আবার সেই ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ঠিক যেন দুই বছর আগের ঘটনা চলে এল এবার। বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছে কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই। ২০১১ সালের আগষ্টে বৃষ্টির কারণে দেশে অনুশীলন করার সুযোগ পায়নি জাতীয় দল। সেখানে গিয়েও প্রাকটিস ম্যাচের কোন ব্যবস্থা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলাফল কি হয়েছে সবারই জানা। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ হেরে এসেছে। এবারও একই অবস্থায় আগামীকাল সন্ধ্যায় হারারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছে মুশফিকরা। এবার বৃষ্টি নয়, হরতালের কারণে দেশের মাটিতে অনুশীলন করার সুযোগ হয়নি জাতীয় দলের। এমনকি সেখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতেও নেই কোন প্রাকটিস ম্যাচের ব্যবস্থা। কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া এই সফর নিয়ে যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আত্মবিশ্বাসী। বিসিবির এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে। গতবার বিশাল অংকের টাকার কারণে প্রাকটিস ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু এবারের চিত্রটি একটু ভিন্ন। টাকা নয়, ইচ্ছা করেই কোন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে না বিসিবি। বিশ্লেষকরা বলছেন, একেবারে ভিন্ন কন্ডিশনে প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া এই সফরে খেলতে নেমে যাওয়াটা দলকে ইচ্ছে করে একটা ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে কি না! অবশ্য বিসিবি মনে করছে, মোটেও ঝুঁকি হচ্ছে না। কাল এ প্রসংগে কথা বলতে গিয়ে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ বলেন, ‘আসলে টাকার কোন সমস্যা নয়। দেখা যাচ্ছে তিনদিনের একটি প্রাকটিস ম্যাচ খেলতে গেলে ওরা খারাপ উইকেট দিয়ে দিত। পরে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচটি হত ভালো উইকেটে। বিষয়টি আমাদের জন্যই খারাপ হত। তাই কোন প্রাকটিস ম্যাচ খেলা হচ্ছে না’। গত জিম্বাবুয়ে সফরে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সারির দল না পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাকটিস ম্যাচ খেলার জন্য বিসিবি যোগাযোগ শুরু করে। কিন্তু মোটা অংকের টাকার কারণে সেটা অনেক দেন-দরবার করেও লাভ করতে পারেনি ক্রিকেট বোর্ড। চার বছর পর টেস্ট খেলতে আসা জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট সিরিজ হেরে যায় বাংলাদেশ। একই ঘটনা ফের ঘটবে না বলে জানালেন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান, ‘আমরা ৩০ মার্চ শ্রীলংকা সফর শেষ করেছি। ছেলেরা ক্রিকেট খেলার মধ্যেই আছে। তাই আমার মনে হয়, এটাতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া ছেলেদেরও বিশ্রামের দরকার আছে। আমার মনে হয়, প্রাকটিস ম্যাচ খেলাটা জরুরি নয়’। প্রাকটিস ম্যাচ খেলাটা জরুরি নয়-এই কথার সাথে কিছুতেই একমত হতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ‘জরুরি নয় কথার সাথে আমি একমত নই। প্রাকটিস ম্যাচ খেললে অবশ্যই দলের জন্য ভালো হবে। কারণ সেখানকার আবহাওয়া এখন ঠান্ডা, মানিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকবে’। হারারের উল্টো চিত্র ঢাকায়। সেখানে বাতাসের আদ্রতা বর্তমানে শতকরা ২৪ ভাগ। আর ঢাকায় বাতাসের আদ্রতা শতকরা ৩২ ভাগ। আবহাওয়াও এখন ঢাকার তুলনায় ঠান্ডা। শুধু কন্ডিশনের কারণে জিম্বাবুয়ে এগিয়ে থাকবে তা নয়, প্রস্তুতির দিক থেকেও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে স্বাগতিকরা। সমপ্রতি তারা ওয়েষ্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ শ্রীলংকা সফরে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলে এসেছে। লংগার ভার্সন ক্রিকেটের প্রস্তুতি নেই মুশফিকদের। এর চেয়ে বড় বিস্ময়ের হচ্ছে বাংলাদেশ দলের জিম্বাবুয়ে সফরে আগে ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা ছিল। সূচীও ছিল সেরকম। কিন্তু নিজেদের সুবিধার কথা চিন্তা করে জিম্বাবুয়ে আগে টেস্ট সিরিজ খেলতে চেয়েছে। এ নিয়ে বিসিবির সাথে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের চিঠি চালাচালি হয়েছে বটে, তবে কোন ফলপ্রসূ হয়নি। বরং কূটনৈতিকভাবে হেরে গেছে বিসিবি। এসিসির সভায় যোগ দিতে দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে বিসিবি সিইওকে পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিকভাবে হেরে যাওয়া বিষয়টিকে এভাবে দেখছেন না ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানও, ‘এখানে কূটনৈতিক কোন বিষয় নেই। স্বাগতিক হিসেবে তারা এটি পরিবর্তন করতে পারে। আগে ওয়ানডে খেললে হয়তো আমাদেরই ভালো হত’। কূটনৈতিক নয়, এমনকি টাকার সমস্যাও নয়— ক্রিকেটারদের বিশ্রামের কারণেই প্রাকটিস ম্যাচ খেলছে না বাংলাদেশ। এরকম পরিস্থিতিতে যদি ফের ২০১১-এর ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে দায়টা কার উপর বর্তাবে? প্রশ্নটি শুনে সিরাজ বললেন, ‘দায়-দায়িত্ব কারো উপরই বর্তাবে না। এই সিদ্ধান্ত হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে আলোচনা করেই’। সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান মনে করেন জিম্বাবুয়ের সাথে হারলে বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি হবে, ‘আমাদের সবার আগে জরুরি ভালো ক্রিকেট খেলা। আমরা এখন যে অবস্থানে রয়েছি তাতে জিম্বাবুয়ের সাথে হারা যাবে না। প্রাকটিস ম্যাচ না খেলে সরাসরি মাঠে নামাটা আমি খুব বেশি ঝুঁকি বলবো না, তবুও ম্যাচ হলে ভালো হত’। বাংলাদেশ দল ১০ এপ্রিল ঢাকা ছেড়ে হারারে পৌঁছাবে ১১ এপ্রিল। ১৭ এপ্রিল প্রথম টেস্টের আগে কন্ডিশনের সাথে খাপ খাওয়াতে তারা সময় পাবে মাত্র চারদিন। এই তিন দিনে একেবারে বিপরীত এক পরিবেশে, উইকেটে মানিয়ে নিতে পাঠানোর চ্যালেঞ্জটা ক্রিকেটাররা কিভাবে নেন, সেটাই দেখার বিষয়।