আজ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাত্বার্ষিকী
শাহ্ মো. ফারুক হোসেন, মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২
আজ ২০ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফের ৪১তম শাহাদাত্ বার্ষিকী। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ সমরে তিনি বর্তমান রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর থানার বুড়িঘাট নামক স্থানে শহীদ হন। তার শাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে আজ আড়পাড়া গ্রামে পারিবারিক উদ্যোগে ভোর ৬টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোরআন খানি এবং আলোচনা সভা, বাদ যোহর মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পিতা মুন্সী মেহেদী হাসান, মাতা মকিদুননেছার একমাত্র পুত্র সন্তান মুন্সী আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের মে মাসে বর্তমান মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের রউফ নগর (সালামাতপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ বছর বয়সে তার পিতৃবিয়োগ ঘটে। এর পর আর্থিক অনটনের কারণে লেখাপড়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি তত্কালীন ইপিআরে ১৯৬৩ সালে সৈনিক পদে যোগদান করেন।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি তার উইংয়ে কর্মরত অবস্থায় ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি মেশিন গানার হিসেবে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের অধীনে রাঙ্গামাটির মহালছড়ি নৌপথ অঞ্চলে বুড়িঘাট নামক স্থানে চিংড়িখালের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। ‘৭১-এর ২০ এপ্রিল পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মুন্সী আব্দুর রউফের মেশিনগানের গুলিতে পাকবাহিনীর ২টি লঞ্চ, একটি স্পিডবোট ডুবে পাকবাহিনীর দুই প্লাটুন সৈন্যের সলিল সমাধি ঘটে। এ সময় হঠাত্ প্রতিপক্ষের নিক্ষিপ্ত মর্টার সেলের আঘাতে তিনি শহীদ হন। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ শহীদ হবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে বুড়িঘাট নিবাসী জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমা ও দয়াল কৃঞ্চ চাকমার সহায়তায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের কবরের স্থান সনাক্ত করা সম্ভব হয়। ১৯৯৭ সালে সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
বিগত ২০০৮ সালে ২৮ মে তার নিজ গ্রাম সালামাতপুরের নাম রউফনগর রাখা হয়। ওই বছরই তার নামে নিজ গ্রাম রউফনগরে স্থানীয় সরকার সমবায় মন্ত্রণালয় ফরিদপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি যাদুঘর ও গ্রন্থগার নির্মাণ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্বের জন্য সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া তার নামে এলাকায় কামারখালী বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ যা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারিকরণের ঘোষণা দেন। গন্ধখালী বীরশ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয়, সাভারে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গেট, ঢাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস স্কুল এন্ড কলেজসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।