ক্রিকেটারদের আন্দোলন

বোর্ড সভাপতির আশ্বাসেরও পরও শঙ্কা

ক্রিকেট মাঠে খেলার জন্য ক্রিকেটারদের আন্দোলন নতুন নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত ঘাটলে খেলার জন্য আন্দোলনের অনেক উদাহরণ সামনে এসে পড়বে। ১৯৯৯ সালে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর আন্দোলনে নেমে পড়েছিলেন ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এমসিসির বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য দ্বিতীয় সারির জাতীয় দলকে মাঠে নামাতে হয়েছে। পরিস্থিতি বিকল্প জাতীয় দল তৈরির মতো না হলেও সেই একই দাবিতে প্রায় এক যুগ পর আরো একটি বড় আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছেন ক্রিকেটাররা। এবারো সেই একই দাবি, মাঠে ক্রিকেট চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ক্লাব অফিসিয়ালদের পিছুটান, বিসিবির উদাসিনতা; সবকিছু মিলিয়ে এই মৌসুমের ঢাকা মহানগরী প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট শুরু নিয়ে পড়েছে অনিশ্চয়তায়। তাই খেলাটা যেন মাঠে গড়ায়, সেই প্রত্যাশা নিয়েই গতকাল শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েছিলেন শ’খানেক ক্রিকেটার। কাল দুপুরে অবশ্য বোর্ড সভাপতি ক্রিকেটারদের সংগঠন (কোয়াব), প্রিমিয়ারের ক্লাব অফিসিয়ালদের সাথে বৈঠক শেষে আশ্বস্ত করেছেন—আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের দিনক্ষণ ঠিক হবে। কিন্তু বিসিবি সভাপতির এই আশ্বাসের পরও শঙ্কায় ক্রিকেটাররা। অনেকে মনে করছেন, এরপরও প্রিমিয়ার ক্রিকেট মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আর সে ক্ষেত্রে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে জাতীয় লিগে ম্যাচ ফি বাড়ানোর দাবিতে ক্রিকেটাররা একাট্টা হয়েছিলেন। আন্দোলনের সাফল্যও পেয়েছিলেন তারা। তিন বছর পর ফের ক্রিকেটাররা রাজপথে নেমে আসার অন্যতম কারণ প্রিমিয়ার ক্রিকেট নিয়ে বোর্ড ও ক্লাবদের গড়িমসি—অন্তত কাল আন্দোলনে এসে এমন দাবিই করলেন ক্রিকেটাররা। ইমরুল কায়েস, নাঈম ইসলাম, মার্শাল আইয়ুব, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, তারেক আজিজ; সবারই একি কথা— আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই। প্রিমিয়ার লিগ বন্ধের মূল ইস্যু শুরু হয় বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকা সফরের পর থেকে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিপিএলের পর প্রিমিয়ার ডিভিশন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ে সফর, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সিরিজ এবং অনূর্ধ্ব-১৭ দলের খেলাগুলোর কারণে নির্বাচকরা ক্রিকেটারদের একটা শর্ট লিস্ট তৈরি করে বোর্ডে জমা দেন। তারা অনুরোধ করেন, এই তালিকার বাইরেরর ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের। এর আগে প্রিমিয়ারের বারো ক্লাব এক সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগ খেলবে তারা। কিন্তু নির্বাচকদের শর্ট লিস্টের কারণে ক্লাবগুলো বেঁকে বসে। তাই অনিশ্চতায় পড়ে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের ভাগ্য। তুষার ইমরান পরিষ্কারভাবেই বললেন, ‘নির্বাচকদের এই শর্ট লিস্টের কারণেই প্রিমিয়ারটা হচ্ছে না এখনও।’ তবে কাল ক্লাব এবং ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা শেষে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহের সময় চেয়েছি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার ক্রিকেট শুরুর তারিখ ঠিক করা যাবে’। বোর্ড সভাপতির এমন আশ্বাসের পর অবশ্য দুপুরের পরই আন্দোলন স্থগিত করেন ক্রিকেটাররা। কোয়াবের সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয় এ প্রসংগে বলেন, ‘আমরা চাই খেলা মাঠে গড়াক। আমি মনে করছি, সময় মত বোর্ড প্রিমিয়ার লিগ শুরু করবে’। কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল অবশ্য বললেন, ‘বোর্ড সভাপতি আমাদেরকে এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন সময় চেয়েছেন। এর মধ্যে কিছু না হলে আমরা ফের আন্দোলনে যাব’। ক্রিকেটারদের দাবি, এ মৌসুমের প্রিমিয়ার ক্রিকেট না হলে সবধরনের ক্রিকেট থেকে বিরত থাকবে তারা। যদিও জিম্বাবুয়ে সফরের পর একটা বড় সময় ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক কোন খেলা নেই ক্রিকেটারদের। আপাতত বোর্ড সভাপতির আশ্বস্তের কারণে ক্রিকেটাররা থেমে গেলেও কার্যত এই মৌসুমের প্রিমিয়ার ক্রিকেট শুরু হওয়ার সুযোগ খুবই কম। বেশিরভাগ ক্লাবগু চাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়ার ক্রিকেট শুরু করতে। কারণ মে-জুন হচ্ছে বৃষ্টির মৌসুম। তাই বৃষ্টির কারণে খেলা মাঠে গড়াবে না। ক্লাবগুলো আর্থিকদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে কাল মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ক্লাবগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন এভাবে, ‘যদি বৃষ্টির কারণে প্রিমিয়ার শেষ হতে দেরি হয়, তাহলে বোর্ড ক্লাবদের ক্ষতিপূরণ দেবে। আমরা মে-জুনের দিকে প্রিমিয়ার ডিভিশন শুরুর চিন্তা-ভাবনা করছি। খেলা হলে একদিন করে রিজার্ভ ডে রাখা হবে। যাতে বৃষ্টি হলে খেলা যেন পরের দিন শুরু হতে পারে’। বিসিবির এমন আশ্বস্তের পরও ক্রিকেটারদের মধ্যে শঙ্কা কমেনি। বরং আদৌ প্রিমিয়ার ক্রিকেট মাঠে গড়াবে কিনা সেই শঙ্কা নিয়েই কাল বাড়ী ফিরে গেছেন আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা।