বাংলাদেশ গেমস
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরেই যত আয়োজন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০১
ক্রীড়াবিদদের পারফরমেন্স নিয়ে ভাবছে না অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা (বিওএ)। গতকাল বুধবার পর্যন্ত সংগঠকদের কায়কারবার দেখে মনে হচ্ছে গেমসটিতে ক্রীড়াবিদের পারফরমেন্স মুখ্য নয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরেই যত আয়োজন সংগঠকদের।
কারণ পুরো গেমসকে ছাড়িয়ে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জানা গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই ব্যয় হতে পারে আট কোটি টাকা। ২০১০ সালে এসএ গেমস এবং ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ গেমসের শুরুতে। তাই খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের দিকে নজর নেই। রাত-দিন পরিশ্রম করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বর্ণিল করে তোলার চেষ্টাই হচ্ছে মুখ্য। এ ব্যাপারে কোথাও কোনো কার্পণ্য নেই। চোখ-ধাঁধানো এবং মনমাতানো একটা অনুষ্ঠান করার চেষ্টাতেই ব্যতিব্যস্ত সংগঠকরা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম শিশু-কিশোর আর শিল্পী-কলাকুশলীদের ভিড়ে ঠাসা। অন্যসব অনুষ্ঠানের মতো করে নয়, এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় গেমসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ডিজিটাল বোর্ডের ওপর স্বাক্ষর করে গেমসের উদ্বোধন করবেন। গ্যালারিতে এক পাশে সাদা পর্দায় স্বাক্ষর অন্য পর্দায় ভেসে উঠবে শুভ উদ্বোধন। তার আগে বিকাল চারটায় আকর্ষণীয় এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। স্টেডিয়ামে মাঠের মাঝখানে সাদা রংয়ের আট ফুট উঁচু এবং ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চে থিম সঙ্গীত গাইবেন সুবীর নন্দী, শাকিলা জাফর, ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার এবং কনা। সঙ্গীতের সাথে সাথে শিশুরা দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকাটি মেলে ধরবে। সাত বিভাগের নামে সপ্তভুজ মঞ্চ এবং তার চারপাশে এদেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত এবং স্মৃতিময় ঘটনাগুলো মায়াবী করে তুলে ধরা হবে। মশাল প্রজ্বলনে থাকবে চমক। সব কিছুতেই থাকবে আধুনিক পদ্ধতি। জুম্মন লুসাই মশালের গোড়ায় সংস্পর্শ ঘটানোর সাথে সাথেই ফায়ার বলগুলো জ্বলে উঠবে। দুই পাশ দিয়ে সেই আগুনের লেলিহান শিখা উপরে গিয়ে মূল মশালে পৌঁছাবে। সেখানেও থাকবে আরেক চমক। আগুনের ভেতর থেকে আলোর ফোয়ারা নিচে পড়বে। রং-বেরংয়ের পাতার ঝরনা ধারায় স্টেডিয়াম বর্ণিল হয়ে উঠবে। লেজার শোতে পর্দায় ভেসে উঠবে আলোর ঝরনা ধারা। গোটা স্টেডিয়ামে দর্শকের গায়ে থাকবে আলোর খেলা। তার সাথে থাকবে শব্দ তরঙ্গের খেলা। এসব বিভিন্ন কাজের জন্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছে বিশেষজ্ঞ। তিন বাহিনীর ৪০০ জনের ব্যান্ডদল এদেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মৃতিময় জাতীয় বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরের ধারায় ১০০ শিল্পী গান গাইবেন। থাকবেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীরা। শংকর সাজোয়ালের নেতৃত্বে ৬০০ শিল্পী এদেশের অতীত থেকে বর্তমানে উত্তরণ এবং স্বাধীনতার সাথে খেলার সম্পৃক্ততাকে তুলে ধরবেন। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান, মাছ ধরা সবই দেখানো হবে। সবকিছুই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সবশেষে থাকবে আকাশে ১০ মিনিটের আতশবাজির খেল। এসব আতশবাজি আনা হয়েছে চীন থেকে এবং বিশেষজ্ঞ আসছেন ইউরোপ থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্টেডিয়ামের বাইরে দুটি স্থানে বড় পর্ড়ায় দেখা যাবে।
অনুষ্ঠানের কর্মযজ্ঞে জড়িতরা মনে করছেন ‘যারা অনুষ্ঠান মাঠে বসে দেখবেন তারাই ভাগ্যবান।’ কিন্তু বিওএ যেভাবে সংশ্লিষ্টদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিলি করেছে তাতে দেখা যায় সাধারণ দর্শকদের টিভিতে উপভোগ করতে হবে। বিওএ’র ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বললেন বিকাল চারটায় গ্যালারির গেট খুলে দেয়া হবে। যারা ঢুকবেন তারা অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন। কিন্তু দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বলছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে যা ভেদ করে প্রবেশ করাটা সাধারণ দর্শকের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।