প্রস্তুতি ছাড়াই জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

ঠিক যেন সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের পরিস্থিতি। সফরে গিয়ে চরম ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেয়ার জন্য কোনো অনুশীলন ম্যাচ নেই। এমনকি দেশে বসেও সেবার বাংলাদেশ দল একসাথে অনুশীলন করতে পারেনি বৃষ্টির বাধায়। এবার বাকি সব একইরকম। শুধু বৃষ্টির বদলে হরতাল। এবারও তাই একরকম অনুশীলন ছাড়াই জিম্বাবুয়ে পাড়ি দিচ্ছে বাংলাদেশ দল। টানা তিনদিন হরতালের কারণে বাংলাদেশ দলের নির্ধারিত অনুশীলন বাতিল হয়ে গেছে। আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার কথা থাকলেও দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ অনুশীলনের ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেনি। তবে জানা গেছে, হরতালের কারণে জাতীয় দলের অনুশীলন বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ দল আগামী ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জিম্বাবুয়ের হারারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। জাতীয় দলের অনুশীলন না হলেও বসে নেই পেসাররা। শ্রীলংকা থেকে আসার পর থেকেই একাডেমির কোচ স্টুয়ার্ট ম্যাকেন্সির অধীনে পাঁচ পেসার অনুশীলন করে যাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কায় পেসাররা ভালো না করার কারণেই একাডেমির কোচের কাছে তালিম নিচ্ছেন পেসাররা। কাল অনুশীলনে এদের সাথে যোগ দিয়েছেন শফিউল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন রাজিব, মোহাম্মদ আশরাফুল ও তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে মাত্র এক সপ্তাহ অনুশীলনে পেসারদের আমূল পরিবর্তন না হলেও এটা উপকারে আসবে বলেই কোনো কোনো পেসারের অভিমত। কাল অনুশীলন শেষে রবিউল ইসলাম শিপলুর ব্যাখ্যা হলো এরকম, ‘খুব বেশি পরিবর্তন হবে না এটা ঠিক। তবে আমরা এখন নিজেদের লাইন-লেন্থ ঠিক করার কাজটি করছি। যদিও শ্রীলঙ্কায় ছিল প্রচুর গরম। অথচ হারারে ঠিক উল্টো চিত্র। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা সেখানে। তাই লাইন-লেন্থ ছাড়া বোলিং নিয়ে অন্য কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না’। তাহলে শ্রীলঙ্কায় গরমের কারণেই কি পেসারদের এই হাল? প্রশ্নটি শুনে সাথে সাথে মাথা নাড়লেন শিপলু, ‘আসলে সেরকম কিছু নয়। আমাদের সব পরিবেশের সাথেই মানিয়ে নিতে হবে। আমরা হারারে যাচ্ছি, সেখানে এখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তবে সেখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে আমরা এক সপ্তাহ সময় পাব। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নেয়া সম্ভব’। শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন শাহাদাত। শ্রীলঙ্কা সফরে তার বোলিং নিয়েই বেশি সমালোচনা হয়েছে। কাল অনুশীলন শেষে শাহাদাত বললেন, ‘আমি আসলে চেষ্টা করবো নিজের সেরাটা দিতে’। কিন্তু নির্বাচকদের ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলটি জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে একদিনও অনুশীলন করবে না এটা দলের জন্য কতটা ভালো হবে? দলের ম্যানেজার সাদ অবশ্য এটাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইলেন না, ‘অনুশীলন করতে পারলে ভালো হতো। তবে ওখানে গিয়ে আমরা এক সপ্তাহ সময় পাব। ওই সময়টা অনুশীলন করলেই চলবে’। শ্রীলঙ্কা সফর শেষে সেখান থেকে দেশে উড়ে গেছেন জাতীয় দলের কোচ শেন জার্গুনসেন ও ফিল্ডিং কোচ কোরি রিচার্ডস। গতকাল সন্ধ্যায় এই দুই কোচ ঢাকায় এসেছেন। হরতালের কারণে অনুশীলন হবে কিনা আজ তার সাথে আলোচনা করে জাতীয় দলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে টিম ম্যানেজমেন্ট- জানান দলের ম্যানেজার।