টেলিফোনে পাঠকের মতামত

‘সরকার বুঝতে পারছে না পরিণতি কী ভয়াবহ হবে’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা অতীতে আওয়ামী লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধান সংশোধনপূর্বক প্রবর্তন করেছিল। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রায়ে আরো দুটি পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালনার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকার কোন কিছুই বিবেচনায় না রেখে সেটি বাতিল করে। এমন অবস্থায় বিরোধীদলের আন্দোলনে দেশে বর্তমানে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের সচেতন ও বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল মহল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার সামান্যতম আগ্রহও দেখা যাচ্ছে না। সুতরাং আলোচনার পক্ষে যাদের সায় নেই তাদের বেলায় বেগম খালেদা জিয়ার মন্তব্য অনেকটাই গ্রহণযোগ্য। তবে আমরা এখনো আশাবাদী দেরিতে হলেও বরফ গলবে। আলোচনাও হবে, সমাধানও হবে। আর আমাদের এই আশা যদি নিরাশায় পরিণত হয় তবে তার খেসারত সবাইকে দিতে হবে। এম এ রহমান ১৬ দিলকুশা বা/এ, বলিয়াদী ম্যানশন (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা ১০০০ এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মামলায় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গত এক বছরে সরকার ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের ২৮২ জন প্রথম সারির নেতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। এই আসামি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-সহাসচিব। তাহলে রাজনীতি করা কি চুরি, ডাকাতি, খুন ও রাহাজানি তুল্য যে কথায় কথায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করতে হবে? আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পরিবারকে হয়রানি না করার জন্য সরকারকে সতর্ক করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা এই সরকার পাগল হয়ে গেছে, তারা বুঝতে পারছে না এর পরিণতি কী ভয়াবহ— কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সরকার যদি মনে করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে তারা যাই করবেন তাই সঠিক তাহলে তাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মন্তব্যকে আমলে নেয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করবো। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেই সরকার বৈধ বিবেচিত হয় না। মনে রাখবেন সেই আস্থার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কাজেই সময় থাকতে সরকারকে সজাগ হতে হবে, সজাগ হওয়ার সময় কিন্তু এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলানের মন্তব্যও সরকারকে পদচ্যুত করার জন্য যে কোনো এক বা একাধিক অপ্রত্যাশিত ঘটনাই। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী, ৫ বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩ সরকার যা করছে তা বুঝে শুনেই করছে। আমাদের অনেকের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার ক্রমশ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং তার লাগাম টানার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর কোনো শক্তি নেই। অন্যদিকে বিরোধী দল সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের এ বক্তব্য সময়োপযোগী। দেশের চলমান অস্থির পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহল থেকে সংলাপের জোরালো দাবি উঠেছে। কিন্তু বরাবরের মতো এখনো কোনোপক্ষের আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। সরকার ও বিরোধীদলের কঠোর অবস্থানে সংঘাতের চিরচেনা পথেই ধাবিত হচ্ছে দেশ। এ পথ পরিহার করে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। অতিসম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নাকচ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে অতীতে তাঁর আন্দোলনের কথা মনে করে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিরোধীদলের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সে কারণে বিরোধীদল দিনের পর দিন হরতাল দিচ্ছে। সরকার হরতাল প্রতিহত করার কোনো পথ বের করছে না। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে এবং প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রাক চালক খোকন মিয়া হরতালে নিহত হয়েছেন। এই খোকন মিয়াদের পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? বিরোধী দল নাকি সরকারি দল? মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সারিয়াকান্দী, বগুড়া এই সরকারের মেয়াদ যত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে আসছে সরকারের পাগলামিটা ততই বেড়ে গেছে। মনে রাখা দরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। শামিম হাসান দক্ষিণ চেপাখোলা, ফরিদপুর গত ১১ এপ্রিল আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে সরকার স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পথে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন গণতন্ত্রের জন্য তা মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সরকার শুধু তা করেই থেমে থাকেনি। মাহমুদুর রহমানের পরিবারও আজ হয়রানি হচ্ছে। হামলা, মামলা থেকে বাদ যায়নি মাহমুদুর রহমানের বয়োবৃদ্ধ মাতা। আর এ কারণেই বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া মন্তব্য করেছেন যে, ‘সরকার বুঝতে পারছে না এর পরিণতি কী ভয়াবহ হবে’। অতীতের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে অতি বাড়াবাড়ি কোনো সরকারকেই ভালো কিছু দিতে পারেনি। বরং ঠেলে দিয়েছে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে। কিন্তু নাছোড়বান্দা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা। অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন না। যে কোনো মূল্যে ক্ষমতা চাই মন্ত্রে দীক্ষিত তাঁরা। ডা. মর্জিনা আক্তার বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার, গুলশান, ঢাকা ১২১২ সার্বিক অবস্থা ও বাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, দেশ এখন উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠেছে, লাভা উদগীরণের ভয়ে দেশবাসী আতংকের মধ্যে আছে। রাজনীতি হয়ে উঠেছে কুিসত স্ববিরোধিতায় ভরা। যা জননিরাপত্তার জন্য রীতিমতো হুমকি। এই যখন অবস্থা ঠিক সেই সময় ‘আমার দেশ’ দৈনিকটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রফতার করে সৃষ্ট সমস্যা চুলকে ঘা করা হয়েছে, উপরন্তু মাহমুদুর রহমানের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিবান্ধব না। এ অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পরিবারকে হয়রানি না করার জন্য সরকারকে সতর্ক করে সরকারের পাগলামির জন্য ভবিষ্যত্ ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বহু বিশ্লেষণে আমাদের অভিমত হলো, সরকার ক্লোজিংইয়ারে এসে অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এর সমাধানিক পথ খুঁজে বের করতে হবে সরকারকে। প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক যা কিছু জনঅস্থিরতা বাড়াতে পারে এই ধরনের পথ ও মত পরিহার করতে হবে। জনদাবি তা যত ছোটই হোক না কেন তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রথমে ধন্যবাদ, পরে হাফ ছেড়ে বাঁচার পরিবেশ পেয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে বলে খেপিয়ে তোলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। রাষ্ট্রের বর্তমান সৃষ্ট সমস্যার অব্যর্থ মহাষেধক হচ্ছে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ পুনর্বহাল করা। সকলপক্ষের শুভ বিবেক-বুদ্ধির উদয় হোক— এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। মুরাদ হোসেন, মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর যে সরকার জণগণের বাকশক্তি বন্ধ করার অপচেষ্টা করে, স্বাধীন মিডিয়ার সত্য প্রকাশে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে, মিথ্যা মামলার বেড়াজাল সৃষ্টি করে জনসাধারণের হয়রানি করে, যে সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারে না, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, নিরাপত্তার নামে পুলিশ দিয়ে হত্যার মাধ্যমে শত মা-বাবার বুক খালি করে সে সরকার পাগল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর উন্মাদ আচরণের ফল ভয়াবহ হবে এটাই অবশ্যম্ভাবী। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতার লোভ পরিহার করে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত করে, বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা। কামরুল হাসান (নাজমুল) আইন বিভাগ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমার দেশের প্রকাশনা বাতিল করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। যদি তা হয় তাহলে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে হঠাত্ করে এভাবে গ্রেফতার করে নির্যাতনের প্রয়োজন কেন? শিশির আজিমপুর, ঢাকা মানুষ আজ হতাশ রাজনীতির প্রতি। গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে রীতিমত। প্রতিনিয়ত উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন ব্যবসায়ী সুধী সমাজ ও বিদেশি কূটনীতিকরা। এতেও সরকারের কোন মনোযোগ নেই। অথচ সরকারেরই