‘এটা ঠিকাদারের দোষ না, পানির চাপে ভেঙ্গে গেছে’

কোটি টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠির দারখি-মানপাশার সড়কটি নির্মাণের এক মাসের মধ্যে ভেঙ্গে গেছে।একাধিক স্থানে সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ ধসে পড়ে গেছে। এলাকায় সড়কটির কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদার পাইলিং ও গুনা দিয়ে বেঁধে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করলেও তা ঠেকাতে পারছেন না। 

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে এক কোটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে বাসন্ডা-নবগ্রাম ইউনিয়নে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দারখি-মানপাশা সড়কের নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হয় গত ২ মার্চ। এ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরিশালের বাকেরগঞ্জের মেসার্স সিকদার অরিয়ান এন্টারপ্রাইজ। 

সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক স্থান থেকে বড় বড় অংশ ভেঙ্গে খালে পড়ে আছে। এলাকাবাসীরা জানান, ভাঙ্গনের পর ঠিকাদারের লোকজন পাইলিং এবং দিয়ে মোটা গুণা দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেও ভাঙ্গন ঠেকাতে পারছেনা। ভেঙ্গে পড়া সড়ক সংস্কার না করায় প্রতিদিন ভাঙ্গন বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় দুই মাস গত হলেও কর্তৃপক্ষ সড়কটি পরিদর্শনে আসেননি এবং কোনো পদক্ষেপ নেননি। 

এ বিষয়ে প্রকল্পের উপ সহকারী প্রকৌশলী মনজুর রহমান জানান, এটা ঠিকাদারের কোনো দোষ নয়। পানির চাপে রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। সড়ক নির্মাণের আগে কেন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, কর্তৃপক্ষকে জানাই নাই। তবে আমি ঠিকাদারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। 

তিনি আরও জানান, ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়েছেন বাসন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মল্লিক। 

এ বিষয়ে ঠিকাদার ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মল্লিক বলেন, রাস্তা কেন ভেঙ্গে পড়েছে তা দেখার দায়িত্ব এলজিইডির। এটা ঠিকাদারের বিষয় নয়। এই সড়কের যেখানে পাইলিং কাজের জন্য যা বরাদ্দ ছিল আমি তার চেয়ে বেশি খরচ করেছি।  

আরও পড়ুন: কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে নার্সকে ধর্ষণের পর হত্যা

এ বিষয় ঝালকাঠি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি কিছু জানি না। পরে তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনজুর রহমানকে ফোনে নির্মিত সড়ক ভাঙ্গনের বিষয়ে জানতে চেয়ে দ্রুত এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করতে বলেন। সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার পর তা পরিদর্শন করেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান। 

ইত্তেফাক/অনি