শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

সকল দলের অংশগ্রহণ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে বিগত দিনে এমন পরিস্থিতি দেশের মানুষ কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। দেশের রাজনৈতিক এ দুরবস্থার কারণে অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অরাজকতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশটা মনে হয় গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন যেন থমকে আছে। এসব কিছুর মূলে রয়েছে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়া। সরকারি দল মনে করছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আবার যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। বিরোধী দল মনে করছে এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার সকল ব্যবস্থা করেই নির্বাচন করবে। দেশের অধিকাংশ জনগণই মনে করে ফলাফল যাই হোক না কেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের সম্মতিক্রমে নির্বাচনের একটি রূপরেখা তৈরি করে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে শান্তিপূর্ণ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। সেই মোতাবেক প্রয়োজনে মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নির্দলীয় কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা গ্রহণ করা যেতে পারে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচন করলে এ দেশের জনগণের কাছে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। এহসানুল মাহমুদ (বাকের) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ, ঢাকা কলেজ ---- বর্তমান অবস্থায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি দেশের সকল উপাদান থাকলেও স্বার্বভৌমত্ব না থাকলে যেমন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা খর্ব হয়, তেমনি সেই রাষ্ট্রের সবকিছু বিদ্যমান থাকলেও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র বলতে কিছুই থাকে না। দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ মানুষ আজ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করে। কিন্তু বাস্তবে তার কোন নমুনা আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। ফলে নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জনমনে। এদেশে বড় দুটি দল কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। তাই সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না, সবার কাছে, এমনকি বিদেশেও। কিন্তু উত্তরণের পথ কোথায়, অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। তার আগে নির্বাচন কমিশনকে অধিক শক্তিশালী করতে হবে। আর এটা একদিনে সম্ভব নয়। তাই আরও দুবার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দিয়ে নির্বাচন করে আগামী দশ বছরে নির্বাচন কমিশনকে অধিক শক্তিশালী করা হোক, যাতে অদূর ভবিষ্যতে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন দিয়েই যেন সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়। মো. উজ্জল হোসেন জিসান এমবিএ, নর্দান ইউনিভার্সিটি, ঢাকা --- কিছু পথের কাঁটা না সরালে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা যদি সামনের নির্বাচনের দিকে তাকাই তাহলে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আমাদের যে একটা সংঘাত মোকাবিলা করতে হবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই সংঘাত নিঃসন্দেহে আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নিজেদের রাজনৈতিক মিত্র মৌলবাদী জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে বেশ রাজনৈতিক অস্বস্তিতে রয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে বিএনপি মাঠ পর্যায়ে খুবই দুর্বল। গত কদিন ধরে বিএনপি যেসব হরতাল দিচ্ছে এর পেছনে মূলত শক্তি জোগাচ্ছে জামায়াত-শিবির। যার কারণে জামায়াত-শিবিরকে ছাড়লে বিএনপির অস্তিত্ব অনেকটা হুমকির মুখে পড়ে যাবে। অন্যদিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগসহ দেশের অধিকাংশ মানুষের চোখের বিষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জামায়াত-শিবিরের সাথে বিএনপির সুসম্পর্ক মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটা আলোচনায় বসা অনেকখানি অস্বস্তিকরই বটে। এখন প্রধান দুই দলের মধ্যে যদি সমঝোতাই স্থাপন না হয়, তবে নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তো আরো দূরের কথা। ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে জোর-জবরদস্তি করে একটা নির্বাচন দিলেও দিতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে এর চরম মূল্য এই আওয়ামী লীগ সরকারকেই দিতে হবে। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির না ছাড়লে বিএনপিকে একই অবস্থায় পড়তে হবে। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা দাঁড়াবে ঠিক পাকিস্তানের মতো। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জামায়াত-শিবির, ক্ষমতার মোহ, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব এই কাঁটাগুলো আমাদের সরাতে হবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা ফিকে হয়ে যাবে। সৌরভ দাস শ্রেণি-দ্বাদশ, বিভাগ-বিজ্ঞান সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট --- জনগণ দ্বারাই দেশের পরবর্তী শান্তির অগ্রদূত নির্বাচিত হবে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনমতের উপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র ও জনমত প্রায় সমার্থক শব্দ। গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য। জনসম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। তাই সরকারের উত্থান-পতন, সাফল্য বহুলাংশে জনমতের উপর নির্ভরশীল। জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও স্বার্থের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করে জনমত। জনমতকে অগ্রাহ্য করে কোন শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। মূলত সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মূলত জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম। সুতরাং জনমত হচ্ছে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি বা প্রাণ। কিন্তু রাজনীতি বর্তমান প্রেক্ষাপটে একি করুণ দশা? সরকারি দল বা বিরোধী দল জনমতকে নিয়ে কি চিন্তা- ভাবনা করে? তারা কি সজ্ঞানে বুঝতে পারে? তারা যে জনসাধারণের ভোটেই নির্বাচিত। জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রার্থী তারা। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়ে একবারও কি ভাবে সেই অসহায় জনগণের কথা? সরকারি দল ভাবে না অসহায় মানুষের নিরাপত্তার কথা। গণতান্ত্রিক দেশে সংঘাতময় রাজনীতি আমরা পছন্দ করি না। আমরা সাধারণ জনগণ দুবেলা ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই। গণতান্ত্রিক দেশে জনসাধারণ দ্বারাই সরকার গঠন হয়। সেক্ষেত্রে সরকারি দল বিরোধী দলের সংঘাত, সহিংসতা, অনৈতিক মূল্যবোধ, স্বৈরাচার, রেষারেষি দিয়ে কখনো সমঝোতা হয় না। সরকারি দলের পতন চাইলে চাইতে পারে সাধারণ আমজনতা। সরকারি দলের পতন কখনো বিরোধী দল চাইতে পারে না। বিরোধী দল ক্ষমতায় গিয়ে যে ভালো কোন উন্নয়নমূলক কাজ করবে তার প্রমাণ কি? তারাও তো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে। গণতান্ত্রিক দেশে সরকার পতন বা সরকার নির্বাচনের উপর সমস্ত ভিত্তি থাকে জনগণের উপর। সেক্ষেত্রে জনগণই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মূল। বিরোধী দলের দেয়া হরতাল, জ্বালাও- পোড়াও, ভাংচুর কর্মকাণ্ড দিয়ে দেশকে শান্তির পথে নেয়া যায় না। এক্ষেত্রে দেশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান, হরতাল দিয়ে নাশকতার সৃষ্টি থেকে বিরত থাকবেন এবং সরকারি দল জনকল্যাণকর কাজে নিয়োজিত থেকে দেশকে সুন্দর পরিসরে বিশ্বের দুয়ারে দাঁড় করাবেন। সর্বোপরি বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতেই পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা সেনাবাহিনীর প্রধানকে হস্তান্তর করবে। সেনাবাহিনী প্রত্যেক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনসাধারণের উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে। কারণ জনগণ দ্বারাই দেশের পরবর্তী শান্তির অগ্রদূত নির্বাচিত হবে। তরিকুল ইসলাম রাসেল মানবিক বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর-১৭০৫