মেসি ছাড়াও সেই বার্সেলোনা

রেলিগেশন অঞ্চলে থাকা রিয়াল জারাগোজার বিপক্ষে সাধারণ হিসেবে বার্সেলোনার জয়-পরাজয় নিয়ে খুব একটা ভাবার কথা নয়। তারপরও এই ম্যাচটা নিয়ে বার্সেলোনা সমর্থকরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কারণ, তাদের গত বছর চারেকের প্রায় সব সাফল্যের রূপকার লিওনেল মেসি যে ইনজুরিতে পড়ে মাঠে ছিলেন না! অবশ্য মেসির সতীর্থরা তার অভাবটা টের পেতে দেননি। মেসি-বিহীন বার্সেলোনা ঠিক একইরকম দাপটে রিয়াল জারাগোজাকে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফিরল। লা লিগা জয়ের পথে দলকে আরো একটু এগিয়ে দেয়া এই ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক হয়ে রইলেন ক্রিস্টিয়ান তেল্লো। বার্সেলোনার মতোই ছুটছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের জয়রথ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে ঠিক ৩-০ ব্যবধানেই তারা হারিয়েছে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে; কিন্তু সেই যে মৌসুমের শুরুতে তৈরি হওয়া পার্থক্য! যার ফলে এখনো বার্সেলোনার চেয়ে ১৩ পয়েন্ট পেছনে রিয়াল। ইনজুরি আক্রান্ত মেসিকে ছাড়া বার্সার আক্রমণভাগকে এদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন থিয়াগো আলকানটারা, এ্যালেঙ্সি সানচেজ এবং ক্রিস্টিয়ান তেল্লো। যদিও দুইটি গোল করেছেন তেল্লো; কিন্তু গোল করে ও করিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন আসলে থিয়াগো। আক্রমণভাগ ছাড়াও সমস্যা ছিল বার্সার; ডিফেন্সে জেরার্ড পিকে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে কালকের ম্যাচে কাতালানর রক্ষণভাগও বেশ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত থিয়াগো স্থানীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ‘এই ফলাফলে আমরা বেশ খুশি। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের জন্য লা রোমারেডায় খেলাটা একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমি মনে করি, পুরো ম্যাচেই আক্রমণ ও রক্ষণভাগে আমরা নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছি।’ এর মধ্যে জারাগোজার প্রথম সংঘবদ্ধ আক্রমণটি ব্যর্থ করে কাউন্টার এ্যাটাকে ২০ মিনিটে সফরকারীদের এগিয়ে দেন থিয়াগো। দলের দ্বিতীয় গোলেও ছিল তার অবদান। এরপরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জারাগোজা ডিফেন্ডার গে¬ন লুভেন্সকে ফাঁকি দিয়ে টেলো নিজের দ্বিতীয় গোল করলে বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী মেসি যখন মাঠের বাইরে; তখন নিজেকে এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একইরকম দুরন্ত গতিতে ছুটছেন রোনালদো। অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে আবার জোড়া গোল করেছেন তিনি। বার্সেলোনা যেখানে পরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল সেখানে হোসে মরিনহো প্রায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই একাদশ সাজিয়েছিলেন। ম্যাচের শুরুর ২ মিনিটের মধ্যেই দারুণ এক ফ্রি-কিকে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো। যদিও প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে স্বাগতিক অ্যাথলেটিকই এগিয়ে ছিল। গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেজের দুর্দান্ত দুইটি সেভের ফলে মার্কেল সুসাটা এবং এ্যান্ডার হেরেরা গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে অ্যাথলেটিকের এই চেষ্টা নিরর্থক হয়ে যায় ৬৮ মিনিটে রোনালদোর দ্বিতীয় গোলে। পাঁচ মিনিট পর রোনালদোরই সহযোগিতায় হিগুয়েইন অ্যাথলেটিকের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।