ফ্যাশন

বৈশাখী আব্রু

বৈশাখ এখন বাঙালির সবচেয়ে বড় উত্সবের পট। আর তাই এই উত্সবকে সামনে রেখে দেশের প্রত্যেক ফ্যাশন কারিগর এঁকে চলেন নিত্যনতুন রঙের খেলা। বসনে নানা রঙের এই আঁকিবুঁকি প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল। এক সময়ের লাল-সাদার সমন্বয়ে এখন যোগ হয়েছে বাহারি হরেক রঙ। দেশের নামকরা সব ফ্যাশন হাউসগুলোর বৈশাখ আয়োজনে চোখ বুলিয়ে নিন কড়চার এই অংশে— ফ্যাশন মেকার বৈশাখের উপলক্ষে ফ্যাশনমেকার তাদের অগনিত ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ রেখে যে নতুন পোশাকটি মার্কেটে ছেড়েছে তার নাম ‘হিমছড়ি’। এটা মসলিন কাপড় দিয়ে তৈরি হয়েছে। বডিতে সম্পূর্ণ প্রিন্টের সেলাই। নিচে দারজদির কাজ করা। থ্রি-পিসটি ফুল হাতার। হাতাটি পিওর সিফনের। আর এর সালোয়ার টপেটো কাপড় দিয়ে তৈরি। আবর্তন আবর্তন বৈশাখ উপলক্ষে গাঢ় হলুদ, লাল, সবুজ, কমলা ও কলাপাতা সবুজ বা এক রঙা কাপড় দিয়ে তৈরি করেছে হ্যান্ডলুমের পাঞ্জাবি। তরুণীদের জন্য বৈশাখে রাখা হয়েছে সিফন বা মসলিনসহ কটনে তৈরি শাড়ি। যাতে থাকছে অ্যাপ্লিক, ব্লক ও হাতের কাজ। এ ছাড়াও থাকছে তরুণ-তরুণী বা দম্পতিদের জন্য যুগলবন্দি পোশাক যা তরুণ প্রজন্মের এই বিশেষ দিনটিকে আরও ফ্যাশনেবল করে তুলবে। পাইপিং, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিকের ভেরিয়েশন থাকছে দেশি উপাদানে তৈরি সালোয়ার কামিজে। এড্রয়েট বাংলা নবর্বষকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের মতো এবারও এড্রয়েট ঢাকা ও ঢাকার বাইরের শোরুমগুলো সাজিয়েছে উত্সবধর্মী পোশাক দিয়ে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের পোশাকেও নিয়ে আসা হয়েছে বৈশাখের বিভিন্ন চিত্র। বৈশাখ উপলক্ষে এড্রয়েট নিয়ে এসেছে নানা ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টি-শার্ট, শার্ট প্রভৃতি। পোশাকে বাংলার বিভিন্ন চিত্রে মোটিভ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এবারের ডিজাইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লোকশিল্প, যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন কাজের সমন্বয়ে পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে সেই সব লোকশিল্পকে। ব্লক, অ্যাপ্লিক, এমব্রয়ডারি, স্প্রে, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ, কারচুপি বা কয়েকটি মাধ্যমকে একসাথে ব্যবহার করা হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে প্রাধন্য দেওয়া হয়েছে বৈশাখী ট্র্যাডিশনাল লাল ও সাদাকে। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে হলুদ, সবুজ, নীল আকাশি, কমলা, গোল্ডেন কালো, অফ হোয়াইট প্রভৃতি। অঞ্জন’স প্রতিবছরের মতো এবারও ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জন’স বৈশাখী পোশাকের বিশাল আয়োজন করেছে। তাম্র ও রৌপ্য দিয়ে তৈরি গৃহসজ্জা-ব্যবহারিক সামগ্রী এবং গহনার ডিজাইনে ব্যবহূত মোটিভের অনুপ্রেরণায় এবারের বৈশাখী পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, শিশু-কিশোরদের পোশাক ও গয়না থাকছে এবারের আয়োজনে। পরিবারের সবার জন্য ফ্যাশন ধারণা থেকে একই রকম ডিজাইনে থাকছে বিভিন্ন বয়সীদের পোশাক। কটন, লিনেন কটন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন কাপড়ে এবারও ডিজাইনে প্রাধান্য পেয়েছে লাল ও সাদা রং। পাশাপাশি কোড়া, বাদামি, হলুদ, কমলা, বেগুনীসহ বিভিন্ন রং ব্যবহূত হয়েছে। পোশাকের ক্যানভাসে বৈচিত্র্য আনতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি করা হয়েছে। কাটিংয়েও থাকছে স্বাতন্ত্র্য। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল ও হ্যান্ডিক্রাফটসও পাওয়া যাবে অঞ্জন’স-এর সব শাখায়। আরশিনগর বাংলা নববর্ষ ১৪২০-কে বরণ করার জন্য ফ্যাশন হাউস আরশিনগর নতুন রূপে সাজিয়েছে। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে নতুন নতুন ডিজাইনে আরশীনগরের বাহারি কালেকশনে রয়েছে পাঞ্জামি, শাড়ি, ফতুয়া, সেলোয়ার কামিজসহ বাচ্চাদের নানারকম ডিজাইনের পোশাক রয়েছে। বার্ডস আই বাঙালির প্রাণের উত্সব বৈশাখ উপলক্ষে দেশীয় ডিজাইনে সেরা ফ্যাশন হাউস বার্ডস আই এনেছে শত শত ডিজাইনের নতুন পোশাক। এসব পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে দেশীয় সংস্কৃতির আবহ আর পহেলা বৈশাখের আমেজ। শত শত নতুন ডিজাইনের এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে টি-শার্ট, পলো শার্ট, ফতুয়া ও শর্ট পাঞ্জাবি। নিজস্ব ডিজাইনারদের নকশায় তৈরি এসব পোশাক পাইকারি ও খুচরা পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে বার্ডস আইয়ের দুটি শো-রুমে। আকর্ষণীয় এসব পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে গরম উপযোগী আরামদায়ক কাপড়। বার্ডস আইয়ের শো-রুমে সব ধরনের পোশাক সারাদেশে পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয়। কে ক্র্যাফ্ট কে ক্র্যাফ্ট নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ক্রেতাগোষ্ঠীর সামনে উপস্থাপন করেছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপ্স, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, অরনামেন্টস, গিফ্টস ও গৃহসজ্জা সামগ্রী নিয়ে বৈশাখী আয়োজন। রং হিসেবে প্রধানত ব্যবহার হয়েছে লাল, মেরুন, অরেঞ্জ, সাদা, অফহোয়াইট, ম্যাজেন্টাসহ নানা রং। এ দেশের ট্র্যাডিশনাল ফোক মোটিভের নিরীক্ষাধর্মী নাগরিক ব্যবহার হয়েছে পোশাক ও অনুষঙ্গে। নিজস্ব ডিজাইনে বোনা তাঁতের শাড়িতে থাকছে বুননরীতি, মোটিভের ব্যবহার উপস্থাপনা, কালার বিন্যাস, ভ্যালু অডিশনে নানা মিডিয়ার ব্যবহার এ নিপুণতা। নরসিংদী তাঁতে বয়নকৃত সুতি টুটন স্ট্রাইপ, টুইল, গুড়িচেক, নাচনাকাঠি, কাঁথা, ডবি ও জ্যাকার্ড স্টাইলে ডিজাইন করা নিজস্ব উইভিং ডিজাইনের কাপড় এবং ইয়ার্ন ডায়েড ও ন্যাচারাল এন্ডি ও জয়সিল্কের কম্বিনেশনে সালোয়ার কামিজের বৈশাখী আয়োজন থাকছে। কে ক্র্যাফটের বৈশাখী আয়োজনে উপস্থাপিত ফতুয়া ও টপস এ দেখা যাবে কাটের বৈচিত্র্য, ফেব্রিক্সে নিজস্ব উইভিং ডিজাউইন, প্লেন অ্যান্ড সিম্পলের পাশাপাশি কাটিংয়ে স্মার্ট লুক। শিশুদের জন্য এই নববর্ষে কে ক্র্যাফট করেছে বিশেষ আয়োজন। ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য থাকছে প্রায় ২৫টি নতুন ডিজাইনের পোশাক। নববর্ষে পাঞ্জাবির ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কে ক্র্যাফট। কাট, ফিনিসিং এক্সেসরিজের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়ে পাঞ্জাবির ডিজাইন করা হয়েছে। ইজি বৈশাখী ফ্যাশন হাওয়ায় ইজি এনেছে বৈশাখ উপযোগী নতুন পোশাক। এবারের আয়োজন হিসেবে রয়েছে টি-শার্ট, পলো টি-শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবিসহ রকমারী পোশাকের সম্ভার। ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে পোশাক তৈরি করে থাকে ইজি। তরুণদের পোশাককে ফ্যাশনেবল করার জন্য আকর্ষণীয় নতুন ডিজাইন ও বাহারি রং নিয়ে কাজ করে ইজি। ফড়িং বছর ঘুরে আবার আসছে বাঙালির চিরন্তন সার্বজনীন পার্বণ বাংলা নবর্বষ। এই দিনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই মেতে উঠেন প্রাণের মেলায়। বাড়ি বাড়ি থাকে পান্তা ও হরেক রকমের ভর্তার আয়োজন। নবর্বষকে কেন্দ্র করে ফ্যাশন হাউজগুলোতেও থাকে ব্যাপক আয়োজন। তাঁতের পোশাকে বিভিন্নচিত্র ছাড়াও রঙের খেলায় ফুটিয়ে তোলা হয় বৈশাখের বিভিন্ন চিত্র। বিশেষ দিনকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউজ ফড়িং তাদের ডিজাইন ও কাটিংয়ে এনেছে নতুনত্ব। দিবস উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে প্রতিটি পোশাক। বৈশাখকে সামনে রেখে ফড়িং তাদের শোরুমগুলো সাজিয়েছে উত্সবধর্মী পোশাক দিয়ে। জেন্টাল পার্ক বাঙালির বর্ষ শুরুর উত্সব কদিন বাদেই। উত্সবের রঙে নিজেকে সাজাতে ট্রেন্ডি পাঞ্জাবি এনেছে জেন্টাল পার্ক। নকশাকারদের ডিজাইনকৃত মোটিভকে গ্রাফিক্স দিয়ে অলঙ্কারিক করে পোশাকে আনা হয়েছে ভিন্নতা। আটসাঁট কাটিং বৈশিষ্ট্যের শর্ট পাঞ্জাবি আর লং পাঞ্জাবিতে থাকছে এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট বা অ্যাপ্লিকের কাজ। ফেব্রিক ভেরিয়েশনের কারণে গরমেও পাওয়া যাবে বিশেষ আরাম। ঢাকা, সিলেট, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সকল শোরুমে থাকছে বৈশাখের যাবতীয় নতুন ফ্যাশন আউটলাইন। লেডি এই বৈশাখে লেডি এনেছে নতুন ২৫টি ডিজাইনের বৈশাখ উপযোগি থ্রি-পিস। সম্পূর্ণ দেশীয় কাপড়ে তৈরি এ সব থ্রি-পিসে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে লাল-সাদা রং। প্রতিটি থ্রি-পিসে করা হয়েছে হাতের কাজ, স্কিন প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি ও কারচুপির কাজ। তবে লেডির বৈশাখী থ্রি-পিসগুলো সব ঋতুর উপযোগী করে তৈরি। এ ছাড়া লেডির প্রতিটি পোশাক করা হয় পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজে। এম ক্রাফট বৈশাখী আয়োজনে এম ক্রাফট এনেছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট এবং ছোটদের পোশাক। টাঙ্গাইল তাঁত, কোটা, এন্ডি কটন, কটন, সিল্ক, মসলিন, জয়সিল্ক ও ভয়েলের কাপড়ে ব্লক, মেমিন এমব্রয়ডারি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, কারচুপি আর লেসওয়ার্কের কাজ করা হয়েছে। প্রাধান্য পেয়েছে পহেলা বৈশাখের চিরায়ত রং লাল, সাদা ও মেরুন। পাওয়া যাচ্ছে বেইলী রোড, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা ও চট্টগ্রামের সবগুলো শো-রুমে। মেনজ ক্লাব পুরোনো বনেদী মোটিভের পাশাপাশি প্রচলিত সমকালীন তারুণ্যের পছন্দনীয় ডিজাইন নিয়ে এবারের বৈশাখের থিম নির্বাচন করেছে মেনজ ক্লাব। বৈশাখের পাঞ্জাবিতে থাকছে সূক্ষ্ম নকশা আর সূচি কর্মের সম্মিলিত ক্যানভাস। রঙের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত রঙের খেলা রয়েছে লাল-সাদার পাশাপাশি। ক্যাজুয়াল বা ফরমাল অন্যান্য আউটফিটের পাশাপাশি, সেমি ফিট বৈশাখের এই পাঞ্জাবিগুলো পাওয়া যাবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের সকল শোরুমে। লাল সাদা নীল হলুদ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে লাল সাদা নীল হলুদ বাজারে এনেছে তাদের নতুন আয়োজন। শাড়ি, পাঞ্জাবি, ছেলেমেয়েদের ফতুয়া ও শিশুদের পোশাক রয়েছে এই আয়োজনে। লাল-সাদাসহ বৈশাখের সব উজ্জল রঙই রয়েছে লাল সাদা নীল হলুদে’র পোশাকে। বাসন্তী বৈশাখ মানে আনন্দ, বৈশাখ মানে বাঙালির প্রাণের উত্সব। এই উত্সবকে ঘিরে থাকে নানান আয়োজন। অন্যসব আয়োজনের পাশাপাশি এই প্রাণের উত্সবে চাই নতুন পোশাক। সেটা যেকোনো বয়সেরই হোক না কেন। তাই এই উত্সবকে ঘিরে বাসন্তীর আয়োজনও বরাবরের মতো ব্যতিক্রম। শুধু লাল-সাদা নয় এর পাশাপাশি বসন্তী এবারের বৈশাখে ব্যবহার করেছে কালো, নীল, সবুজ ইত্যাদি রং। বাসন্তী বৈশাখ উপলক্ষে বেশকিছু নতুন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও ছেলেদেরে শর্ট পাঞ্জাবি ও ফতুয়া এনেছে। এ ছাড়া রয়েছে বৈশাখী শাড়ি। ওজি বৈশাখকে ঘিরে ফ্যাশন হাউস ওজি সেজেছে লাল-সাদায়। কালো, কমলা এবং আরও কিছু উজ্জল রং ব্যবহার হলেও ওজির এবারের পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে লাল-সাদা রং। বৈশাখের এই আয়োজনে থাকছে শাড়ি, টপস, সালোয়ার-কামিজ, ছেলে-মেয়েদের ফতুয়া, পাঞ্জাবি এবং বাচ্চাদের পোশাক। সুতি কাপড়ের পোশাকগুলোতে করা হয়েছে ব্লক, স্ক্রিন ও এমব্রয়ডারির কাজ। আড়ং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উত্সব পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আড়ং সাজিয়েছে বৈচিত্র্যময় পণ্য সম্ভার। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবিসহ সব পোশাকেই থাকছে বৈশাখের আমেজ ও নতুনত্ব। সব বয়সী নারীদের জন্য এবার আড়ংয়ে আছে লাল ও সাদার সাথে উজ্জ্বল নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা ও মেজেন্টা রং বৈচিত্র্যের সালোয়ার-কামিজ। বৈশাখের শাড়িতে আড়ং এনেছে জোড়া শাড়ির নতুনত্ব। মসলিন-এন্ডি কাপড়ের জোড়া শাড়িতে থাকছে ফ্লোরাল থিমের রঙিন ছোঁয়া। ন্যাচারাল ডাইয়ের সিল্ক শাড়িতে ব্রাশ প্রিন্টের ছোপ এনেছে শৈল্পিক ভাষা। এ ছাড়াও থাকছে অতুলনীয় ইরি কাটের বাহারি ঐতিহ্যময় জামদানি। বৈশাখের উত্সব আমেজেকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে আড়ং এনেছে দেশীয় জামদানি বুননের সুতি এবং হ্যান্ড লুমের বাহারি পাঞ্জাবি। আড়ংয়ের বৈশাখ আয়োজনে পোশাক ছাড়াও পাবেন স্টাইলিশ ম্যাচিং ক্লাচ ব্যাগ এবং জুট ও লেদারের হ্যান্ড ব্যাগ, ফ্যাশন জুয়েলারি ও স্যান্ডেল। ভিসা পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বড় উত্সব। সবাই চাই নতুন সাজ, নতুন পোশাক। তাই বৈশাখকে সামনে রেখে সব ধরনের নতুন ডিজাইন ও পোশাক নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউস ভিসা। বিশেষ আয়োজন হিসেবে রয়েছে টি-শার্ট, পাঞ্জাবি এ ছাড়া নিয়মিত আয়োজন শার্ট, পলো টি-শার্ট ইত্যাদি। বাংলার মেলা বৈশাখে বাংলার মেলার বিশেষ আকর্ষন শাড়ি। শাড়িতে লাল সাদার প্রাধান্য থাকলেও কমলা, হলুদ, ব্লু, ব্রাউন, জলপাই এসব রঙও ব্যবহার করা হয়েছে। মসলিন, হাফসিল্ক, কটন, এন্ডি খাদি মিক্সড বুননের শাড়ি ছাড়াও নানা ডিজাইনে নকশী পাড়ে টাঙ্গাইল শাড়ির আঁচলে থাকছে নানা রঙের মিশ্রণ, পিঠা, লোকজ, ফ্লোরাল, জ্যামিতিক নকশায় ব্লক, সেপ্র, স্ক্রিন প্রিন্ট, বাটিক, হ্যান্ড পেইন্ট টাইডাইতে ভ্যালুঅ্যাডে করা হয়েছে বৈশাখের শাড়িতে। সালোয়ার-কামিজের লম্বা ঝুলের পাশাপাশি খাটো ঝুলও রাখা হয়েছে বৈশাখের কালেকশনে। থাকছে নানা প্যাটার্নে কুর্তি। পুরুষদের আয়োজনে শর্ট ও মিড লেংথ পাঞ্জাবি থাকছে নানা ডিজাইনে আর ভিন্ন ভিন্ন নেকলাইনে উজ্জ্বল ও সফট সব রঙে শার্ট, ফতুয়া পাওয়া যাবে সব বয়সীদের জন্য। একই নকশায় বাচ্চাদের জন্যও থাকছে বৈশাখী ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক। বৈশাখে পোশাকের সাথে থাকছে ম্যাচিং জুয়েলারি ও নন টেক্সটাইল প্রডাক্ট। রঙ বাঙালির জীবনযাপনে যন্ত্রবিহীন কারুপণ্যের উত্পাদনে, কৌশলগত বুদ্ধিমত্তায় হাতে তৈরি অনেক বৈচিত্র্যময় ব্যবহার্য সামগ্রীর উদ্ভব হয়েছিল যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সুখময় ও আনন্দময় করে রেখেছে আজও। লোকজশিল্পের ভুবনে ‘হাতপাখা’ স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বলিয়ান এক অনন্য শিল্পকর্ম। বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী হাতপাখার অলংকরণের বৈশিষ্ট্যকে চিহ্নিত করে, এর অনুপ্রেরণায় এবারের বাংলা নববর্ষে সাজানো হয়েছে ‘বৈশাখের রঙ’ শীর্ষক পোশাকের বর্ণিল সম্ভার। স্টুডিও এমদাদ বৈশাখে স্টুডিও এমদাদের আয়োজনে থাকছে, টাঙ্গাইলে ব্লক, হাফ সিল্কে ব্লক, স্কিন পিন্ট, হ্যান্ড পেইন্ট ও টাইডাই সুতি শাড়ি। হ্যান্ড পেইন্ট করেছেন শিল্পী মাসুদা কাজী। এবার স্টুডিও এমদাদের মূলভাব হলো দেশীয় লোকজ পিঠা ও সন্দেশ মোটিভ। পহেলা এপ্রিল থেকে ক্রেতাদের জন্য থাকছে বাতাসা ও মুড়ি মুড়কি। কারুপল্লী বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রতিষ্ঠান কারুপল্লী এনেছে বৈশাখের পোশাক। এসব পোশাকের মধ্যে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। বিভিন্ন দেশীয় কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকের রং ও নকশায় উপস্থাপন করা হয়েছে বৈশাখের নান্দনিকতা। ময়ূরী দেশীয় শাড়ির প্রতিষ্ঠান ময়ূরী এই বৈশাখে হাজির হয়েছে সুতি, সিল্ক, মসলিন, জামদানি, কাতান ও বেনারসি শাড়ি নিয়ে। এসব শাড়ির নকশা করা হয়েছে চুমকি, এপ্লিক, সুই-সুতার সেলাই, এমব্রয়ডারিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও হাতের কাজের মাধ্যমে। নিখুঁত বাংলাদেশে বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস নিখুঁত বাংলাদেশে এসেছে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও শিশু ছেলেমেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট ও ফতুয়া। সুই-সুতার নান্দনিক হাতের কাজের মাধ্যমে নকশা করা এসব পোশাক তৈরি করা হয়েছে দেশীয় সুতি কাপড়ে। ফারাহ্’স ক্রিয়েশন বছর ঘুরে চলে এল আবার বাংলার প্রাণের বৈশাখ। প্রতিবারের মতোই এবারও নতুন করে বৈশাখকে রাঙিয়ে তুলেছে ফারাহ্’স ক্রিয়েশন। ফারাহ্’স ক্রিয়েশনের এবারের আয়োজনে থাকছে নানা ধরনের সালোয়ার-কামিজ আর বৈশাখী শাড়ির আয়োজন। বৈশাখী শাড়িতে কোটার উপর ব্লকপ্রিন্টের অ্যাপ্লিকের কাজ করা হয়েছে। মূল্য ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কটনকাপড়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সালোয়ার-কামিজে। শুধু লাল-সাদা নয়, অনেক রঙিন থাকবে ফারাহ্’স ক্রিয়েশনের বৈশাখের কামিজ। মূল্য ১২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে। যোগাযোগ :হাউস-২৫০, রোড-১৯, ধানমন্ডি, মধুবাজার, ঢাকা। ফোন :০১৭১৬৭৫৯৫১৭। লা-রিভ ফ্যাশন হাউস লা-রিভ বৈশাখ উপলক্ষে নিয়ে এসেছে বাহারি রঙের ঋতুভিত্তিক পোশাক। বৈশাখের উত্সবকে রাঙিয়ে দিতে ‘লা-রিভ’ পোশাকে নিয়ে এসেছে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রূপ ও রং। লা রিভের এবারের পহেলা বৈশাখের আয়োজনে লাল-সাদার পাশাপাশি অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের প্রভাব রয়েছে। লা রিভ পহেলা বৈশাখের পোশাকে মোটিভ হিসেবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক রঙকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে লাল-সবুজ, সাদা, গোলাপি ও লেমন গ্রিনের প্রাধান্য। রাংতা বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস রাংতায় এসেছে শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শার্ট এবং পাঞ্জাবি। দেশী তাঁতের কাপড়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও হাতের কাজের মাধ্যমে শাহানাজ খান এসব পোশাকের নকশা করেছেন। শতাব্দী বাঙালির প্রাণের উত্সব বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত নগরীর প্রথম সারির বুটিক শতাব্দী। প্রাণময় সব রং এবং ডিজাইনে মূর্ত পোশাকসমূহ তৈরি হয়েছে বৈশাখের জন্য। ছেলেদের সংগ্রহে রয়েছে প্রধানত বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে তৈরি লাল রঙের পাঞ্জাবি। থাকছে বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি ফতুয়া। এ ছাড়া থাকছে ছোটদের জন্য তৈরি পাঞ্জাবি। ২ থেকে ১২ বছর বয়সের ছোট ছেলেদের পাঞ্জাবির দাম থাকছে হাতের নাগালেই। বৈশাখের উত্সবের জন্য প্রস্তুতকৃত পোশাকের সম্ভার দেখবার জন্য সম্মানিত ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে শতাব্দী। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ধানমণ্ডিতে অবস্থিত প্লাজ এ আর এর আউটলেটে। ডিজাইন রুটস পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস ডিজাইন রুটস্ সকলের জন্য এনেছে নতুন পোশাক-শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ফতুয়া ছেলে ও মেয়েদের পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট হরেক রকমের বৈশাখী চুড়ি, গহনা। এই সকল পোশাকের কাপড় একদম আমাদের দেশাও। এতে কাজ করা হয়েছে বৈশাখী উত্সব উপযোগী। পহেলা এপ্রিল থেকে যা পাওয়া যাবে ডিজাইন রুটয়ের শোরুমে। নবরূপা নবরূপার এবারের শাড়িগুলোতে মেশিন ও হাতের এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, বিভিন্ন ধরনের প্যাচ ওয়ার্ক, অ্যাপ্লিক, মেটানিক সুতা ও কয়েনের ব্যবহার হয়েছে। লাল, সাদা, কোরা, মেরু, কমলা ইত্যাদি রং প্রাধান্য পেয়েছে এবারের বৈশাখী শাড়িতে। সালোয়ার কামিজ এবং কুর্তির ক্ষেত্রে হাল ফ্যাশনের প্যাটার্নকে নবরূপে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রিন্সেস লাইন, লেন্থ, মোটিভ, কম্পোজিমন ও কম্পিনেশনে পরিবর্তনের আভাষ। সববয়সী ছেলেদের জন্য নবরূপ তৈরি করেছে বৈশাখী ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি। তহু’স ক্রিয়েশন্স বাংলার প্রাণের উত্সব পহেলা বৈশাখ। বাংলা বর্ষ বরণ করার জন্য প্রতিবারের মতো এবারেও তহু’স ক্রিয়েশনস লাল সাদার সঙ্গে প্রকৃতির অন্যান্য রং মিলিয়ে তৈরি করেছে বৈশাখী পোশাক।