যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ায় দেশে আজ নৈরাজ্য

নবগঠিত বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ায় এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার জন্যই দেশে বর্তমানে হরতাল-নৈরাজ্য ও পুলিশ হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. ফয়েজ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র আজ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজাকার, লুটেরা, সুদ ও ঘুষখোরদের হাতের কব্জায় ঢুকে পড়েছে। ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় না আনতে পারায় দেশে হরতাল, নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা ও পুলিশ হত্যার মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটছে।’ যার সমস্ত দায়ই শ্রমিকদের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তিনি যুদ্ধাপরাধী—রাজাকারদের ফাঁসির দাবি করে শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৫শ’ টাকা করাসহ ৬ দফা দাবি পেশ করেন। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে— পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, ৮ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা, ছুটি ও আইনি অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন প্রভৃতি। ফয়েজ হোসেন খান ৬ দফা দাবি পূরণে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেধে দিয়ে বলেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত সংগ্রাম পরিষদ পরিচালনার জন্য ইঞ্জিনিয়ার মো. ওসমান গণিকে আহ্বায়ক, আজিজুর রহমান নিজামীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. ফয়েজ হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১ মে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল এবং ৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহরগুলোতে সাংগঠনিক সফরসহ ১০ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. ওসমান গনি, মো. আজিজুর রহমান, মো. সালাউদ্দিন খোকা প্রমুখ।