শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০৩
প্রকৃত দেশপ্রেমই পারে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যেতে
নির্বাচন মানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। দেশের ও জনগণের ক্ষতি করা নয়। দেশ কারো বাপের সম্পদ নয়, জনগণ কারো গোলাম নয়। তাই জনগণের উপর গুরুত্ব না দিয়ে কোন কাজ করা উচিত নয়। যেমন: হরতাল, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করে দেশটাকে ক্ষতির মুখে ফেলানো, কোন দেশের জনগণই এটা আশা করে না। আইন না মেনে মনের মতো কার্যকলাপ করা তো কোন মানুষের কাজ নয়, বরং তা নিতান্তই বিবেকবর্জিত কাজ। দেশের সব রাজনৈতিক দলই সবসময় গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণের কথা বলেন। কিন্তু ক্ষমতা নামক সোনার হরিণটি পাওয়ার পর-পরই তারা তাদের নিজেদের দেয়া কথা ভুলে যান। বর্তমানে দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাজ করছে প্রচণ্ড উত্তেজনা। এ উত্তেজনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার, সংঘাত ও সহিংসতার। কারণ সরকারি দল বলছে তারা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করবে। আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তাই দুই দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অনিবার্য সংঘাত ও রক্তপাত। হরতাল, অবরোধের মাধ্যমে জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংস তো এখনকার নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। পরিশেষে একটি কথা, আসুন আমরা সবাই সুন্দর ও সহনশীল আচরণ প্রদর্শন করে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার পূর্বশর্ত ব্যক্ত করে, এই দেশকে সুন্দর ও সার্থক করে গড়ে তুলি। আর এভাবেই আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করার আয়োজন করি।
ইসরাত জাহান সোনিয়া
একাদশ, বাণিজ্য
বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রী কলেজ
বামনা, বরগুনা
সংলাপ ও সমঝোতা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মূলমন্ত্র
একটি স্বাধীন সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি হলো নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল জনগণের চিন্তা, চেতনা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটে। জনগণ স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহণের একমাত্র পাথেয় মনে করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে। কিন্তু হায়! সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মুক্ত আকাশটা আজ কালো মেঘের চাদরে ঢেকে যাওয়ার উপক্রম। সহিংসতা এবং প্রতিহিংসার বিজলীও চমকাচ্ছে সেই আকাশে। তাইতো এ দেশের স্বপ্নচারী মানুষগুলো আজ শংকিত। চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে তারা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে যে কখন তারা পরস্পরের সাথে সংলাপ ও সমঝোতার সেতুবন্ধন তৈরি করবে। যে সেতুবন্ধনের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন সুশীল সমাজের অনেক সুদক্ষ কারিগর। যারা সর্বদা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সংলাপ ও সমঝোতার জয়গান গেয়ে থাকেন। তাই আর বিলম্ব না করে সংলাপ ও সমঝোতার পথে তাদের এখনই যাত্রা শুরু করা উচিত। আর তা না হলে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আকাশে স্বপ্নের সোনালি সূর্য কখনো উঁকি দেবে না। সর্বোপরি মনে রাখতে হবে যে সংলাপ ও সমঝোতাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত।
মো. শাহিনুর রহমান (শিমুল)
স্নাতক সম্মান, ২য় বর্ষ, ইংরেজী বিভাগ
শেরপুর সরকারি কলেজ, শেরপুর
দুই দলের শান্তিপূর্ণ আলোচনাই হতে পারে নির্বাচনের পূর্বশর্ত
বর্তমানে দুই দলের মধ্যে যে অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে এই পরিস্থিতিতে কোন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বর্তমানে নির্বাচনকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এই সংঘাতময় অবস্থা উত্তরণের একমাত্র উপায় দুই বৃহত্তর দলের গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা। এই শান্তিপূর্ণ আলোচনাই হতে পারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পূর্বশর্ত। এই শান্তিপূর্ণ আলোচনার জন্য ক্ষমতাসীন দলকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদেরকেই আলোচনার জন্য ডাকতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে। সর্বোপরি আমাদের মনে রাখা দরকার নির্বাচনই গণতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতা পরিবর্তন ও জনগণের মতামতের বহিঃপ্রকাশ। সর্বোপরি আমাদের রাজনীতি ব্যক্তিদের মন-মানসিকতা ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে না হয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির স্বার্থে হওয়া দরকার এবং এ বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে দেশকে সংঘাতময় অবস্থা থেকে উত্তরণ ও গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন অনিবার্য। আর এ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য চাই দু’দলের আলোচনা। এ আলোচনার মাধ্যমে দেশ এ সংকটময় অবস্থা থেকে উঠে আসতে পারবে।
আব্দুল মজিদ (সাবু)
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
১ম সেমিস্টার, ১ম বর্ষ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
দ্বিমুখী নীতি কি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতীক হতে পারে?
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশে সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে নির্বাচন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে তা গৃহযুদ্ধের নমুনা মাত্র। পৃথিবীর বুকে নরওয়ে একমাত্র প্রথম গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান খুব খারাপ অবস্থায় ধাবিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রতিহিংসা এবং দ্বিমুখী নীতি। কোরআন পাকে আছে— যারা দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করবে তারা মুনাফিকের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং জাহান্নামের নিম্নস্তরে পতিত হবে। তাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই দেশের প্রধান দলগুলোকে একমত পোষণ করে দ্বিমুখী নীতি বয়কট করতে হবে।
মো. তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স)
একাদশ, বাণিজ্য
বামনা সারওয়ারজান ম. স্কুল এন্ড কলেজ
কলাগাছিয়া, বামনা, বরগুনা
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কালো মেঘের আড়ালে ঢেকে যাচ্ছে
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র শব্দটি সাগরের গভীরে ডুবে যাচ্ছে। রাজনৈতিক হানাহানি ও ক্ষমতার লোভে রাজনৈতিক দলগুলো হিংস্র দানবে পরিণত হয়েছে। মানুষের রক্তের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষুধা মিটাতে ব্যস্ত। বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে। যার কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। নির্বাচন যত নিকটে উপস্থিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে তত বেশি আতঙ্ক বাড়ছে। আর মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি না? এই প্রশ্নের উত্তরে ৯৯ ভাগ লোকই বলবে সম্ভব নয়। পরিশেষে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের আহ্বান- তারা যেন সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
মো. আব্দুর রহমান সুমন
বিএসএস, সরকারি তোলারাম কলেজ
ও বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