এবার ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে তৈরি হবে বাড়ি!
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৫
ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার যেন প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন এক মাত্রা যুক্ত করেছে। গত কয়েক বছর ধরেই প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং নিয়ে। বছরখানেক আগেও অনেকেই ধারণা করেছিলেন এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার বাজারে আসতে আসতে আরও কয়েক বছর লেগে যাবে। তবে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করে ইতোমধ্যেই বাজারে নানা ধরনের ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার আসতে শুরু করেছে। শুরুতে অবশ্য বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের চকলেট তৈরির মতো কাজেই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার বাজারজাতের ঘোষণা আসে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার করে রোবট তৈরির ঘোষণা পর্যন্ত চলে আসে বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে রোবটের পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন করে দিলেই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের সাহায্যে তৈরি করা সম্ভব হবে রোবট। এদিকে মানুষের প্রতিরূপ তৈরির জন্যও ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার তৈরির ঘোষণা দেন অনেকেই। এর জন্য তারা ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার তৈরির ঘোষণাও দেন। আবার মোবাইল জায়ান্ট নকিয়া তার নতুন এক মডেলের হ্যান্ডসেটের জন্য পছন্দমতো কেসিং তৈরির ত্রিমাত্রিক কিটও বের করে। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার করে সেই কিটের সাহায্যে পছন্দের ডিজাইনের কেসিং তৈরির সুযোগ আছে। এতসব ঘটে যাওয়ার পর যারা ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের কার্যক্ষমতা নিয়ে খানিকটা বিস্ময় প্রকাশ করছেন, তাদের আরেকটু বিস্মিত করতে এবারে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের সাহায্যেই আস্ত একটা বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন কয়েকজন স্থপতি! ইতোমধ্যেই তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডিজাইনসহ বাকি কাজগুলো শুরু করে দিয়েছেন। আর তাতে করে ইট-বালু-সুরকি আর একগাদা লোকবলের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল্ডিং প্ল্যানের গ্রাফিক্সই তৈরি করে দেবে এই বাড়ি। শুনতে কল্পনা মনে হলেও বিশ্বের প্রথম একটি ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে তৈরি বাড়ি নিয়ে গবেষণা চলছে ভালোভাবেই।
এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ডাস আর্কিটেক্টস’। নেদারল্যান্ডের এই আর্কিটেক্ট ফার্মটি নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে একটি বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই তারা একটি বাড়ি তৈরির কাজেই হাত দিয়েছেন, যেটি কি না তৈরি হবে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের সাহায্যে। যে প্রিন্টারটির সাহায্যে এই বাড়িটি তৈরি করা হবে (বলা ভালো, প্রিন্ট করা হবে), তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেমারমেকার’। ডাচ এই শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘ঘর তৈরিকারক’। একে একটি বিস্ময়কর যন্ত্র বলেই অভিহিত করছেন বিজ্ঞানীরা। চকচকে ধাতব বাহিরাবরণের এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার তৈরি করা হয়েছে মূলত শিপিং কনটেইনারের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে। উচ্চতায় এটি ৬ মিটার বা ১৯ ফুট ৮ ইঞ্চি। আর এর ভেতরকার অংশ ছোটখাট একটি ঘরের মতোই।
বাড়ি প্রিন্ট করার কাজে এতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক, কাঠ এবং সমরূপী ফাইবার। প্রথমেই এটি কাঁচামালগুলো দিয়ে তৈরি করবে বাড়ির বাইরের দেয়ালগুলো। বাড়ির পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান থেকে এরপর এটি তৈরি করবে বাড়ির প্রতিটি ঘরের সিলিং বা ছাদ। ঘরগুলো তৈরি হয়ে গেলেই এটি ঘরের আসবাবপত্রগুলোও তৈরি করে ফেলবে। আলাদা আলাদা করে এসব অংশ তৈরির পর এগুলোকে অনেকটাই ‘লেগো’ বলে মনে করা যেতে পারে। এগুলোকেই পরবর্তীতে বাড়ির ডিজাইন অনুযায়ী ইস্পাতের সাহায্যে পরস্পরের সাহায্যে সংযুক্ত করা হবে। আর সেভাবেই তৈরি হয়ে যাবে বাড়িটি।
এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট দুই স্থপতি হেডউইগ হেইন্সম্যান এবং হ্যান্স ভারমিউলেন যথেষ্টই উত্তেজিত এই বাড়ি নিয়ে। তারা জানান, বাড়ির প্রতিটি অংশ তৈরির সময় প্রিন্টারটি একটির পর একটি স্তর সংযুক্ত করে। তারা জানিয়েছেন, এই বছরের মধ্যেই বাড়িটির মৌলিক কাঠামো তৈরি হয়ে যাবে। আর তারপর সামনের বছরেই চূড়ান্তভাবে তৈরি হয়ে যাবে এই বাড়ি। এই দুই স্থপতির সাথে অবশ্য ডিজাইনার এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামারের বড় একটি দল কাজ করে যাচ্ছে এই প্রকল্পে। সকলে মিলেই তৈরি করছেন বাড়ির ত্রিমাত্রিক কাঠামোর চূড়ান্ত ডিজাইন। ওপেন সোর্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে একটু ছোট আকারেই তারা বাড়িটির ত্রিমাত্রিক ডিজাইনটি চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। তৈরির সময় বাড়ির কাজ শুরু হবে নিচ থেকে। আর এই বাড়ির উপরের অংশটি ডিজাইনের দিক থেকে হবে অনন্য, এমনটাই আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।