সময়োপযোগী ডিগ্রি নিয়ে এগোতে হবে
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:০৮
লেখাপড়া করে অনুকরণীয় সাফল্য এনে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে এটাই চান সবাই। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এদিক দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যজনক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে মঞ্জুর মোর্শেদ খান। এইচএসসি শেষ করে তিনি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে। উদ্দেশ্য ছিল উন্নত বিশ্বে গিয়ে এই বিষয়ে বড় ডিগ্রি অর্জন করবেন। তার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হার্ডফোর্ডশায়ারে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছে। মঞ্জুর মোর্শেদ খানের সাথে কথা হয় তার এই সাফল্যগাথা নিয়ে।
প্রথম থেকে কীভাবে শুরু হয়েছিল আপনার পথ চলা।
মঞ্জুর মোর্শেদ খান :আমি মনে করি সবারই ছোট থেকে ইচ্ছা থাকে হয়ে ভালো কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার। সে ধারায় আমারও ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। এদিক দিয়ে আমার বাবা-মায়েরও সম্মতি ছিল, আমি যেন দেশের মুখ উজ্জ্বল করার মতো বড় ইঞ্জিনিয়ার হই। আর এদিক দিয়ে আমার ধারণা যে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং জগতে যথেষ্ঠ বড় এবং গর্ব করে উল্লেখ করার মতো একটি পেশা। এ জন্য আগে থেকে আমার মানসিক প্রস্ততি ছিল এবং এক ধরনের জিদ এবং একাগ্রতা ছিল এই পেশায় আসার। এরপর এইচএসসি পাস করে জানতে পারলাম কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে এই বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। সেখানে গিয়ে দেখলাম তাদের পরিচালনা করা ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত এবং এখান থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর সম্পন্ন করে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে মাস্টার্স করার সুযোগ আছে। আর খরচও যথেষ্ট কম। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর মাস্টার্স করার জন্য ইউনিভার্সিটি অব হার্ডফোর্ডশায়ারে চলে এলাম।
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের সাধারণত কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়?
মঞ্জুর মোর্শেদ খান :বিশেষ করে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়নের আগে এর সব সিস্টেম ঠিক আছে কি না তা সম্পর্কে পাইলটরা সব ধরনের তথ্যপত্র নিয়ে থাকেন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে। উড়োজাহাজের যান্ত্রিক নিরাপত্তার অনেক কিছু নির্ভর করে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারদের উপর। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের কাজের ক্ষেত্রটা ব্যাপক। তবে এয়ারক্রাফটের নিত্য নতুন ডিজাইন উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ, এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, অনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, মেরামত প্রভৃতি করাও তাদের কাজ। অন্যদিকে এয়ারক্রাফটয়ের ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লাইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। অন্যদিকে জ্বালানি দূষণ কমানো, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়, সেফটি সিস্টেমসসহ অন্যান্য বিষয় নিয়েও তারা কাজ করেন।
এর পরের পরিকল্পনা কী?
মঞ্জুর মোর্শেদ খান :এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি পড়ালেখা অবস্থায় চাকরি শুরু করতে পারি আবার শেষ করেও শুরু করতে পারি। এই পেশায় জীবন যাপনের ধারা খুবই উন্নত। চাকরি ক্ষেত্রে বেতন চমত্কার। আর ইংল্যান্ডের মতো এমন একটি উন্নত দেশে এ ধরনের পেশাদার হওয়া মানে অনেক বড় কিছু যা তুলনা করার মতো নয়। শিক্ষার্থী যারা অনেকদূর এগোতে চায় তারা একটু ধৈর্য ধরে একাগ্র মনে এ ধরনের বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করলে আমার বিশ্বাস তাদের ক্যারিয়ারটা উন্নত হবে।