প্রজন্মের ভিডিও এডিটর

খু র শী দ আ না ম সিনিয়র ভিডিও এডিটর চ্যানেল একাত্তর ক্রিয়েটিভ কিছু করতে চাইতেন সব সময়। ভিজুয়াল মাধ্যমে আগ্রহ ছিল। পেন্টাসফ্ট বলে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ১৯৯৮ সালের দিকে মাল্টিমিডিয়া বিষয়ক কিছু কোর্স অফার করে। তিনি ওদের ওখানে একটা কোর্স করেন। কোর্স করতে করতেই একটি নাটক সম্পাদনা করা। এখনও তার মনে আছে, নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন। এটা ১৯৯৯ সালের ঘটনা। এরপর ২০০০ সালে ভারতের চেন্নাইতে মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনের উপর ডিপ্লোমা করার জন্য যান। ফিরে এসে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েভ পেজ ডিজাইন, অ্যানিমেশন সবকিছুই করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পাদনাতেই স্থির হয়েছেন। গড়ে তুলেছেন সফল ক্যারিয়ার। বলছিলাম খুরশীদ আনামের কথা, তিনি কাজ করছেন চ্যানেল একাত্তরে। আনাম বহু কাজ করলেও গত প্রায় ৭/৮ বছর ধরে শুধু প্রামাণ্যচিত্রই সম্পাদনা করছেন। বিশেষায়িত এডিটিং আমাদের দেশে প্রচলিত না হলেও পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচলিত আছে বলে জানালেন তিনি। আনামের করা অনেক সম্পাদনাই টিভিপর্দায় দারুণ উপভোগ করি আমরা, কিন্তু তিনি কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? উত্তরে আনাম বলেন, ‘আমি যে কাজটা করি, প্রধানত প্রামাণ্যচিত্র সম্পাদনা, সেটাতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে টিভি চ্যানেলে আরও নানা কাজ করতে হয়, সেগুলোতে অনেক চাপ থাকে, সময় কম থাকে। তা ছাড়া আমাদের চ্যানেলগুলোতে এখনও প্রফেশনাল অ্যাপ্রোচ অনেক কম। এ জন্য ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যখন বাইরে কাজ করি সেখানে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা উপযোগী? জানতে চাইলে বেশ ভালো ব্যাখ্যা দিলেন আনাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভিডিও এডিটরের পেশাটা টেকনিক্যাল কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। মনে করা হয় কম্পিউটারে একটা এডিটিং সফটওয়্যার চালাতে পারলেই চলবে। টিভিতে যে ভিডিও এডিটং করা হয় তা অদূর ভবিষ্যতে প্রোডিউসার বা রিপোর্টাররা করবে। আর এখন তো ভিডিও এডিটরদের ফিল্ম করতে হবে, প্রামাণ্যচিত্র করতে হবে, মিউজিক ভিডিও করতে হবে। সবকিছু তো এখন ভিডিওতে। ভিডিও এডিটরের পরিবর্তে হয়তো ভিজুয়াল এডিটর বলা হবে এদেরকে ভবিষ্যতে। কাজের ক্ষেত্র বাড়বে, কমবে না।’ আনাম মনে করেন, নতুনদের খুব কম কাজ হচ্ছে যা চোখে পড়ে। টিভিতে একেবারে হচ্ছে না। যা কিছু ভালো কাজ তা প্রোডাকশান হাউসগুলোতে হচ্ছে। সেখানে আসলে চ্যালেঞ্জ বেশি। সুযোগ বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দরকার আছে। এই যে আমাদের দেশে সম্পাদনার একটা গতানুগতিক ধারা চলছে তা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাবে। নিয়ম না জানলে সেটা ভাঙবেন কেমন করে? মিডিয়া এখন একটা ধারার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে আপনাকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’ বাবার চাকরির সুবাদে আনামের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরে ঘুরে ঘুরে। তারপর কৈশোরের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে সীমান্ত শহর যশোরে। বাবা-মা সেখানেই থাকেন। সহধর্মিণীকে নিয়ে আনাম তার সুখের সংসার গড়েছেন ঢাকা শহরে। খুরশীদ আনাম ডাকনাম :আনাম জন্মতারিখ ও স্থান :২ জুন, যশোর মায়ের নাম :সেলিনা আরজু বাবার নাম :হামিদুল হক প্রথম স্কুল :আগা খান স্কুল, খুলনা প্রিয় মানুষ :চে গুয়েভারা প্রিয় উক্তি :Creativity always goes ahead of technology. প্রিয় পোশাক :জিন্স আর টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ফিল্ম দেখে, গান শুনে