নিজের মতো থাকতে চান শচিন

ওয়ানডে ক্রিকেট ছেড়েছেন কিছুদিন হল। আর বিগত বেশ কিছু দিন যাবত সেরা ফর্মেও নেই। আর তাই সমালোচকদের মন্তব্যও বেশ ভালই সহ্য করতে হচ্ছে ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান শচিন টেন্ডুলকার। তবে লিটল মাস্টার জানালেন, তার অবসর নিয়ে অন্যদের মতামতকে তিনি পরোয়া করেন না এবং তিনি কেবলমাত্র নিজের কাজের প্রতি একাগ্র থাকবেন। আগামী বুধবার ৪০ এ পা রাখতে যাচ্ছেন শচিন। এই বয়সে এসেও নিজের ফর্ম ধরে রাখাটাও বেশ কঠিন। ভারতে প্রথম একটি ই-সংবাদপত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন যাবত অনেক লোকেই এ বিষয়ে (অবসর) কথা বলে আসছেন। আমার যদি ভুল না হয় তাহলে ২০০৫ সাল থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং সে সময় থেকে অদ্যাবধি আলোচনা চলছেই। কিন্তু জবাবে আমি সব সময়ই বলে আসছি আমি আমার কাজ করব, তোমরা তোমাদের কাজ কর।’ কবে তিনি অবসর নেবেন— প্রতিনিয়ত এমন প্রশ্নে তার পারফরমেন্সে কোন প্রভাব পড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে টেন্ডুলকার বলেন, ‘এটা আমাকে প্রভাবিত করে না।’ পত্রিকাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর এক আলোচনায় অংশ নিয়ে কথা বলছিলেন টেন্ডুলকার। এ সময় দুই মন্ত্রী কপিল সৈবাল ও মনিস তিত্তয়ারিও উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ৯৯তম সেঞ্চুরি করার পর তার শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির জন্য গণমাধ্যম কতটা আশান্বিত ছিল সে বিষয়েও কথা বলেন টেন্ডুলকার। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল পুরোপুরি গণমাধ্যমের সৃষ্টি। বিশ্বকাপের সময় আমি ৯৯তম সেঞ্চুরি করলাম। আপনারা (গণমাধ্যম) দলের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বাদ দিয়ে আমার শততম সেঞ্চুরি নিয়ে মাতামাতি শুরু করলেন। বিশ্বকাপের পর আবারো সেই শততম সেঞ্চুরি নিয়ে আলোচনা শুরু হলো।’ কিছু কিছু বিষয়ে টেন্ডুলকারও পাল্টা প্রশ্ন করেন। মাঝে মাঝে পত্রিকা পড়েন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে টেন্ডুলকার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমি পত্রিকা পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকলে ক্রিকেট খেলবে কে?’ সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষণ তার সম্পর্কে মতামতে নেতিবাচকতার প্রয়োজন ছিল না— এমন ধরনের এক প্রশ্নের জবাবে টেন্ডুলকারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘আপনাদের ধারণা তারা কি আমার সম্পর্কে ভুল কিছু বলেছে?’ সবচেয়ে উল্লে¬খযোগ্য বিষয় হচ্ছে টেন্ডুলকার বলেন, অন্যের মতামতকে তিনি পরোয়া করেন না। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। অনেক লোকই আমার সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করছে। এদের মধ্যে অনেকে ক্রিকেট খেলেছেন এবং তারা তাদের মতামত দিচ্ছেন। আবার অনেকে কোন দিন ক্রিকেট খেলেননি তারাও মতামত দিচ্ছেন। তবে এমন ধরনের মতামত নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা যেন একটা প্যাকেজ ছিল। ব্যাট হাতে তুমি সব সময় সেঞ্চুরি করতে পারবে না এবং একইভাবে সব সময়ই তুমি ইতিবাচক মন্তব্য শুনবে না। সুতরাং অন্যরা কি বলছে— সে বিষয়ে আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আমি যেটা করতে পারি তাহলো— সব সময় আমার সেরাটা দেয়ার প্রতি নজর দেয়া।’ টেন্ডুলকার বলেন, তার পরিবারে ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হয় না। সুতরাং ক্রিকেট তার পরিবারের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু নয়। বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য টেন্ডুলকার বলেন, ‘আমাদের পরিবারে আমরা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করি না। দিনের অন্যান্য বিষয়ে আমার পরিবারে আলোচনা হয়। ক্রিকেট নিয়ে নয়। ক্রিকেট বিষয়ে আলোচনা করি কেবলমাত্র আমার ভাইয়ের সঙ্গে।’ এদিকে ৪০ তম জন্মদিনের প্রাক্কালে এসে দারুণ এক সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন শচিন। আগামীকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এই ক্রিকেটারের মোমের পুতুল উন্মোচন করা হবে। - বাসস