তবুও বিনয়ী মেসি!

প্রথমার্ধে মাঠেই ছিলেন না। নামলেন ম্যাচের ৬২ মিনিটে। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বার্সেলোনা তখন আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের শঙ্কায়। ফুটবল বিধাতা হয়তো ‘ফুটবল জাদুকরের’ জন্যই এমন মঞ্চ প্রস্তুত করেছিলেন। ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না, পিছিয়ে থেকেও শুধু তার উপস্থিতির কারণেই শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র। অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থেকে ফরাসী ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনকে ছিটকে দিয়ে বার্সেলোনা পৌঁছে গেল শেষ চারে। নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মেসি। সতীর্থ থেকে প্রতিপক্ষ দলের কোচ সবার মুখেই এখন তাই মেসি-বন্দনা। আর স্বয়ং মেসি সেই চিরচেনা বিনয়ের সাথে জানালেন দলের বিপদে ভূমিকা রাখতে পেরে তিনি খুশি। অথচ নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে এতো শোচনীয় অবস্থা না হলে হয়তো সাইডলাইনে বিশ্রাম নিয়েই কাটিয়ে দিতেন সময়টা। এরপরেও বিপদ উদ্ধারে তাকে স্মরণ করলেন কোচ টিটো ভিলানোভা। আর মেসি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়েও নিজেকে উজাড় করে দিলেন। আর তাতেই রক্ষা পেল কাতালানরা। টানা ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠলো লা লিগায় পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দলটি। চীনের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে মেসি জানান মোটেও ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘ইনজুরি সামান্য হলেও অনেক ঝুঁকি নিয়েই আমাকে মাঠে নামতে হয়েছে। তবে, আমি সন্তুষ্ট যে আমরা এখন সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছি। আর এখন আমি নিজের ইনজুরি কাটিয়ে শতভাগ ফিটনেস নিয়ে মাঠে ফিরতে চাই।’ ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন লিওনেল মেসি। দলের মূল ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন কিছুদিনের মধ্যেই। ক্যারিয়ারে রেকর্ড টানা চারবার ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জয় করেন। সব মিলিয়ে তিনি এখন ফুটবল বিশ্বেরই এক বড় মুখ। সন্তানের জন্য তাই গর্বিত মেসির বাবা। বেশ আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যেদিন মেসি খেলা ছেড়ে দেবে সেদিন থেকে ফুটবলের প্রতি আমার ভালো লাগা শেষ হয়ে যাবে। আমার মনে হয় না এরপর আমি আর কোনদিন ফুটবল দেখবো।’ মেসিকে আজীবন ফুটবল মাঠেই দেখতে চান তার বাবা, ‘আমি সব কিছুর পরেও ফুটবলকে ভালোবাসি। আর সেদিনের ব্যাপারে আমি ভাবতে চাই না যেদিন মেসি ফুটবল ছাড়বে।’ মেসি সমর্থকরাও ভাবতে চান না এমন দিনের কথা!