[ অ র্থ নী তি ]
অর্থনীতি হুমকির মুখে
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩৪
বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতিতে কালো থাবা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরতাল ও নৈরাজ্য। কেবল দেশের শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা নয় বরং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ হরতাল ও নৈরাজ্যের কারণে দিশেহারা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন। ইতোমধ্যে বিদেশে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে সচেষ্ট হওয়ায় এবং নারীদের সমঅধিকার কেড়ে নেয়ার প্রয়াসে লিপ্ত হওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের প্রাণভোমরা নষ্ট হচ্ছে। আত্মঘাতী তত্পরতার জন্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি প্রবাসে বাংলাদেশিরা নানারকম দুঃসহ যাতনার শিকার হচ্ছে, তাদের আয়-রোজগারেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে, শিল্পের উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতার সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাধীন দেশে এ ধরনের হিংস্র তা কেন?
বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী খাত হচ্ছে পোশাক শিল্প খাত। যেখানে বাংলাদেশে শ্রমিকদের পাওনা হচ্ছে গড়ে মাসিক ৫৫ মার্কিন ডলার, সেখানে চীনে হচ্ছে মাসিক ১৯২ মার্কিন ডলার। দেখা যায় যে, যখনই কোন ধরনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তখনই দেশি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এ দেশকে পেছনে ঠেলে দেয়। যেভাবে দেশে একের পর এক হরতাল, নৈরাজ্য, সহিংসতা এবং ভিন্ন মতবলম্বীদের উপর একটি চক্র সক্রিয়ভাবে লিপ্ত হচ্ছে তা দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। আসলে গত বিশ বছরে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও দেশ এগিয়ে চলেছে জিডিপি গ্রোথ রেইট ৬-৬.৫% এর মত গড়ে অর্জিত হয়েছে। দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে একটি দল কাজ করে চলেছে-এটি মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
একের পর এক হরতালে অসহনীয় অবস্থায় কেবল পোশাক শিল্পখাত নয় বরং অন্যান্য শিল্প খাত যেমন চামড়া, পাট, চা, জাহাজ নির্মাণ খাত। পণ্য পরিবহনে নানামুখী অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। ধীরস্থির চিত্তে ভাবলে মনে হয়, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াসে এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যেভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তার দোসররা কাজ করত, আজ তারই ব্লুপ্রিন্টের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। হরতালের নামে যে ধরনের নৈরাজ্য আগে চলত, গত কয়েক মাসে তার মাত্রা ও প্রকৃতি আরো গভীরতর হচ্ছে। এখন ট্রেনের বগিতে আগুন লাগানো হচ্ছে। এক একটি বগির দাম বাদেও যে মানুষেরা এই অসহনীয় অবস্থার শিকার হচ্ছে, তাদের পরিবার ও পরিজনসহ ভুক্তভোগীরা জানেন। আবার সড়কপথে পণ্য পরিবহন করা বাধ্য হয়ে বাদ দিয়ে রেলপথে যে সকল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করবেন তাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেক বিদেশি ক্রেতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অর্ডার ক্যান্সেল করছে। কোন কোন রপ্তানিকারক নিরুপায় হয়ে দশ থেকে সতেরো গুণ খরচে বিমানযোগে সম্ভব হলে পণ্য প্রেরণ করছে, এর ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে পণ্য উত্পাদন খরচ ও প্রেরণের খরচ যোগ করলে পণ্য বিক্রয় খরচ অপেক্ষা কম পাচ্ছে এবং মুনাফার বদলে ক্ষতি হচ্ছে। দেশের জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে এই ধরনের অপতত্পরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
একটি অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, হরতালের কারণে দৈনিক ১১,২৫২ কোটি টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি যে সমস্ত পরিবারের উপার্জনক্ষম পুরুষ-মহিলা আহত কিংবা নিহত হচ্ছেন এমনকি ছোট শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না, তাদের ক্ষেত্রে হরতাল আহ্বানকারীদের উচিত নৈতিক দায়-দায়িত্ব নেয়া। দুর্ভাগ্য যে, পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত কিংবা নিহত হলে, ঐ পরিবারের আয় প্রবাহ কেবল কমে আসে না বরং আয় হ্রাস পায়। বর্তমানে ব্যাস্টিক অর্থনীতির এই ঘটনা প্রবাহ সামষ্টিক অর্থনীতিকে একটি জটিল রূপে চিত্রায়িত করে থাকে। গত বিশ বছরে আশানুরূপভাবে দেশ এগিয়েছে। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় কতটুকু আমরা এগুতে পারব। বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা ধরনের পট পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যে অমিত সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিল। এই অমিত সম্ভাবনা এখন রাজনৈতিক সহিংসতা এবং হরতালের ভয়াবহতায় বিনষ্ট হতে বসেছে। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে। কিন্তু পণ্য পরিবহনে বাধা দেয়া, জ্বালাও-পোড়াও করা, ঠিক সময়মত এসএসসি পরীক্ষা এবং এক্ষণে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না দেয়ায় দেশের জনজীবনে এক অসহনীয় পরিবেশের উদ্রেক হয়েছে। এই অসহনীয়তা দেশে সামাজিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং উত্পাদন নষ্ট হচ্ছে, পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না, নিম্ন আয়ের লোকদের আয়প্রবাহ কেবল কমছে না বরং অনেক ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান হারাচ্ছে, আবার মধ্যম এবং উচ্চ আয়ের লোকদের ক্ষেত্রেও আয়প্রবাহ কমে যাচ্ছে। আসলে হরতাল আহবানকারীরা সাধারণ মানুষের কথা বোঝেন কিনা তা এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি কাওরানবাজারের পাইকারী বাজারে আলাপ করে জানা গেল যে, পচনশীল শাক-সবজি অকাতরে নষ্ট হচ্ছে, ফলে উত্পাদনকারীরা এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা উভয় শ্রেণীই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই অবস্থায় যে সমস্ত গ্রামীণ মাধ্যম শাক-সবজি উত্পাদনের সাথে জড়িত তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাছে। পাইকাররাও ভাল নেই। হুট-হাট করে হরতাল দেয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ট্রাক আটকে থাকে। যখন কাওরানবাজারে এসে পৌঁছায় তখন ইতোমধ্যে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়- পণ্যের দামতো উঠে না আবার ট্রাক খরচও ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকার এক কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা গেল যে, গত বছর এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে যেখানে পাঁচ লক্ষ টাকা অর্জিত হয়েছিল, এ বছর চাষের খরচই উঠছে না।
এদিকে যে সমস্ত লোক ব্যাংকঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পজাত পণ্য উত্পাদনে নিয়োজিত ছিল, তারা আজ মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। মধ্যম ও বৃহত্ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের অবস্থাও খুব খারাপ। আসলে হরতালের মাধ্যমে দেশের উপকার হচ্ছে না বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকরণ এবং মানুষের জীবন বোধ, নারীর প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে। স্বাধীনতার যে মৌলিক আদর্শ অসাম্প্রদায়িকতা এবং সবার জন্যে বসবাসযোগ্য একটি রাষ্ট্র, আজ তা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।
এদেশে বর্তমানে কেবল পোশাক শিল্প খাতে জড়িত রয়েছে ৪০ লক্ষ লোক। এদের উপর নির্ভরশীল গড়ে চারজন করে ধরলে হবে ১.৬ কোটি লোক। এদিকে হরতালের কারণে এনজিওদের কাছ থেকে যে সমস্ত নারীরা টাকা নিয়েছেন তারাও টাকা ফেরত দিতে পারছে না।
ব্যাংকিং ব্যবসাতেও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ গ্রহীতারা ঋণের অর্থ ঠিক সময়মত ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে খেলাপী ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। চরম নাশকতামূলক ঘটনাপ্রবাহ ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরাও ব্যাংকে অর্থ রাখতে ভয় পাচ্ছেন। বীমা ব্যবস্থাতেও ধস নামার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে শেয়ার বাজারের অবস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশের ন্যায় একটি রাষ্ট্রের ব্যক্তিস্বার্থে হীন স্বার্থসিদ্ধির উপায় হিসাবে হরতাল ব্যবহার করা হচ্ছে। আজ নারীকে অবমাননা করা হচ্ছে। আল্লাহ্ নারী-পুরুষ উভয়কেই সৃষ্টি করেছেন। অথচ এভাবে নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেছনে ঠেলে দেয়ার প্রয়াস খুবই হতাশাজনক। যেভাবে হরতালের নামে হিংস্র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে তা দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক অপরাধ স্বরূপ। এই অব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। দুষ্কৃতিকারীদের সাজা হওয়া দরকার। আর রাজনৈতিক সমস্যা হলে তার আলোচনা হবে পার্লামেন্টে। কোনভাবেই দেশের শান্তি-শৃংখলা বিনষ্ট করা যাবে না। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করতে বর্তমান সরকার যে শুভ উদ্যোগ নিয়েছিল, তার থেকে পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। একবিংশ শতকের দ্বিতীয় শতকে রাষ্ট্রকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাব অনুসারে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮.১৬% রপ্তানি।
