নিষেধাজ্ঞাকে ‘একতরফা’ বলছেন ঘৌরি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৯
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরে এবার ক্রিকেট দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের কঠিন অবস্থানের কথা জানান দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি)। ভারতীয় টিভি চ্যানেল ইন্ডিয়া টিভির স্টিং অপারেশনে অভিযুক্ত এবং আইসিসির এলিট প্যানেলভুক্ত আম্পায়ার নাদিম ঘৌরিকে তারা নিষিদ্ধ করেছে চার বছরের জন্য। তবে এই রায়কে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ঘৌরি।
গত বছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসে ইন্ডিয়া টিভি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, তারা এমন কিছু আম্পায়ারকে খুঁজে পেয়েছেন যারা অর্থের বিনিময়ে খেলোয়াড়দের অনৈতিক সুবিধা দিতে প্রস্তুত। তারা আরো জানায়, এই আম্পায়ারদের সবাই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা অথবা পাকিস্তানের। চ্যানেলটি পরবর্তীতে আম্পায়ারদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি প্রকাশ করলে তিনটি দেশের বোর্ডই পৃথক ভাবে এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের ঘোষণা দেয়।
বিসিবিই সবার আগে গত মাসে তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নাদির শাহকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে দশ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার পিসিবি জানায়, বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত নাদিমকে তারা চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে অপর অভিযুক্ত আম্পায়ার আনিস সিদ্দিকিকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিনি বছরের জন্য। কমিটির অন্যতম সদস্য এবং পিসিবি প্রধান জাকা আশরাফ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নাদিম ঘৌরি একজন সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার এবং আইসিসি তাকে আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলে পদোন্নতি দিয়েছে। একই সঙ্গে পিসিবির আন্তর্জাতিক প্যানেলেরও সে সদস্য। এই সবকিছুর পরেও সে ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থের জন্য মাঠে অন্যায় কিছুর সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পিছপা হয়নি।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করে আশরাফ আরো বলেন, ‘দুর্নীতি কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধের বিরুদ্ধে পিসিবি মোটেই সহানুভূতি দেখাবে না। আমরা আমাদের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বদ্ধপরিকর।’
তবে হতাশ নাদিম এই রায়কে একতরফা আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এটি একতরফা একটি সিদ্ধান্ত। আমি আমার সততা বিসর্জন দেইনি। তাদের ফাঁদেও আমি পা দেইনি অথচ আমাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো। পিসিবির উচিত আমার বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেয়া উচিত। আমি চেয়্যারম্যানকে অনুরোধ করছি। সুবিচার পাওয়ার জন্য আমি আপিল করতে প্রস্তুত আছি।’