সৈকত-মেহেদীর সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দাপট

সংক্ষিপ্ত স্কোর শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল- ৪২২ ও ৬৭/২ (মেন্ডিস ব্যাটিং ২৫, ভানুকা ব্যাটিং ২১, রিফাত ১/২৩, জহির ১/১৮)। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথম ইনিংস- ৩৯৭/১০ (মোসাদ্দেক ১০৭, মেহেদী ১০৫, নাজমুল ৫৫, ইয়াসির ২৭, তাইরোন্নে ৭/১৪২)। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুই প্রিয় ক্রিকেটার হলেন মাইকেল ক্লার্ক ও নাসির হোসেন। ক্লার্ক তো হরহামেশা টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। ক দিন আগে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন নাসিরও। এবার সৈকত নিজেও সাদা জার্সি গায়ে সেঞ্চুরি করে জ্বলজ্বলে মুখে ব্যাট উঁচু করে ধরলেন! না, সৈকত টেস্টে সেঞ্চুরি করেননি। কাল শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই অধিনায়ক। সঙ্গে দলের সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসানের আরেকটা চোখ জুড়ানো সেঞ্চুরি। আর এই দুইয়ে মিলে শ্রীলঙ্কান দলের বিপক্ষে বেশ শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে। শ্রীলংকার প্রথম ইনিংসে ৪২২ রানের জবাবে স্বাগতিক দলের এই দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির কারণে বাংলাদেশ তৃতীয় দিনশেষে ৩৯৭ রান তুলেছে। দুই সেঞ্চুরিয়ানের বিদায়ের পর আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে না পারায় লিড নিতে পারেনি বাংলাদেশি দল। ২৫ রানের লিড নিয়ে কাল দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেও শ্রীলংকা ৬৫ রান তুলতে খুঁইয়ে ফেলেছে দুই উইকেট। তাতেই স্বাগতিক দলের এই অধিনায়কের মনে স্বস্তি। বাংলাদেশের ইনিংসের শেষটা গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার তাইরোন্নে। ১৪২ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। স্বস্তির কারণও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সৈকত, ‘ওরা যখন ৪২২ রান করেছে। তখন আমাদেরও মনে হয়েছে ওরা পারলে আমরা পারব না কেন? ওপেনিংটা ভালো হয়েছে। এরপর আমাদের প্রয়োজন ছিল বড় পার্টনারশীপ করার। মেহেদী ও আমার টার্গেট ছিল তিনশ’ রান পর্যন্ত টিকে থাকা। তাই করেছি’। প্রায় একই কথা বললেন মেহেদী হাসান মেরাজও। তিনিও বলছেন, তাদের শুরু থেকেই বিশ্বাস ছিল এখানে ভালো ব্যাটিং করা সম্ভব, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাসটা ছিল সেরকম। ওরা যখন এত রান করতে পেরেছে আমরাও পারবো। আসলে আত্মবিশ্বাসটা এসেছে উইকেট দেখে। ওরা যখন ব্যাট করছিল খুব সহজেই ব্যাটিং করছিল। বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। তখনই মনে হয়েছে আমরাও কিছু একটা করতে পারবো। ব্যাটসম্যানরা যদি ভুল না করি তাহলে সহজেই বড় রান করতে পারবো’। বাংলাদেশ দলের এই দুই তরুণই মূলত প্রথম চারদিনের ম্যাচে দলকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। সৈকতের অবশ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে মেহেদীর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেঞ্চুরি এই প্রথম। এই সেঞ্চুরি পাওয়ার পেছনে তিনি বড় অবদান দেখছেন বিভাগীয় ক্রিকেট লিগের, ‘বিভাগীয় পর্যায়ে যে লিগ হয় সেটাই আমাদেরকে সহায়তা করেছে। বড় দৈর্ঘের ম্যাচ খেলতে উদু্বত করেছে। হ্যাঁ, অনূর্ধ্ব-১৭ লংগার ভার্সন ক্রিকেটও খেলেছি। তবে সবথেকে এগিয়ে রাখবো অনূর্ধ্ব-১৮ এর বিভাগীয় পর্যায়ে লিগকে। সেখানে ভালো খেলার ফসল হিসেবে আজ আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো খেলতে পেরেছি’। আর এই তরুণদের ভালো খেলায় ভালো একটা ভবিষ্যতের আশা করতে পারছেন দলের কোচ। গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যে দলটি খেলেছে, তার থেকে এবারের দলটি সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক তরুণ ক্রিকেটার এখানে সুযোগ পেয়েছে। কোচ হিসেবে জাফরুল এহসান এই তরুণদের নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখতে পারছেন, ‘এখানে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। এরা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলে এখানে এসেছে। আমার কাছে এই দলটি শক্তিশালী মনে হচ্ছে’। চারদিনের ম্যাচের আজ চতুর্থ ও শেষ দিন। সফরকারীদের ৯২ রানের লিড থাকলেও আজ দিনের প্রথম সেশনে দ্রুত অলআউট করতে পারলে হয়তো বাংলাদেশেরও সুযোগ থাকবে এই ম্যাচে। আর যদি সেটা হয় তবে তরুণ এই দুই সেঞ্চুরিয়ানের জন্যই তা হবে। তৃতীয় দিনশেষে শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল এগিয়ে ৯২ রানে।