শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

উভয় দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও ঐকমত্য ব্যতীত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। নির্বাচনে ভোট প্রদান করা এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাগরিকদের একটি রাজনৈতিক অধিকার। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এতটাই অস্থিতিশীল যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। সরকার ও বিরোধী দলের চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন কোণ্ঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তাদের দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। উভয় দল তাদের দলীয় স্বার্থকে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় করে দেখছে। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে আসছে। সাধারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে নির্বাচন আদৌ হবে কি না। সরকার চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন। অপরদিকে বিরোধী দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, উভয় দলের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা নিরসনকল্পে উভয় দলকে দেশের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠ,ু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা উচিত। কারণ উভয় দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও ঐকমত্য ব্যতীত আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম মাস্টার্স, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার অন্যতম কারণ হলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন্ ধরনের সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না তা জানিয়ে দিয়েছে এবং বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেয়া হবেও না বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বার বার বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে তারা সুপ্রীম কোর্টের রায়কে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করছে। যদিও সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে আগামী দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে যদি পরিস্থিতি প্রয়োজন মনে করে। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ত্রুটির কথা বলছে তা এই ব্যবস্থার ত্রুটি নাকি রাজনৈতিক দুর্বলতার ত্রুটি। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল জনগণকে উপায় হিসেবে ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের যে খেলা শুরু করেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার যে একমাত্র উত্স জনগণ তাদের মতামত গ্রহণ অপরিহার্য। যেখানে একটি দলের প্রতি অন্যদলের বিশ্বাস শূন্যের কোঠায় এবং সম্পর্ক পুরোপুরি সাপে-নেওলে, সেখানে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হতে পারে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। তাই একমাত্র নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল আচরণ করতে হবে। মো. আনারুল ইসলাম দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার দা সূর্যসেন হল ০০০০০০০০০০০০০০০ সরকারের গণতান্ত্রিক মনোভাবের উপর নির্ভর করছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি না ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন ভূখণ্ডটি অর্জন করেছিলাম। স্বপ্ন ছিল শান্তিতে বসবাস এবং একটি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। যেখানে থাকবে না কোন হানাহানি, অর্থনৈতিক দৈন্য। কিন্তু ৪২ বছর পরও আমরা সেই স্বাধীনতা পাইনি। আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি। আমরা যারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতাম সেই আমরাই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবনে যে, অস্বস্তির হাওয়া বইছে তা আমাদেরকে অনিশ্চিত ও সংঘগাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে কোন সুযোগ সন্ধানী মহল কোন অবস্থাতেই আমাদের এ অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে। এর ব্যতিক্রম হলে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বা গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হবে। আব্দুল্লা আল মিনার বিবিএ (মার্কেটিং) ১ম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে দেশের যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি ০০০০০০০০০০০০০০ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সংলাপ আবশ্যক হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য চিন্তা করে তবে এখনই সংলাপে বসা দরকার। সংলাপে বসে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়, সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমাদের দেশের প্রধান দু’দলের সম্পর্ক সাপে-নেউলের মতো। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। একজন যদি চলে ডানে অন্য জন বামে। কেউ কারো মুখোমুখি হতে রাজি নয়। যদি এ রূপ অবস্থা হয় তাহলে কিভাবে সংলাপে বসবে? আর সংলাপ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কেননা যে দল নির্বাচনে জয়লাভ করবে তার বিপরীত দল বলবে এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়নি। তখন আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করবে। দেশ ধ্বংসের মুখে নিমজ্জিত হবে। যেখানে মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে জীবন ধারণ করতে ব্যর্থ হয়, সেখানে যদি আবার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয় তা হলে অনেক অসহায় মানুষকে কষ্টের সাগরে ভাসতে হবে। বিনা চিকিত্সায় অনেকের জীবনের প্রদীপ নিভে যাবে। খাদ্যের অভাবে ক্ষুধা নিয়ে রাজপথে ঘুরতে হবে। এতে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার হারাতে বসেছে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেই। ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। পরিশেষে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আহবান তারা যেন রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের পথ সৃষ্টি করে। দুবেলা খেয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চায় জনগণ। তাদের এই আশা যেন কেউ ব্যর্থ না করে। মো. আব্দুর রহমান সমুন সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, বিএসসি, নারায়ণগঞ্জ।