামী ফিরোজ আল মামুন আর দুই কন্যাকে নিয়ে থাকেন তিনি। কন্যা আনন্দিতা করবী পড়ছে কেজিতে, অতন্দ্রিলা জয়তীর বয়স এক বছর। তাদের নিয়েই তার ভবিষ্যত্ সব স্বপন আবর্তিত হয়।
হো স নে আ রা
জন্মতারিখ ও স্থান :২ মে, ঢাকা
মায়ের নাম :জাহেরা খাতুন
বাবার নাম :হাবিবুর রহমান
প্রথম স্কুল :ধোলাইপাড় কিন্ডারগার্ডেন স্কুল
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :ভালো মন্দ যাহাই আসুক, সত্যরে লও সহজে
প্রিয় পোশাক :শাড়ি
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :সত্ থাকা|