চাঁদপুরের বধ্যভূমিতে নির্মিত হলো স্মৃতিসৌধ

চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের অগ্রভাগ বা মোলহেডের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা, পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদী। দৃশ্যত এই মোলহেডটি একটি ভাসমান প্রাকৃতিক অপরূপ দ্বীপ। প্রতিদিন এখানে শত শত নারী-পুরুষ আসেন পদ্মা, মেঘনায় ইলিশ মাছ আহরণ ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এখানে পাক হানাদার বাহিনীর একটি ক্যাম্প বা টর্চার সেল ছিল। পাক সেনা ও রাজাকাররা চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্মম অত্যাচার ও মেয়েদের ধর্ষণ করার পর মৃতদেহগুলোর হাত পা বেঁধে মেঘনা ও পদ্মা নদীতে ফেলে দিতো। তবে এই বধ্যভূমিতে দীর্ঘ ৯ মাসে কত লোককে হত্যা করা হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য কারো জানা নেই। কিন্তু এর নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মা, মেঘনা নদী। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর এই বধ্যভূমিটিকে স্মৃতিবহ করে রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে চাঁদপুর পৌর পরিষদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ চাঁদপুরবাসীর সহযোগিতায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পোড়া মাটি ও মুরালের উপর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণসহ স্বাধীনতার যুদ্ধের বিশেষ ঘটনাবলী এবং পাকসেনাদের আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কারুকার্য সম্বলিত একট দৃষ্টিনন্দন ‘রক্তধারা’ নামের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। শিল্পী চঞ্চল কর্মকারের নির্দেশনায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৬ ফুট গোলাকার বৃত্তের বেদীর উপর ধাপে ধাপে ৪টি বেদী করা হয়েছে। ৩য় ধাপে একটি আকর্ষণীয় ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়েছে। সবার উপরিভাগে ১৮ ফুট ফাঁকা রেখে ৩টি পিলারের উপর ত্রিমুখী করে উপর থেকে ৩টি লাল রক্তের ফোঁটা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে লাল রক্ত ফোঁটাগুলো পানির ফোয়ারার সাথে টপটপ করে ঝরে পড়ছে। শিল্পীকে সহযোগিতা করেছেন শিল্পী শুভ বড়াই ও শিমুল দত্ত ও সাবিত্রী ত্রিপুরা।