আসিফ-বাটকে আশা দিলেন আশরাফ
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৪৬
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান জাকা আশরাফ জানিয়েছেন, পারফরম্যান্স ভাল হলেই কেবল নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পরে সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফ আবারো জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন। আর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে এই দুই খেলোয়াড়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে কোন বাধা নেই বলেও তিনি জানান।
নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’র এক ছদ্মবেশী সাংবাদিকের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হবার পরে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা (আইসিসি) দুজনকে দীর্ঘ মেয়াদে নিষিদ্ধ করে। দোহায় ২০১১ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ছয় দিনের শুনানি শেষে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাট এবং আসিফকে যথাক্রমে ১০ এবং সাত বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নির্বাসন দেয়া হয়। আইসিসির এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশ আদালতের দ্বারস্থ হন দুজনে। কিন্তু এবার সালিশ আদালতও বললেন প্রায় একই কথা। যদিও পিসিবির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য একটি দুর্নীতি বিরোধী শিখন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে এই শর্তসাপেক্ষে বাটের পাঁচ বছর এবং আসিফের সাজা দুই বছর কমানোর রায় দেন তারা। তবে এই রায়েও সন্তুষ্ট হতে পারেননি আসিফ। তার দাবি ছিল শাস্তি পুরোপুরি মওকুফের। সালিশ আদালত তাদের রায়ে বলেন,‘এটা আপিল কমিটির কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে মি.আসিফ স্পট ফিক্সিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
নির্ধারিত মেয়াদে সাজা ভোগ শেষ হলে আসিফ এবং বাটের বয়স হবে যথাক্রমে ৩২ এবং ৩০। এই বয়সে আবারো জাতীয় দলে ফেরা সম্ভব হবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে কোন বাধা নেই বলেই জানালেন পিসিবি প্রধান। জাকা আশরাফ লাহারে সাংবাদিকদের বলেন,‘আইসিসি তাদের যে শাস্তি দিয়েছে সেটা তাদের ভোগ করতেই হবে। তারপরে আমরা তাদের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সুযোগ দেব। তাদের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে, নির্বাচকরা পরবর্তীতে তাদের নিয়ে কি করবে। তবে তখন কি করা হবে না হবে সেটা নিয়ে বিতর্কের সময় এটা নয়।’
আসিফ-বাটের এই ঘটনায় সবাই শিক্ষা নেবে এমনটাই মনে করছেন আশরাফ। তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বই এখন ছোট হয়ে এসেছে এবং দুর্নীতি বিরোধী কর্মকাণ্ডের খবর সবাই জানছে। যে কোন খেলোয়াড়ের জন্যই এখন ম্যাচ ফিক্সিং কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কেউ যদি এটা করে তাহলে সে তার জীবন ধ্বংস করে ফেলবে। শুধু তাই নয়, তার পুরো দেশকেই সে কলঙ্কিত করবে।’
স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে দোষী প্রমাণিত আরেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ আমির এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১৫ সালে সাজার মেয়াদ শেষ হলে তবেই খেলায় ফিরতে চান তিনি।