নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এক গেমস

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর নয়, নিরাপত্তা নিয়ে কম-বেশি আশঙ্কা আছে। এমন এক পরিস্থিতিতে আগামীকাল জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে পর্দা উঠবে মাঠে গাড়তে যাচ্ছে ৮ম বাংলাদেশ গেমস। আর এই গেমসকে শঙ্কামুক্ত রাখতে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট দেশের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীগুলো। তেমনই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্বেধনী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সমাপনী পর্যন্ত; নয় দিনের এই গেমসে সর্বত্র থাকবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, তার জন্য দেশের সব কয়টি গোয়েন্দা সংস্থা গত কয়েকদিন ধরে রাত দিন কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল চারটা থেকে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকাল থেকে স্টেডিয়ামের ইলেক্ট্রনিকস দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার স্টেডিয়ামের চার দিকে নিরপত্তা বেষ্টনি দিয়ে ঘিরো ফেলা হবে। গেমস সংশ্লিষ্ট ব্যতীত অন্য কোনো সাধারণ চলাচল থাকবে না। নিরাপত্তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর এবং সুইপিং মেশিন দিয়ে তল্লাশী করা হবে, সাথে থাকবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘ডগ স্কোয়াড’। ২৫ হাজার ৬৭০ আসনের স্টেডিয়াম; উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাধারণ দর্শক গ্যালারিতে ১২ হাজার ৫৭০ জন দর্শক বসতে পারবেন বলে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানা হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া আর কেউ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিওএ’র মহাসচিব সাহেদ রেজা অবশ্য জানিয়েছেন, ‘আগে যারা আসবেন তারা বসবেন। সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না। তিনি বলেন স্টেডিয়ামের বাইরে বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা থাকবে।’ বর্তমান রাজনীতিতে অনেক ধরনের নাশতকামূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে। অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বিষয়টি মাথা রেখে আইন-শৃংখলা বাহিনী তত্পরতা বাড়িয়ে দেবে শনিবার। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখভাল করার জন্য মনিটরিং সেল করা হয়েছে। কয়েক ধাপে তল্লাশী করা হবে দর্শকদের। ভারী কোনো বস্তু নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি নাশকতা সৃষ্টি হতে পারে, সেই আশঙ্কায় দর্শকদের তরল পদার্থ নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে গতকাল জানিয়েছেন নিরাপত্তা ও আইন-শৃংখলা কমিটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। স্টেডিয়ামের ভেতের দর্শকদের মধ্যে মিশে থাকবেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সব মিলিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় সাড়ে সাত হাজার নিরাপত্তা সদস্য। শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানই নয়, যেসব স্টেডিয়ামে খেলা হবে, সেখানেও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন তিন হাজার নিরাপত্তা সদস্য উপস্থিত থাকবেন। ২৯টি ভেনুতে খেলা হবে। কেউ চাইলেই ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারবে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ম্যারাথন দৌড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ গেমসের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। একটি সূত্র বলছে, ‘বোস্টনের বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা আমরা ভালোভাবে জানতে চেষ্টা করেছি। সে ধরনের কোনো অঘটন যেন না ঘটে তার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুততিতে অন্যরা ছাড়াও দায়িত্ব পালন করছে পাঁচশ’ সেনা সদস্য। এই দায়িত্ব পালন করছেন নবম পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা। ‘গেমস সিরিমনি কমিটি’র সদস্য সচিব লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, ‘একটা ভালো মানের ও নিরাপদ অনুষ্ঠান করতে আমাদের মেধা আর মনন নিয়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেয়ার চেষ্টা করেছি।’