‘মেসি ভীতি’তে ডুবলো পিএসজি

কোয়ার্টার ফাইনাল (দ্বিতীয় লেগ) বার্সেলোনা ১ প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন ১ জুভেন্টাস ০ বায়ার্ন মিউনিখ ২ সেমিফাইনালের চার দল বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচের ৬২ মিনিটে মাঠে নামলেন। ইনজুরি কাটিয়ে শতভাগ ফিটনেসও ছিল না। এরপরেও সেই চিরচেনা “লিওনেল আন্দ্রেস মেসি”। তার উপস্থিতিই পাল্টে দিল ম্যাচের গতি-প্রকৃতি। আর মেসির ছোঁয়াতেই অল্পের জন্য রক্ষা পেল বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্রয়ের পরেও অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে টানা ষষ্ঠবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠলো কাতালানরা। তবে এতোটা কঠিন ছিল না জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের রাস্তা। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ২-০ গোলে জয়ের পর তাদের সেমিফাইনালে ওঠা অনেকটা নিশ্চিত হয়েই ছিল। আর বৃহস্পতিবার রাতে জুভেন্টাসের মাঠ ২-০ গোলের জয় নিয়ে হেসে খেলেই সেমিফাইনালে পৌঁছালো তারা। আজ শুক্রবার সেমিফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে দলের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ৬২ মিনিট পরে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার আগ পর্যন্ত বার্সেলোনাকে বেশ চাপের মধ্যেই রেখেছিল ফ্রান্সের শীর্ষ দলটি। তার উপর বিরতির ঠিক পরেই জেভিয়ার পাস্তোরের গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দিলে পুরো ক্যাম্প ন্যু স্তব্ধ হয়ে যায়। তবে মেসির প্রত্যাবর্তনে পুরো দলের চেহারাই যেন পাল্টে যায়। ম্যাচ শেষের ১৯ মিনিট আগে মেসি ও ভিয়ার সহায়তায় পেড্রো গোল করলে বার্সার শেষ চার নিশ্চিত হয়। যদিও মেসির অনুপস্থিতিতে ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালই করেছিলেন সেস ফ্যাব্রেগাস, জাভিরা। ম্যাচ শুরুর প্রথম মিনিটেই ২৫ গজ দূর থেকে ফ্যাব্রেগাসের জোড়ালো শট এবং তার পরপরই জাভির ফ্রি-কিক পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। তবে এর পরপরই হঠাত্ করে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সফরকারীরা। বার্সেলোনার বল পজিশনের ঘাটতির অভাবে স্বাগতিকদের উপর চেপে বসে পিএসজি। বেশ কিছু আক্রমণে তারা গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেসকে ব্যস্ত করে রাখে। এক গোলে পিছিয়ে থেকে দারুণ চাপে পড়া বার্সেলোনার কোচ টিটো ভিলানোভা শেষ পর্যন্ত মেসিকে নামাতে বাধ্য হন। আর ফ্যাব্রেগাসের জায়গায় ৬২ মিনিটে খেলতে নামা মেসি মাঠে আসাতেই বার্সেলোনা যেন নিজেদের ফিরে পায়। পুরো স্টেডিয়ামও মেসিকে দারুণভাবে স্বাগত জানায়। বদলে যাওয়া বার্সেলোনা এরপর একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। ইনিয়েস্তার শট প্রথমবারের মতো সিরিগু বেশ গুরুত্বের সাথে ঠেকালেও ফিরতি বলে মেসি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। ৭১ মিনিটে প্রায় মধ্য মাঠ থেকে দুইজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে মেসি ভিয়ার দিকে বল বাড়িয়ে দিলে তার ব্যাক পাসে পেদ্রো রড্রিগেজ ১৫ গজ দূর থেকে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান। ম্যাচ শেষের ১৫ মিনিট স্বাগতিকদের জন্য বেশ চাপ থাকলেও পিএসজি খুব একটা সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ২০০৯ সালে বায়ার্নের কাছে ৪-১ গোলে পরাজিত হবার পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠে অপরাজিত ছিল জুভেন্টাস। তবে, এবার সেই বায়ার্নের কাছেই হার মানতে হলো ইতালিয়ান জায়ান্ট ক্লাবের। ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে বাভারিয়ানদের হয়ে গোল করেন মারিও মানজুকিচ ও ক্লদিও পিজ্যারো। ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ জুপ হেইঙ্কেস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘লিগ শিরোপা জেতার চার দিনের মধ্যেই আরেকটি বড় ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়দের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে তোলাটা খুব একটা সহজ ছিল না। আর তাই প্রথম ২০ মিনিট আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে; কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেই। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা বেশ ভাল ফুটবল খেলেছি। জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল।’