শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

সংকট আর সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে হলে চাই সংলাপ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আর রাজনৈতিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য করে তুলেছে। আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে ১/১১-এর মত গণতান্ত্রিক হুমকির। সরকারের কঠোর অবস্থান আর বিরোধী দলের লাগাতার হরতাল একদিকে করেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যদিকে অর্থনৈতিক হুমকির মুখে দেশ। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আজ জনসাধারণের কাছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তরহীন প্রশ্ন। সুশীল সমাজ আজ নির্বাক। দেশের এই সংকটময় ক্রান্তিলগ্নে নির্বাচন যেন রূপকথার সোনারকাঠি। তবুও আমাদের দেশের নির্বাচন আমাদেরই করতে হবে, তাই রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দলসমূহ সংলাপের মাধ্যমেই পারে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে। বসু সিদ্ধার্থ সিধু অনার্স ২য় বর্ষ (সমাজ কর্ম বিভাগ) মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা ---- শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে হলে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন রাজনৈতিক দলব্যবস্থা থাকার ফলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন বা সরকার পরিবর্তন করা যায়। জনমত গঠন, সরকার গঠন, প্রতিনিধি নির্বাচন প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসার কারণে দেশে আজ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বি.এন.পি. নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ‘‘তত্ত্বাবধায়ক” এই ইস্যুতে দিনের পর দিন হরতালের নামে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান সরকার দেশের নৈরাজ্য ও সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ বাহিনী দিয়ে একের পর এক লাশের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা কারো কাম্য নয়। এভাবে কোন সমাধান আসতে পারে না। সামনে জাতীয় নির্বাচন, এভাবে চলতে থাকলে সময়োপযোগী নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আর সময়োপযোগী নির্বাচন না হলে গণতন্ত্রের ভাবধারা বজায় থাকবে না। দুই রাজনৈতিক জোটের নৈরাজ্য, হামলা, মামলা, প্রতিহিংসা, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে দেশ রক্ষার্থে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজন। সেনাবাহিনী দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে হলে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হলে তাই হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী নির্বাচন। এম. এ. কাইয়ূম তৃতীয় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ---- বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপ হচ্ছে। দেশের প্রধার দুই দলের মধ্যে বৈরিতা বাড়ছে। একদল আরেক দলকে দায়ী করছে বিভিন্ন সহিংসতার জন্য । প্রধান বিরোধী দল বলছে আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া যাবে না, অপরদিকে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার বলছে এটি একটি ডেড ইস্যু (মৃত ইস্যু)। কারণ সংসদে এ বিষয়টি ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে্। কিন্তু বিএনপির এক দাবি তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি শুধু তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে নেই। দেশ এখন বিভিন্ন ঝামেলায় আটকা। আমার মনে হয় ১/১১-এর কথা ভুলে গিয়েছি। কারণ বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার লোভের কারণে ভোটার তালিকায় ভুল এবং গরমিল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে যেতে চেয়েছিল জাতীয়তাবাদী এই দলটি। এরফলে দেশে সেনাশাসন কায়েম হয়েছিল এবং সর্বোপরি দেশ ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছিল্। ক্ষমতায় যাওয়ার এই মোহে যদি দেশে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তার জন্য আওয়ামী সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে। দেশে বর্তমানে বিরোধী দলের প্রতি যেভাবে অমানবিক নির্যাতন আর নিপীড়ন চলছে তা মনে হয় মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে। সেনা সরকার কোন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য কল্যাণকর নয়— এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরেও অনেকে বলছেন- বর্তমান সরকারের দমন-নিপীড়ন থেকে সেনা সরকার অনেক ভালো। দেশ যেভাবে ক্রমেই সহিংসতার দিকে যাচ্ছে তাতে দেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছে না। ওবায়দুল্লাহ আল মামুন শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় --- প্রতিহিংসার রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয় দেশ বর্তমানে এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। স্বভাবতই আগামী জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। এতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলের বিরোধিতা থাকলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না দাবি বিরোধী দলগুলোর। বিরোধী দলগুলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। অথচ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অনড়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে সমঝোতা আশা করলেও সমঝোতার কোন লক্ষণ নেই বরং যতই দিন যাচ্ছে ততই সংকট বাড়ছে। এই প্রতিহিংসার রাজনীতি চলতে থাকলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কল্পনাও করা যায় না। আর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। সুতরাং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কিভাবে হবে তা সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসে ঠিক করতে হবে। মোহাম্মদ শাহজালাল এম.এস.সি, ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া --- তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখুন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই প্রথমে থাকতে হবে শান্তিপূর্ণ কোন নৈর্বাচনিক পদ্ধতি। তাহলে মোটামুটি আশা করা যায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। এদেশে যদি নির্বাচন হয় দলীয় সরকারের অধীনে, তাহলে তা কোনদিনই শান্তিপূর্ণ হবে না। হবে শুধু সংঘাত। আপনি মানেন আর নাই মানেন, এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য কোন জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ ক্ষমতাসীন দলের কিছু-কিছু নেতারা যদি নির্বাচনের আগেই বলেন,“আমাদের নেত্রীকে আগামীতে আবার ক্ষমতায় বসানো হবে”। তাহলে কি শান্তিপূর্ণ কোন কিছু আশা করা যায় ? এ ধরনের কথা একজন ক্ষমতাসীন নেতার মুখে কোনদিনই মানায় না। এদেশে প্রধান দু’দলের কারো প্রতি কারো সামান্যতম আস্থা নেই। আর থাকেই বা কি করে, এভাবে যদি সরকারি দল বিরোধী দলের উপর নির্যাতন চালায়। আবার সেই বিরোধী দল যখন ক্ষমতায় যায়, তখন তারাও তাদের বিরোধী দলের উপর প্রতিশোধমূলক নির্যাতন চালায়। আজব বাংলাদেশের রাজনীতি। সুতরাং নিজেদের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে, দেশের জনগণের শান্তি ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখুন। পরিশেষে,শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহনশীল ও আস্থাশীল হতে হবে । যাইদ বিন আবদুল কুদ্দুস ৩য় বর্ষ কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ বিজনেস ও টেকনোলজি ইউনিভার্ির্সটি মিরপুর -২, ঢাকা-১২১৬