উইন্ডোজ এক্সপি’র আর ১ বছর
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩১
আর মাত্র এক বছরের মধ্যে মাইক্রোসফট তাদের জনপ্রিয়তম অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপির জন্য সব ধরনের টেকনিক্যাল সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে। ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিলের পর থেকে মাইক্রোসফট এক্সপির জন্য কোনো সমর্থন প্রদান করবে না। তাতে এক্সপির আয়ুষ্কাল রয়েছে মাত্র ১ বছর।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত পিসি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এখনও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উইন্ডোজ এক্সপি। ২০০১ সালে প্রথম বাজারে আসে উইন্ডোজ এক্সপি। এর পরে মাইক্রোসফট একে একে বাজারে এনেছে উইন্ডোজের তিন তিনটি সংস্করণ—ভিসতা, উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ৮। এর মধ্যে উইন্ডোজ ৮কে একইসাথে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের পাশাপাশি ট্যাবলেট পিসি এবং স্মার্টফোনের জন্যও ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এটি সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয় সাধারণ মানুষের মাঝে। এর চাইতে আগের সংস্করণ উইন্ডোজ ৭ একটু দেরিতে হলেও জনপ্রিয়তা লাভে সমর্থ হয়। বর্তমানেও বিশ্বের বাজারে শীর্ষে রয়েছে এটিই। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো কেনো অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এক্সপিকে পেরিয়ে যায় উইন্ডোজ ৭। আর এখনও পর্যন্ত বাজারে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে তারা। নেট মার্কেট শেয়ারের গত মার্চ মাসের তথ্যেও দেখা যায়, অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এখনও বিশ্বব্যাপী ৩৮.৭৩ শতাংশ বাজার দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এক্সপি। প্রথম স্থানে থাকা উইন্ডোজ ৭-এর দখলে রয়েছে ৪৪.৭৩ শতাংশ বাজার।
এদিকে উইন্ডোজ এক্সপির জন্য মাইক্রোসফটের সব ধরনের সমর্থন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা বিরূপ ফেলতে যাচ্ছে সকলের মাঝেই। এক হিসাব থেকে দেখা যায়, এখনও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৩ শতাংশ এন্টারপ্রাইজ ডেস্কটপে রয়েছে এক্সপি। আর এসব ডেস্কটপে যেসব সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহূত হয়ে আসছে, তার বড় একটি অংশ পরের সংস্করণগুলোতে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এটিই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। বিভিন্ন গবেষণা জানা যাচ্ছে, এক্সপির অন্তত ১০ শতাংশ অ্যাপ্লিকেশনকে আর ব্যবহার করা যাবে না মাইক্রোসফটের সমর্থন ছাড়া। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখনও এক্সপি বদলে অন্য কোনো ওএস নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। এর মধ্যে আবার ২০ শতাংশ ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিলের পরেও এক্সপি ব্যবহার চালিয়ে যাবে বলেই জানিয়েছে গবেষণা সংস্থাগুলোকে। এই পরিস্থিতিতে মাইক্রোসফট তাদের সমর্থন বন্ধ করে দিলে তা কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তা বয়ে আনবে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য। কাজেই এসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।