সেই পাষণ্ড পিতা গ্রেফতার
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩
ভিক্ষাবৃত্তি করাতে চিপস খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছরের শিশু রবিউল ইসলাম শান্তর দুই হাত কেটে ফেলার অভিযোগে পাষণ্ড বাবাকে গ্রেফতার করেছে বনানী থানা পুলিশ। তার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বনানী থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, আট বছরের শিশু রবিউল ইসলামকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর জন্য জাহাঙ্গীর হোসেন গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শিশুটির দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিত্সা করানো হয়। এ ঘটনায় তার মা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আসামিকে খোঁজার পর মঙ্গলবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাওরান বাজার থেকে তাকে আটক করে।
শিশু শান্ত ও তার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট বছরের শিশু রবিউল ইসলাম শান্ত তার মা গৃহকর্মী নাসিমা বেগম ও সত্ পিতা হোটেল কর্মচারী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মহাখালী কড়াইল বস্তিতে থাকত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে শান্ত বস্তিতে খেলছিল। মা নাসিমা বেগম রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় শান্ত তার পিতা জাহাঙ্গীরকে দেখে চিপস কিনে দেয়ার জন্য আবদার করে। সত্ পিতা জাহাঙ্গীর চিপস কিনে না দিয়ে উল্টো তাকে ধমক দেয়। ঐ সময় শান্ত তার পিতাকে বলে উঠে, ‘তুমি কোন দিন কিছু কিনে দেও না? একটি চিপস চাইলাম তাও দেও না। তুমি কিসের বাবা।’ এ কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর ‘তোরে জনমের মত চিপস খাওয়াচ্ছি’ বলতে বলতে শান্তর হাত ধরে তাকে তেজগাঁও এলাকায় একটি মসজিদের কাছে জঙ্গলে নিয়ে যায়। তারপর শান্তর দুই পা চেপে ধরে বটি দিয়ে তার ডান হাতটি কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলে। এ সময় শান্ত চিত্কার করলে তার মুখ চেপে ধরে জাহাঙ্গীর। পরে পাষণ্ড জাহাঙ্গীর তার বাম হাতটিও কেটে ফেলে। এরপর শান্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে মাথা ও দেহের বিভিন্ন স্থানে বটি দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে চলে যায় জাহাঙ্গীর। এদিকে শিশুটির মা নাসিমা বেগম বেলা ২টা পর্যন্ত শান্ত বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাইকিং ও পরদিন বনানী থানায় জিডি করেন। ঘটনার পর থেকে তার দ্বিতীয় স্বামী জাহাঙ্গীর বাসায় যায়নি। তবে ঘটনার রাতে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নাসিমার দেখা হয়। তখন শান্ত নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলে, জাহাঙ্গীর আসছি বলে আর আসেনি। তার ভূমিকা প্রথম থেকেই সন্দেহজনক ছিল বলে নাসিমা জানান।
পুলিশ ও চিকিত্সক সূত্র জানায়, স্থানীয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শান্তকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তখন তার বাম হাতটি দেহের সঙ্গে ঝুলছিল। ডাক্তাররা হাতটি রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইনফেকশন দেখা দিলে হাতটি দেহ থেকে অপসারণ করতে বাধ্য হন। দুই সপ্তাহ পর শান্ত মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। অল্প অল্প কথা বলা শুরু করলে শিশুটিকে নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে ‘সচিত্র প্রতিবেদন’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকা দেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রোকশানা বেগম শিশুটিকে দেখার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। বিস্তারিত জেনে তিনি শান্তকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেন। গত ১৬ মার্চ তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেছে শান্ত।
প্রসঙ্গত, শান্তর মা নাসিমার প্রথম স্বামী কামাল ছিলেন গুলশান এলাকার সিকিউরিটি গার্ড। তার ঘরে শান্তসহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে রিয়াজ গুলশান ২ নম্বরে একটি ক্রোকারিজের দোকানে কাজ করে। জাহাঙ্গীরের ঘরে নাসিমার আরো একটি কন্যা সন্তান হয়। তার নাম রিচান, বয়স ৯ মাস।