রূপচর্চা
গরমেও ফুরফুরে চুল
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৫৩
প্রত্যেকের চুলের ধরন এক নয়। একেক জনের চুল একেক ধরনের। আর এর পরিচর্যাও করতে হয় চুলের ধরন অনুযায়ী। তবে কিছু কমন সমস্যা আছে, যা প্রায় সবারই হয়। তাই কমন কিছু পরিচর্যাও আছে, যা সবার জন্যই প্রযোজ্য। যেমন—
গরমের সময় ধুলো-ময়লা ও রোদের তাপ বেশি। গরম থেকে বাঁচতে এ সময় বেশিরভাগ এসির মধ্যে থাকা হয়। এসব কারণই চুলের জন্য ক্ষতিকর। এতে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল। এ সময় ধুলো-ময়লা এড়াতে চুল ঘন ঘন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনিং করা হয়। এতেও চুল রুক্ষ হয়। তাই রাতে খুব ভালো করে চুলে তেল লাগান। পরদিন শ্যাম্পু করুন। তবে কন্ডিশনার কম লাগাতে চেষ্টা করবেন। গরমের সময়ে চুলে সানবার্ন হয়। তাই বাইরে বের হলে ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। চুল খুব বেশি রুক্ষ হলে শ্যাম্পু করার পর সমপরিমাণ পানির সঙ্গে টক দই ও লেবুর রস মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। তারপর চুল আবার ধুয়ে ফেলুন। বাইরে বের হওয়ার সময় চুল ঝুঁটি বা খোঁপা করে বের হন। তাহলে আর অস্বস্তি লাগবে না। তবে বেশি টাইট করে খুব বেশি সময় চুল বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলের ভেতর বাতাস ঢুকতে পারে না। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে চুল খুলে ফেলা ভালো। মাথার ত্বক ঘেমে গেলে অবশ্যই ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিন। ভেজা চুল বাঁধবেন না।
চুল রোদে পোড়া হলে ডিপ কন্ডিশনিং জরুরি। আর এ সময় চুলে সানস্ক্রিনসমৃদ্ধ হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা ভালো।
এবার চলুন জেনে নিই, এ সময় চুলের কিছু সমস্যা ও তার সমাধানে সঠিক পরিচর্যার পরামর্শ—
স্ক্যাল্পের সমস্যা
গরমের এ সময়টাতে স্ক্যাল্পে বা মাথার ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। কারণ এ সময় স্ক্যাল্প ঘেমে যায়। আর এই ঘাম জমার ফলেই তৈরি হয় সমস্যা। তাই সারা দিন পর ঘরে ফিরে চুল খুলে বাতাস চলাচল করতে দিন। মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন বেশ কিছুক্ষণ।
মাথার ত্বক শুষ্ক হলে খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন না। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে চুলে কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করুন। এরপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে পানি নিংড়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর মাইন্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এ ক্ষেত্রে হারবাল শ্যাম্পু উপকারী।
মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলে তাতে ধুলো-ময়লা জমে বেশি। আর এতে চুল হয়ে পড়ে খসখসে ও তেল চিটচিটে। এ ছাড়া স্ক্যাল্পে তেল জমে থাকার কারণে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। আর তাই এ ধরনের চুল ঘন ঘন শ্যাম্পু করতে হয়। এ ছাড়া কন্ডিশনিংও জরুরি। কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে ১০/১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নেবেন।
সপ্তাহে ২/৩ বার চুলে তেল লাগান। হালকা গরম তেল আঙুলের মাথায় লাগিয়ে চুলের গোড়ায় সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে। স্ক্যাল্পের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে।
এ সময় অনেকেরই চুলপড়া সমস্যা দেখা দেয়। চুলপড়া রোধ করতে অলিভ অয়েলের সঙ্গে ডিমের কুসুম ভালো করে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। অলিভ অয়েল, নারকেল তেল ও তার সঙ্গে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। এতে চুল পড়া কমবে। সব শেষে নজর দিন খাওয়া-দাওয়ার দিকে। ব্যালান্স ডায়েট চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এ সময় প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খান। গরমে খুব বেশি চা-কফি না খেয়ে বরং প্রচুর পানি পান করুন। আর চা বারবার খেতে অভ্যস্ত হলে গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।
মডেল রুমি নোভিয়া ছবি আশীষ সেনগুপ্ত