তারপরও বাংলাদেশের সঙ্গী আত্মবিশ্বাস

সোনালী প্রজন্মের বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ে কার্যত বাংলাদেশের কাছে ‘দুর্বল দল’ বলেই বিবেচিত হয়ে আসছে সব সময়। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে বাংলাদেশই এখন এগিয়ে থাকা দল। ফলে আরেকটা জিম্বাবুয়ে সফরের আগে এমনিতেই টগবগ করার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশের ‘টগবগ’ করায় বাধা দিচ্ছে জিম্বাবুয়েতে সর্বশেষ সফরের স্মৃতিই। ২০১১ সালের টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে অপ্রত্যাশিত হারের সে স্মৃতি এখনও তরতাজা। তবে দলের ক্রিকেটাররা বলছেন, অতো পেছনে না তাকিয়ে তারা বরং সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সফর, এশিয়া কাপ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই প্রেরণা খুঁজছেন। আর এই দুটি সিরিজ বলছে, বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই উড়ে যেতে পারে হারারেতে। ঠিক এই কথাটাই কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসে বলছিলেন, এই দুই সিরিজের অন্যতম নায়ক নাসির হোসেন। জিম্বাবুয়ে যে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের নাম, সেটা ভালোই বোঝেন নাসির। তাই বললেন, ‘আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। বড় দলগুলোর সাথে হেরে গেলেও তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সাথে হারা চলবে না। আমাদেরকে জিততেই হবে। সর্বশেষ কয়েকটা সিরিজে আমরা যেমন খেলেছি, তাতে আমাদের না জেতারও কোনো কারণ নেই।’ এই বিশ্বাস নিয়েই আজ সন্ধ্যা সাতটা ১০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। একদিন পর হারারে পৌঁছে পরদিন অনুশীলনে নেমে পড়বে মুশফিকরা। লক্ষ্য থাকবে টেস্টের আগে নিজেদের যতোটা সম্ভব তৈরি করে নেয়া। এই তৈরি করে নেয়া নিয়েই আরেকটা খচখচানি রয়ে গেছে দলের মধ্যে। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে যথারীতি কোনো অনুশীলন ম্যাচ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। দেশেও হরতালের কারণে সবাই মিলে অনুশীলনটা হয়নি। এখন হারারেতে পৌঁছে পাওয়া অনুশীলনটাই হবে বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা। তবে এটাকে খুব বড় সংকট হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের আগে যে পাঁচদিন সময় পাবে বাংলাদেশ, এই সময়টা তাদের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন এনামুল হক জুনিয়র। জাতীয় দলের অনুশীলন না হলেও নিজে নিজেই অনুশীলন করছেন বেশ কিছু খেলোয়াড়। তেমনই কাল ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুশীলন করতে এসে স্পিনার এনামুল বললেন, ‘আমাদের হাতে যে পাঁচদিন সময় রয়েছে, সেখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। যদিও সেখানকার কন্ডিশন একটা ব্যাপার। আশা করছি, আমরা সেটা মানিয়ে নিতে পারবো’। ইনজুরির কারণে শ্রীলংকায় যাওয়া হয়নি এনামুলের। কিন্তু জিম্বাবুয়ে যাচ্ছেন সুস্থ হয়েই। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে এখন নিজেকে প্রমাণ করার লড়াইয়ের সময় এসেছে। সে লড়াইয়ে জিততে চান বাঁ-হাতি এই স্পিনার, ‘আমি দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ঢুকেছি। চাইবো নিজের সেরা খেলাটা খেলতে। শ্রীলংকায় যেতে পারেনি ইনজুরির কারণে, হারারে গিয়ে সেটা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবো’। ইনজুরি কাটিয়ে দলের ওপেনার তামিম ইকবালও জিম্বাবুয়ে যাচ্ছেন সুস্থ হয়ে। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে পরপর দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর গত তিন বছরে কোন সেঞ্চুরি নেই তার। শ্রীলংকায় একটা টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে সেই আফসোসটা ঘোচাতে চাইছেন এই ব্যাটসম্যান, ‘প্রায় তিন বছর ধরে সেঞ্চুরি নেই ঠিকই তবে শ্রীলংকায় শুরু থেকে খেলতে পারলে ভালো হতো। জিম্বাবুয়ের মাটিতে আমার সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করবো, বাকিটা ভাগ্যের ব্যাপার’। বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকা সফরে একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল ইনজুরির শংকা। আজ হারারের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে সেই শংকা অনেকটাই কেটে গেছে। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান, এনামুল জুনিয়র, শাহরিয়ার নাফীস, শফিউল ইসলাম, তামিম ইকবাল। ফিল্ডিং করতে গিয়ে বুড়ো আঙ্গুলে ব্যথা পাওয়া তামিমের হাতের ফোলা অনেকটা কমে গেছে। পুরোটা সারতে দ্বিতীয় টেস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তামিম অবশ্য প্রথম টেস্ট থেকে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘চিকিত্সা চলছে, ব্যথা কমে গেলে আশা করছি প্রথম টেস্ট থেকে খেলতে পারবো’। ২০০৫ সালের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ চারটি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে দুটি ড্র, একটি জয় এবং একটি ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। অবশ্য এ পর্যন্ত নয়বার সাক্ষাতে মাত্র একটি জয় এবং তিনটি পরাজয়ের পেছনে রয়েছে পাঁচ টেস্ট হারের দুঃস্মৃতি।