রেয়াতি হারে আয়কর সুবিধা আরো ৫ বছর চায় প্রাথমিক বস্ত্র খাত
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৩
রেয়াতি হারে আয়কর প্রদানের বিদ্যমান সুবিধা (১৫ শতাংশ) আরো পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে প্রাথমিক বস্ত্রখাত। সেই সাথে এই হার বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। প্রাথমিক বস্ত্রখাতের জন্য এই সুবিধা চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা। গতকাল রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, দেশের টেক্সটাইল মিলগুলো তৈরি পোশাক খাতের নিটওয়্যার ও ওভেন খাতের বস্ত্রের চাহিদার যথাক্রমে ৮০ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ সরবরাহে সক্ষম। বস্ত্রখাতে অধিকতর বিনিয়োগ কর্মসংস্থানের স্বার্থে এই সুবিধা দেয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধমে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে উেস আয়কর কর্তনের বিদ্যমান বিধান বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত কাঁচামালের উপর বিভিন্ন হারে উেস আয়কর প্রদানের কারণে মিলগুলো চলতি মূলধনের সংকটে ভোগে। তিনি দাবি করেন, যে কোন এলসি’র মাধ্যমে ক্রয়মূল্যের উপর উেস কর কর্তন নিয়ম ও বিধি পরিপন্থী। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে উেস কর হার ২ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১ শতাংশ, পরবর্তী ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আড়াই শতাংশ, পরবর্তী ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সাড়ে ৩ শতাংশ,পরবর্তী ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ এবং পরবর্তী যে কোন পরিমাণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ।
এছাড়া এ খাতের স্পিনিং, উইভিং ও ডায়িং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং মিলকে নতুন করে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। অন্যান্য খাত এই সুবিধা পেলেও প্রাথমিক বস্ত্রখাত এ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া পেট চিপস্-এর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, অ্যাক্রেলিক টো ও টপস-এর শুল্ক ও কর প্রত্যাহার, বস্ত্রশিল্পে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, সাইজিং ম্যাটেরিয়াল ও রং রসায়নের বিদ্যমান শুল্ক ও কর প্রত্যাহার, বিকল্প নগদ সহায়তা বিদ্যমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং ডায়িং-প্রিন্টিং খাতের জন্য ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান এবং এ খাতের জন্য টেক্সটাইল আপগ্রেডেশন ফান্ড গঠন করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া এ খাতের পুরনো যন্ত্রপাতি রপ্তানির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ঠিকমত অর্থ সংস্থান করতে না পারলে অনুমোদন হওয়ার পরও রাস্তা (অবকাঠামো) হবে না - এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে আসছে না। রাজস্ব আহরণ ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকা গাড়ি দু্রত খালাসের কার্যকর উদ্যোগ নিতে শুল্ক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, এ জন্য বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। প্রতি গাড়ি থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা করে কর আসলেও তা রাজস্বের সাথে যুক্ত হয়। শুধু মংলা বন্দরেই ৫ হাজার ৩০০ গাড়ি আটকে আছে। এসব গাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য ফরিদউদ্দিন, সৈয়দ আমিনুল করীম, প্রথম সচিব ও প্রধান বাজেট সমন্বয়কারী আল আমিন প্রামানিক, ইকবাল হোসেন, এ এফ এম আব্দুল্লাহ খান, শওকাত হোসেন, বিটিএমএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান মিয়া, মাহবুব হোসেন, মহাসচিব ফিরোজ আহমেদ, পরিচালক এম জামালউদ্দিন, খোরশেদ আলম ও মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।