সমঝোতার বিষয়ে এগিয়ে আসা দরকার। কাউছার আকন্দ মতিঝিল, ঢাকা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, সমঝোতার জন্য এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সংলাপ। ফারুক আহমেদ মালিবাগ, ঢাকা ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে যে আমার দেশ পত্রিকা ছাপা হয়েছে তার বিচার হওয়া দরকার। সুমন সরকার টঙ্গী, ঢাকা বিরোধীদলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঠিকই বলেছেন, আসলেই সরকার পাগল হয়ে গেছে। তা না হলে দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আবারও ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো না। এর ফলে এই সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও নির্যাতনের খবর আরো দ্রুত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষমতাবানরা ক্ষমতার মোহে অনেক কিছুই ভুলে যায়। ঠিক আমাদের সরকারেরও একই অবস্থা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম তানভীর মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট আমি মনে করি এটার সাথে যুক্তিগত অনেক কারণ আছে। কারণ দেশে ভয়াবহ অবস্থা চলছে—কারোর কথা কেউ কানে নিচ্ছে না। সরকারের সদয় হওয়া উচিত সমঝোতার মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা। শফিউর রহমান বনানী, ঢাকা একটা পাগল তার ভালোমন্দ বোঝে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেটাও বুঝতে পারছে না। মো. রাসেল হোসেন, ফরিদপুর বিরোধীদলীয় নেত্রী তার অবস্থান থেকে সংগত কারণে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে এমন কথা বলেছেন। আমি বলবো গাদ্দাফীর তেড়া একগুঁয়েমি আর ঘাওড়া প্রেতাত্মা মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিনা পাসপোর্টে চোরাপথে বাংলাদেশে উড়ে এসে আমাদের বর্তমান সরকারের উপর আছর করেছে। তাই তাঁরা সমাজের ব্যক্তিদের জনদুর্ভোগ কমাতে কাজের সত্ পরামর্শ সত্ উপদেশ দুর্গন্ধময় ভেবে তাচ্ছিল্যের সাথে একের পর পর বুড়িগঙ্গার দূষিত পানিতে নিক্ষেপ করে চলেছেন। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বাংলাদেশে এযাবত্কালে যারাই সরকার গঠন করেছে তারাই বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে শুরু করে; কিন্তু শেষে ব্যাপক ধস নামে বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত। তিনি যথার্থই বলেছেন। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী বিরোধীদলীয় নেত্রী যে কথাটা বলেছেন সেটা সঠিক। সেটা শুধু সরকারের জন্য নয়। আমি বিরোধী দলের নেত্রীকে বলছি, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশবিরোধী লোকের সঙ্গে হাত মিলালে সেটা ঠিক হবে না। দেশ যখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে তখন আপনারা ক্ষমতায় গিয়ে কী করবেন? সরকারি দল ও বিরোধী দল দু’দলকে বলছি, এদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব নিয়ে আর খেলা করবেন না। সৈয়দ হায়দার আলী মহাখালী, ঢাকা রাজনৈতিক বক্তব্যকে আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। সেটা সরকারি দলের হোক কিংবা বিরোধীদলের হোক। কারণ মানুষ স্বস্তিতে, শান্তিতে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায়। সেই বাংলাদেশে বাস করতে চায়। আর রক্তপাত নয়, পুলিশের গুলি, টিয়ার গ্যাস নয়। গাড়ি পোড়ানো নয়। রেললাইন ওঠানো নয়। সহিংস রাজনীতি নয়। হরতাল নয়। ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনারা যাঁরা রাজনীতি করেন ঠিক করুন আগামী বাংলাদেশ কেমন হবে। মন্জু খন্দকার চুয়াডাঙ্গা বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছেন, আগামী দিনে সরকারের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী আজ যে জায়গায় আছেন তিনি নিজেকে নিয়ে ভাবুন— কোথায় আছেন। আপনি কেন জনগণকে ভয়াবহতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন? আপনার জানা উচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে কিছু বলা মানে জনগণকে বলা। জনগণই তখন বুঝবে কেমন ভয়াবহ হবে। ফারুক আহমেদ বাগমারা, রাজশাহী আসলেই পরিণতি ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা আছে। আমরা চাই শান্তিতে বসবাস করতে। এভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করলে অবশ্যই মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে এবং দেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ অবস্থায় যেতে পারে। আবুল আসাদ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন ‘এ সরকার পাগল হয়ে গেছেন’। সরকার তো ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে। তবে কি দেশের দায়িত্বশীল মানুষগুলো পাগল হয়ে যাচ্ছে। তাহলে সরকারের উচিত দেশের উন্নয়নশীল কর্মকাণ্ডের সাথে জেলায় জেলায় পাগলাগারদ তৈরি করা। সেখানে জেনারেল এসি থাকা দরকার। যেন সকলে মিলে ভয়াবহ সমস্যাগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। আশা এলিজাবেত গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক পরিবেশ হতে হবে সৌহার্দ্যময়। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি সমঝোতায় আসতেই হবে। শহীদুল ইসলাম মোখলেছী মিরপুর ক্যান্ট, পল্লবী, ঢাকা আমরা মনে করি সহিংসতা কোনো সমাধান আনবে না। দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে সংলাপে বসতে হবে। রিফাত ঝিনাইদহ গত বছরের নভেম্বর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই চাপ এখন দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যা বলেছেন সেটা কোনোভাবেই ভুল নয়। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে এভাবে ধরা মোটেও উচিত হয়নি। মাসুম আহাম্মদ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা ১৩৬২ নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা থাকলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি চায়। এটা দুই বড় দলের দায়িত্ব এখন। খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিরোধী দলের হরতালসহ সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রয়োজন এখন দুই দলের সংলাপ। আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মোমেনউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযোদ্ধা, পশ্চিম মনিপুর, মিরপুর ২, ঢাকা আমি বলবো এই মুহূর্তে দুই নেত্রীকে একসঙ্গে বসে দেশে বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে তার করা। কারণ সাধারণ মানুষ চেয়ে আছে তাদের দিকে। একটু শান্তি-শৃঙ্খলা দরকার এখন। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা দেশে বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতার মাঝেও একটি সুখবর হলো বাংলা নববর্ষ ১৪২০ সনের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী উভয়ে শুভেচ্ছাকার্ড বিনিময় করেছেন। আমরা চাই দুইজনের সব সময় এরকম সৌহার্দ্যময় আন্তরিকতা। সংঘাত কোনো সমাধান এনে দেয় না। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে যে উক্তিটি করেছেন তা আমরা মেনে নেবো না। সরকার কেন পাগল হবে? সরকারের উপর অনেক দায়িত্ব থাকে। সে দায়িত্ব সরকারের এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই। সুতরাং এখন প্রয়োজন বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে। আবদুল মালেক জিয়া মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া কথাটি যথার্থই বলেছেন। সরকারকে এখনই যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। কারণ এই ভয়াবহ অবস্থা—হরতাল, অবরোধ, হিংস তা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। এক্ষেত্রে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের কিছুই হচ্ছে না বা হবে না। গিয়াসউদ্দিন হোসেন মার্কেট, চৌমুহনী, নোয়াখালী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া “এই সরকার পাগল হয়ে গেছে, তারা বুঝতে পারছে না এর পরিণতি কী ভয়াবহ হবে” বলে যে উক্তি করেছেন তার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। মো. সেলিম মহাখালী, ঢাকা বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাহমুদুর রহমানের পরিবারের পক্ষ নিয়ে যে হুমকি সরকারকে দিয়েছেন, তা দেশবাসীর কাম্য নয়। মাহমুদুর রহমান একজন নিরপেক্ষ সম্পাদক নন, তিনি একটি দলের হয়ে কাজ করেন এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বানচালের জন্য আমরা দেশ পত্রিকার মাধ্যমে যে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। এ জেড এম খাইরুল হুদা রাসেল ধুমসাহাদ্দা, সদর উপজেলা, ফেনী এই সরকার পাগল হয়ে গেছে— বিএনপি চেয়ারপার্সনের এ বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়। ব্লগ ও ব্লগারদের নিয়ে মাহমুদুর রহমান যে সংবাদটি প্রকাশ করেছেন তার উদ্দেশ্য যত না ছিল প্রিয় নবীর অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো তারচেয়ে শতগুণ বেশি সহিংসতা ছড়ানো এবং এর একটাই অর্থ বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ক্ষমতাচ্যুত করা। বিএনপি চেয়ারপার্সন মাহমুদুর রহমানের পাশে দাঁড়ালেন, অথচ সহিংসতার ফলে যাঁরা খুন হলেন, যাঁদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হলো তাঁদের কথা ভাবলেন না। তিনি মাহমুদুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকারান্তরে সহিংসতাকে উসকে দিলেন এবং খুন ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়াকেই সমর্থন করলেন। মাহবুবুল হক ইকবাল দক্ষিণ আলেকান্দা, বরিশাল বেগম খালেদা জিয়া এযাবত্ যতগুলো বক্তব্য দিয়েছেন তার মধ্যে সরকার পাগল হয়ে গেছে, তারা বুঝতে পারছে না এর পরিণতি কী ভয়াবহ হবে—তার একথার ইঙ্গিত অত্যন্ত পরিষ্কার যে, তিনি আলোচনায় সরকারের সাথে বসতে রাজি নন। বরং ভয়াবহ পরিণতি দেখার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার এই ইঙ্গিতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, জামায়াত-শিবিরকে রক্ষা করতে তাদের নিয়ে একটি ইসলামপন্থি সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন— এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে রাজনীতিবিদরা খেলা শুরু করেছেন। এতে লাশ পড়ছে, রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। তাই বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুনে মনে হয় জনগণকেও এই ভয়াবহ পরিণতি দেখতে হবে। শাহ মো. হেলাল উদ্দিন হিরা কালিহাতী, টাঙ্গাইল শুধু মাহমুদুর রহমান নন, দেশের যে কোনো নাগরিকের মানবাধিকার লংঘিত হলে, অযথা কাউকে হয়রানি করা হলে কিংবা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে কাউকে অহেতুক হেনস্থা করা হলে সেক্ষেত্রে আমাদের সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেত্রীর উষ্মা প্রকাশ করা যুক্তিসঙ্গত। তবে আমাদের ভাষা-পরিভাষা প্রয়োগে আরও যত্নশীল হতে হবে। এমন কিছু করা কিংবা বলা যাবে না যাতে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী আস্কারা পায় কিংবা কেউ যাতে আবার রাগান্বিত হয়। কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মো. শহীদুর রহমান কাকিনা, লালমনিরহাট বিরোধী দলের নেত্রীর কথা সঠিক। নষ্ট- ভ্রষ্ট কমিউনিস্টদের কারণে আওয়ামী লীগ বিভ্রান্তির পথে চলছে। খান সারওয়ার বাচ্চু ১৬৭ পুরানা পল্টন, ঢাকা আমরা সাধারণ মানুষ মনে করছি দেশ ভয়াবহতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার কথার সঙ্গে একমত। মনজুরুল আলম সেকশন ১৩, মিরপুর সরকার বুঝতে পারছে না এর পরিণাম কী ভয়াবহ হবে— এ কথাটি যখন বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে কেউ উচ্চারণ করেন তখন কথার কথা হিসাবে তাকে মেনে নেয়া যায় না। আমাদের এখানে বক্তব্য একটু ভিন্নরকম। তা হলো ঐ কথাটি কখন, কেন, কী উদ্দেশ্যে এবং কাকে লক্ষ্য করে বলা হলো সেটি বিবেচ্য বিষয়। এই ব্যাখ্যাটুকু যদি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয় তবে বক্তব্য বুঝতে খুব বেশি কষ্ট হয় না। দেশের নানাবিধ সমস্যা বর্তমান। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, বেকার সমস্যা, বিদ্যুতের ঘাটতি, হলমার্কসহ শেয়ারবাজার কেলেংকারি তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে বিরোধী দলের একাত্মতা কতখানি তা জনগণ দেখতে চায়। আমরা দেশের বড় বড় নেতার কাছ থেকে বাস্তবসম্মত বক্তব্য এবং সিদ্ধান্ত বিষয়ক কর্মসূচি আশা করি। হেলাফেলা করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে কখনোই তা জনগণ গ্রহণ করে না। সবশেষে বলতে চাই, কোনো অবস্থায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না। সাংবাদিকদের কলম স্তব্ধ করার প্রচেষ্টাও মঙ্গলজনক নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে সাংবাদিকতার নামে কেউ যদি সাম্প্রদায়িকতা বিষবাষ্প ছড়াতে চায় তাকে তখন যথোপযুক্ত বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। ওয়াহিদ মুরাদ নেছারাবাদ, পিরোজপুর রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি। বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের উপর সরকার যে দমন ও নিপীড়ন চালাচ্ছে তাতে সবাই শঙ্কিত। দেশের সমস্ত বিনিয়োগ খাতকে আজ মাশুল গুনতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষকেও নিত্যদিন নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সুতরাং এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। আইরিন সুলতানা সনজু ধূপপুর, মাইজপাড়া সরকার আসলে বেসামাল হয়ে গেছে। গত চার বছর ধরে খুন, গুম, রাহাজানি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মহোত্সব চলছে দেশে। লক্ষ কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার করে দেশকে পঙ্গু করে দিয়েছে। পুলিশকে পুলিশ লীগে পরিণত করেছে। সত্যিকার অর্থেই সরকার আজ দিশেহারা। শাহ আলম খান স্বরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম আমি বলতে চাই বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে উক্তিটি করেছেন দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে যথার্থই বলেছেন। মো. ওমর ফারুক বারিধারা, ঢাকা