বর্তমানে দেশের উন্নয়নের গতি প্রকৃতিতে কেবল আঘাত হানেনি বরং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে বিনষ্ট করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বারংবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সহিংস ঘটনাপ্রবাহ থেকে কেউ পিছপা হচ্ছে না। মনে পড়ে ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশের ব্র্যাণ্ড ইমেজ বাড়ানোর জন্যে এফবিসিসিআই-এর উদ্যোগে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন জননেত্রী এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। অথচ বেগম খালেদা জিয়ার সময় হয়নি সেই সম্মেলনে যাওয়ার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি-প্রকৃতি কিন্তু মূলত: রাজনীতিবিদদের হাতেই। এ কারণে রাজনৈতিক অর্থনীতির মূল দর্শন হচ্ছে সামাজিক উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণ। আজ যেভাবে সহিংসতা হচ্ছে, উগ্র ধর্মীয় জঙ্গীবাদের জিকির হচ্ছে তাতে ভয় হয় বাংলাদেশের কপালে আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানের মত রাষ্ট্রের সীলমোহর জুটে যায়। যেভাবে ভিন্ন মতাদর্শের হলেই কিংবা নারী হওয়ার কারণে সকল মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার প্রয়াস নেয়া হচ্ছে তাতে দেশের শিক্ষিত সমাজ সরকারের পেছনে সারিবদ্ধভাবে মোকাবিলায় এগিয়ে না আসে, তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সূচক ব্যক্তিগত পর্যায়ে, সমষ্টিগত পর্যায়ে ক্ষুণ্ন হতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষেরা এই হরতাল-নৈরাজ্যে বলি হচ্ছে। মানুষের আয় প্রবাহ কমে যাওয়ায় জীবন যাত্রার মান কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি একদিকে যেমন উত্পাদনকারীরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন অন্যদিকে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার কারণে অতিরিক্ত দামে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও হরতাল ও সহিংসতা প্রদর্শনকারীরা বহাল তবিয়তে সমাজে বিদ্যমান থাকছেন। অথচ দেশের প্রচলিত আইনে যারা সত্যিকারভাবে দোষী তাদের আইনের আওতায় আনা গেলে শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের সুবিধা হবে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। প্রকৃত কোন কারণ ছাড়া হরতাল, ধর্মঘট বিলাসিতার নামান্তর। তারপর এই হরতাল যদি হয় সহিংস, জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে থাকে, তবে অর্থনীতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই রকম অব্যবস্থাপনার জন্যে হরতাল আহ্বানকারীরা নিশ্চিতভাবে দেশের প্রতি এক ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। এদিকে অর্থনীতিকে যে রক্তক্ষরণ ঘটছে তার দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
অবিলম্বে হরতাল ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট হিংসাত্মক কার্যকলাপের কারণে অর্থনীতিতে যে রক্তক্ষরণ ঘটছে তা বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সঙ্গতভাবে এবছর সাধারণ নির্বাচন হবে। আর তাই জনগণের কথা বিবেচনা করে হরতাল বাদ দিয়ে অন্য কোন উপায় ব্যবহার করা হোক। তবে এক্ষেত্রে সহিংসতা পরিহার করা একান্তভাবে বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বর্তমানে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর; বৌদ্ধ মন্দির ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা প্রবাহের কারণে বহির্বিশ্বে আমাদের সুনামহানি হচ্ছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন আমরা হচ্ছি। বিদেশি ক্রেতারা দেশের অভ্যন্তরীণ সহিংসতার জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশসমূহে অর্ডার সরিয়ে নিচ্ছে। এদিকে ক্রমাগতভাবে হরতালের কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রেও নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝখান থেকে সেশান জট হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা বারবার হরতালের জন্যে পরীক্ষা দিতে পারছে না। এক্ষেত্রেও অর্থনৈতিকভাবে অভিভাবকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম সামাজিক অস্থিরতার শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে হরতালসহ সকল ধরনের বিধ্বংসী কার্যকলাপ বন্ধ করা দরকার। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গতিময়তা আনয়নের জন্যে আত্মঘাতী কার্যকরাপ বন্ধ করা দরকার। সকল ধরনের হিংস্রতা, জঙ্গিবাদ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা দরকার। অশান্ত পরিবেশে যারা অশান্তি সৃষ্টি করে তারা কখনোই লাভবান হতে পারে না। দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সকল পক্ষকে সংযত আচরণ করা দরকার। অর্থনীতিতে যে প্রবৃদ্ধি বর্তমান সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল, তা যেন ব্যাহত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। পর ধর্মমতের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়।
লেখক :উপাচার্য, প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয় এবং
ম্যাক্রোও ফাইন্যান্সিয়্যাল ইকনোমিস্ট
e-mail: pipulbd@gmail.com