কাঠালিয়ায় ব্রিজ ভেঙ্গে ৭ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জনদুর্ভোগ চরমে
কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৭
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের বানাই-মহিষকান্দি বাকের খালের ওপর লোহার ব্রীজটি ভেঙ্গে ৭ মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত ৪ আগস্ট হঠাত্ করেই ব্রীজটি নদীতে ভেঙ্গে পড়ে। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝালকাঠির বানাই কাঠালিয়া-পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া-মঠবাড়ীয়ার সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্কুলশিক্ষক মোঃ বজলুর রশীদ খান খোকন জানান- ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে ভান্ডারিয়া হয়ে কাঠালিয়ায় শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দু’টিই ব্যয় হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রীজটি ভেঙ্গে সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে না যাওয়ার কারণে সড়ক যোগাযোগের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। এতে করে শত শত নৌকা, ট্রলার ও ছোট লঞ্চ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। চেঁচরীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ফরাজী জানান, বিগত ৫-৬ বছর পূর্বে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় ব্রীজের তিনটি খুঁটি ভেঙ্গে যায়। তখন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটিতে হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী একটি ট্রলারের ধাক্কায় ব্রীজটি বিধ্বস্ত হলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনরকম লোকজন যাতায়াত করত। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি ও সড়ক জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের সাথে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। কাঠালিয়া থানার ওসি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন জানান, সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ায় পুলিশের টহল দল গাড়ি নিয়ে বানাই পশ্চিম চেঁচরী, ভায়েলাবুনিয়া কালিশংকর এলাকায় যেতে না পারায় আইন-শৃংখলা রক্ষা ব্যাহত হতে পারে।
কাঠালিয়া এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল হাসেম জানান- ১৯৯২ সালে এলজিইডি এ সেতুটি নির্মাণ করে। ১৯৯৮ সালে এ রাস্তাটি সওজের আওতায় চলে যাওয়ায় এ ব্রীজের দেখভাল করার দায়িত্ব এখন তাদের। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর বাদশা বলেন, সয়েল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর এস্টিমেট করে টেন্ডার আহবান করে দ্রুত এ ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।