আর নেট ব্রাউজ করে সাফল্যের সংজ্ঞা :নীরবে, নিভৃতে নিজের পছন্দমতো কাজ করতে পারা। === সা মি র আ হ মে দ ফিল্ম এডিটর গাঁও প্রোডাকশন্স ছোটবেলা থেকেই সিনেমার পোকা ছিলেন তিনি। দিনে তার অন্তত তিনটি সিনেমা দেখা চাই-ই চাই। তারপর চিন্তা ওই ফিল্মগুলো নিয়েই। চিন্তা করতেন কীভাবে বানিয়েছে এ সিনেমাগুলো, কীভাবে লিখেছে গল্পগুলো। তখন থেকেই মনে হতো যারা এই সিনেমাগুলো বানায় তারা প্রচুর মেধাবী এবং বুদ্ধিমান। তার পরিবারের সবাই সিনেমার পাগল ছিলেন, কিন্তু কেউই সিনেমাকে নিজের কাজের ক্ষেত্র বানায়নি। সেই ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নিজের কাজের ক্ষেত্রটি হবে সিনেমা নিয়ে। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবী ফিল্ম এডিটর সামির আহমেদ সম্পর্কে। ছোটবেলায় তার সেই কমিটমেন্ট দেখে ইউনিভার্সিটি শেষ করার পর মা খোঁজ নিলেন সিনেমার উপর পড়াশোনা কোথায় করা যায়। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পেলেন ভারতের পুনাতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, তারপর সেখানেই অ্যাপ্লাই করলেন। মূলত সিনেমা নিজে শেখার একটা জিনিস কিন্তু সুন্দর একটি পরিবেশ থাকলে নিজের মাঝে কনফিডেন্ট বেড়ে যায়। তখন মূলত তার মনে হতো এই কাজ না করলে মারাই যাবেন। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকেই সামির এডিটিং পাস করেন। বর্তমানে তিনি এডিটিং এবং নির্দেশনার কাজও করেন। নিজের প্রোডাশন হাউজ গাঁও প্রোডাকশন শুরু করেন ২০০৪-এ। এ পর্যন্ত ৮০টি বিজ্ঞাপন বানিয়ে ফেলেছেন। খুব শিগগিরই তার সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যখন তার বয়স এক বছর তখনই বাবা-মায়ের সাথে আরব আমিরাত পারি জমান। তারপর ইউএসএ এবং ইন্ডিয়াতে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা তাকে স্বাধীনতা দিয়েছেন নিজের জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। বর্তমানে বিবাহিত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। এই পেশা নিয়ে নিজের তৃপ্তির কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত এডিটিংটা মন থেকে আসে। যে পেশায় মন থেকে জড়িয়ে যাওয়া যায় সে পেশার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! এবং আমি বরাবরই নিজেকে এ পেশার সাথে যুক্ত করতে পেরে খুশি।’ বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিনেমা একটা দেশে সম্পদ যা বহন করে আমাদের চিন্তা, আমাদের গল্প, সংস্কৃতি। দেশের জন্য অনেক বেশি উপযোগী। আর এডিটিং হচ্ছে সিনেমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সিনেমা তো মানুষের জন্য, মানুষের সুখ-দুঃখের গল্পগুলো নিয়ে, সমাজের সুস্থতা ক্ষেত্রে সিনেমা রাখতে পারে অনন্য অবদান। সব শেষে তার স্বপ্ন বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরেই। এই ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে নিজের দেশকে পৌঁছে দেওয়া। তিনি স্বপ্ন দেখেন সকল সিনেমাপ্রেমীদের স্বপ্নগুলো একে একে পূর্ণতা পাবে। তিনি বিশ্বাস করেন ভবিষ্যতে তিনি একটি ভালো চলচ্চিত্রে পরিবেশ গড়ে দিতে পারবেন। সামির আহমেদ ডাকনাম :সামির জন্ম তারিখ ও স্থান :২২ মে, ঢাকা। মায়ের নাম :মেহজাবিন আহমেদ (শিউলি) বাবার নাম :আহমেদ ইসমাত (ইসমি) প্রথম স্কুল :ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব চাউইফাত, আবুদাবি প্রিয় মানুষ :ঋত্বিক ঘটক প্রিয় পোশাক :ক্যাজুয়াল প্যান্ট, স্যান্ডেল। অবসর কাটে যেভাবে :ছেলেমেয়েদের সময় দিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :Success is when people around you are happy. === মা হ মু দ হা সা ন কা য়ে শ চিফ ভিডিও এডিটর এটিএন নিউজ লি. তিনি মূলত একজন মঞ্চকর্মী ছিলেন। যখন হাইস্কুলে পড়েন তখন থেকেই থিয়েটারের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তবে ছোটবেলা থেকেই তার খুব স্বপ্ন ছিল অভিনয় করবেন। ১৯৯৮ সালের দিকে ঢাকায় আসেন মঞ্চ নাটকে কাজ করবেন বলে। ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীতে অভিনয় বিষয়ক কোর্সও করেন। থিয়েটার নিয়ে দেশের বাইরে পড়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু হয়ে উঠেনি। এরপর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট থেকে ফিল্মে মাস্টার্স করেন। মাস্টার্সে পড়ার সময়ই তিনি গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে ভিডিও ক্যামেরায় আর ইটিভিতে ভিডিও এডিটিংয়ের কোর্স করেন। মূলত ২০০৪ সাল থেকে পুরোপুরি ভিজ্যুয়াল নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এখন সেই মাহমুদ হাসান কায়েশ কাজ করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদভিত্তিক চ্যানেলে। বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউজে বসে বসেও অনেকের কাজ দেখতেন। এরপর চ্যানেল ওয়ান আসে। সেখানেই মূলত ২০০৫ সালে ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাঝে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর যোগ দেন এটিএন নিউজে। কায়েশ মনে করেন সম্পাদনা একরকম উপস্থাপনা। সেই উপস্থাপনায় গল্প থাকতেও পারে আবার নাও পারে। তবে উপস্থাপনাটা হতে হবে যুক্তিসঙ্গত ও অর্থবোধক। তাই একজন সম্পাদকের নানা বিষয়ে জ্ঞান রাখা দরকার। ভিডিও সম্পাদনার কাজটি শেষ হলে তাকে সাউন্ড সম্পাদনার কাজটিও করতে হয়। কাজেই সাউন্ড সম্পর্কেও তাকে জানতে ও বুঝতে হয়। এরপর মিউজিক ও গ্রাফিক্স কাজ শেষ করে ফাইনাল আউটপুটের মধ্য দিয়ে তা টেলিভিশনে বা বাজারে ডিভিডি আকারে ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হয়। কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? উত্তরে কায়েশ বলেন, ‘অনেক ভালো লাগে। কেননা প্রতিনিয়ত একটা সৃষ্টিশীল কাজে জড়িত আছি বলে মনে হয়। আর আমার কাজের কারণেই একজন দর্শকের মনে কখনও দুঃখ, কখনও ভয়, কখনও হাসি, কখনওবা আনন্দের অনুভূতি জন্ম হয়; ঠিক যেমনটা হয় অন্য শিল্পের ক্ষেত্রে।’ প্রজন্মের এই ভিডিও এডিটরের ধারণা, পেশা হিসেবে এখনও এ দেশে ততটা সম্মানজনক হয়ে ওঠেনি ভিডিও এডিটিং। তবে সময় লাগলেও এ পেশা একদিন নিজের যথাযথ সম্মান আদায় করে নিবে। কেননা কেউ কখনও ভাবতেই পারে না বা মেনে নেয় না যে একটা নাটক, সিনেমা বা কোনো টিভি রিপোর্টের পিছনে পরিচালক বা রিপোর্টারের যেমন অবদান, তেমনি একজন সম্পাদকেরও তাতে সমান অবদান থাকে। অথচ একজন সম্পাদকই পারে পুরো কাজটাকে সর্বোচ্চ সফলতায় নিতে। নতুনদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, কেউই এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চায় না। আবার অল্পতেই অনেক কিছু পেতে চায়। এটা কাটিয়ে ওঠা দরকার। কাজটাকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। ধৈর্যশীল হতে হবে। কেননা ভিডিও এডিটিংও একটা সৃষ্টিশীল কাজ। নিজেদের পড়াশোনা ও দেখার চোখটাকে ভালো করতে হবে। কেননা ভালো সৃষ্টির শেষ বলে কিছু নেই। আর একটা বিষয় নিজেকে সব সময় টেকনোলজির সাথে আপডেট রাখতে হবে। অন্যথায় নিজেকে সনাতন হয়েই থাকতে হবে। তার পুরো শৈশব ও কৈশোর গ্রামেই কেটেছে। সব সময় খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তবে এর জন্য অনেক বকুনিও খেয়েছেন। পরিবারে কায়েশ বড় ছেলে, তার এক ছোট ভাই ও দুই বোন। মা গৃহিণী আর বাবা লেখালেখি ও সমাজসেবায় ব্যস্ত। একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়া এবং পাশাপাশি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন তার। সময়টাকেই কাজে লাগিয়ে নিজের মেধার সঠিক প্রয়োগেই সাফল্য নিশ্চিত করতে চান প্রজন্মের এই মেধাবী ভিডিও এডিটর। মাহমুদ হাসান কায়েশ ডাকনাম :কায়েশ জন্মতারিখ ও স্থান :১৯৭৮, খোলাহাটী, গাইবান্ধা মায়ের নাম :মোছা. ফিরোজা বেগম বাবার নাম :মো. কামরুল হাসান প্রথম স্কুল :খোলাহাটী প্রাইমারি স্কুল, খোলাহাটী, গাইবান্ধা। প্রিয় মানুষ :মা-বাবা। প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট। অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মঞ্চ নাটক দেখে, সিনেমা দেখে, শিক্ষকতা ও লেখালেখি করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :যে কাজেই হোক না কেন তাতে একাগ্রচিত্তে লেগে থাকা। === তু হি ন রে জা ভিডিও এডিটর, ইটিভি ছোটবেলা থেকেই তার মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছে ছিল। ২০০৮ সাল থেকে তিনি এডিটিংয়ের কাজ শেখা শুরু করেন। কাজ শিখতে থাকা অবস্থায় ওই বছর থেকেই তিনি নাটকের এডিটিংয়ের কাজ শুরু করেন। তার কাজ করা প্রথম নাটক ছিল ‘রুমালী’, যেটি পরিচালনা করেছেন অরুণ চৌধুরী। এটি এনটিভিতে প্রচারিত হয় এবং বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নাটকের এটিডিং করতে থাকেন। এখন পর্যন্ত ১৫০টির মতো নাটকের এডিটিং করেছেন তিনি। বলছিলাম প্রজন্মের মেধাবী ভিডিও এডিটর তুহিন রেজা সম্পর্কে। বর্তমানে তিনি একুশে টেলিভিশনে ভিডিও এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন। তুহিন রেজার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঝিনাইদহ জেলায়। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে পরিবারের সকলের ছোট তুহিনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার কাজ সম্পর্কে, উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার কাজ করা প্রথম নাটক ছিল পরিচালক অরুণ চৌধুরীর ‘রুমালী’। এটি এনটিভিতে প্রচারিত হয় এবং বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকে আমি নিয়মিতভাবে নাটকের এটিডিং করতে থাকি। এখন পর্যন্ত ১৫০টির মতো নাটকের এডিটিং করেছি।’ আর নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলার স্বপ্নই ছিল এই পেশায় কাজ করা। আমার সেই স্বপ্নের পেশায় আমি বর্তমান কাজ করছি এবং এর থেকে অর্থ উপার্জন করে জীবন ধারণ করছি। আমি ভিডিও এডিটর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় নিজে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা উপযোগী? উত্তরে তুহিন বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন নতুন টিভি চ্যানেল বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পেশায় জনবলের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে ভিডিও এডিটরদের ভবিষ্যত্ অনেক ভালো।’ আর নতুনদের কাজ নিয়ে মূল্যায়নে তিনি বলেন, ‘নতুন যারা এই কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে তারা একটি কোর্স করেই ভালোভাবে কাজ না শিখেই এই পেশায় যোগ দিচ্ছে। মেধাবী ও সৃজনশীল ভিডিও এডিটরের সংখ্যা কম নয়। তারা যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে। ভিডিও এডিটরদের প্রডিউসারদের সেন্স বুঝে কাজ করতে পারাটা দরকার। ভিডিও এডিটর এবং প্রডিউসার যখন সম্মিলিতভাবে গুছিয়ে কাজ করবেন তখনই ভালো অনুষ্ঠান তৈরি হবে। ভালোভাবে কাজ শিখে এই পেশায় এলে খুবই ভালো করবেন তারা। নতুনদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে তারা যেন আন্তরিকতার সাথে এই কাজটি শেখেন এবং বেশি বেশি করে মুভি দেখেন।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন, অ্যানিমেশনের উপর কাজ শেখা এবং বাংলাদেশে এডিটিং এবং অ্যানিমেশনের ওপর একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। তু হি ন রে জা ডাকনাম :রেজা জন্মতারিখ :১৪ ফেব্রুয়ারি মায়ের নাম :জহুরা বাবার নাম :মরহুম শামসুদ্দিন প্রথম স্কুল :লাউদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :সক্রেটিস প্রিয় উক্তি :অন্যায় করে লজ্জিত না হওয়াটা আরেক অন্যায়। প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ফিল্ম দেখে সাফল্যের সংজ্ঞা :অধ্যবসায়।