ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বাসভবনে ভাস্কর্যের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের হীরক জয়ন্তী এবং কমনওয়েলথ প্রধান হিসেবে ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বাসভবনে ‘মাদার’ (মা) শীর্ষক এক ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন বলেন, এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে কমনওয়েলথ প্রধান হিসেবে রানির মাতৃ রূপের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বোন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের হাই কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্ট ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রানির ‘ডায়মন্ড জুবিলি’র বিষয়টিতে আমার মনে হয়েছিল কিভাবে আমার মা প্রায়ই আমার সামনে বসে থাকতেন।’ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, গত ৬০ বছর ধরে ব্রিটেনের রানি ও কমনওয়েলথ প্রধান হিসেবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করছেন এ ভাস্কর্যটি সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেবে। শেখ হাসিনা বলেন যে, কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে সংস্থার প্রধান হিসেবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের অধিবাসীদের হূদয়ে বছরের পর বছর ধরে তাদের এই মহামান্য রানির প্রতি মমতা রয়েছে। জলবিদ্যুত্ উত্পাদনে নরওয়ের সহায়তা কমনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরওয়ের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জলবিদ্যুত্ উত্পাদনে সে দেশের আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রবিবার তার কার্যালয়ে সফররত নরওয়ের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী টোর্ন্ড জিস্কের সাক্ষাত্কালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ আজ এ কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, উপকূলীয় এলাকা থেকে ভাসমান উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন এবং স্বল্প স্রোতের নদী থেকে জলবিদ্যুত্ উন্নয়নে নরওয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরো তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য, চা, ওষুধ, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি ও বাইসাইকেল আমদানির আহ্বান জানান। নরওয়ের মন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তার দেশের অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।