প্রতিশোধের ফাইনালে আনসার চ্যাম্পিয়ন
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৭
বাংলাদেশ আনসার ৮ম বাংলাদেশ গেমস হ্যান্ডবলে মেয়েদের বিভাগে বিজেএমসিকে হারিয়ে শুধু চ্যাম্পিয়নই হয়নি, আগেরবারের আসরে হারেরও শোধ নিল। ব্যাপারটা আরো বেশি স্পষ্ট হয় খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আনসারের সদস্যদের মিষ্টির প্যাকেট হাতে মাঠে ঢুকে পড়ায়।
বিজেএমসির কাছে ২০০২ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ গেমসের সপ্তম আসরে ফাইনালে হারার পাশাপাশি জাতীয় হ্যান্ডবলের গত দু’টি ফাইনালেও হেরেছিল আনসার। সঙ্গত কারণেই গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শোধ নিতে মরিয়া ছিল আনসার খেলোয়াড়রা। আনসারের মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারাও এসেছিলেন তাদের খেলোয়াড়দের উত্সাহ দিতে। হতাশ করেননি খেলোয়াড়রাও, ৩১-২৩ গোলে বিজেএমসিকে হারিয়ে গেমস হ্যান্ডবলের স্বর্ণ পদক জিতে।
হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের বাইরের সাজসজ্জা বলে দেয় গেমস হচ্ছে। তার উপর স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে ভেসে আসা দর্শক চিত্কার গেমসের আবহ এনে দেয়। হাজারো দর্শকের চিত্কার, সমর্থকদের আনন্দ উল্লাসের মাঝেও পিনপতন নীরবতা নেমে আসে বিজেএমসির শিবিরে। দলটা হেরে যাওয়ায় বিজেএমসির পরিচালক সাবেক ফুটবলার আরিফ খান জয় মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়ে যান।
ফাইনালে হেরে হতাশ দলটি। একটা দারুণ লড়াই হয়েছে ফাইনালে। খেলার শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল বিজেএমসি। সেখান থেকে ম্যাচটা বের করে আনার চেষ্টায় বিজেএমসি লড়াই চালালে প্রথমার্ধে স্কোর বোর্ডে সাম্যতা আসে ১২-১২ গোলের। ৬০ মিনিটের এ ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে ইসমাত আরা নিশি দুই গোল করে এগিয়ে দেন আনসারকে। সেটাই ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়ায় খেলায়। এরপর বিজেএমসি ফাঁকে ফাঁকে গোল করলেও আনসারে এগিয়ে যাওয়াটা আটকাতে পারেনি।
আনসারের সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় অধিনায়ক আনোয়ারা বেগম। তিনি ২০০২ সালেও গেমস হ্যান্ডবলে খেলেছেন। হেরেছিলেন এই বিজেএমসির কাছে। তাই প্রতিশোধ নেয়ার দিনে ৩৪ বছরের এই খেলোয়াড় ছিলেন আবেগাপ্লুত। গাজীপুরের মেয়ে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ১৯৯৫ থেকে নিয়মিত খেলছেন।
আনসারের হয়ে ১১ গোল করে ইসমত আরা নিশি হয়েছেন সেরা গোলদাতা। খেলা শেষে বললেন, ‘আমাদের দলে সাতজন নতুন খেলোয়াড় এসেছেন। তাদের নিয়েই আমরা লড়াই করেছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’
বিজেএমসির হারের কারণ হিসেবে অধিনায়ক শীলা রায় জানান, তারা অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে হেরে গেছেন। সমস্যা ছিল রক্ষণেও। ১১ বছর আগে হওয়া বাংলাদেশ গেমসে খেলেছেন রোজিনা, ডলিয়া, সাহিদা, কবিতা। ফাইনাল হেরে হতবাক ডালিয়া। হারার কারণ জানতে চাইলে ডালিয়ার মুখে কোনো জবাব নেই। শুধু বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না। কেন হেরে গেলাম। নেমেই ৩/৪টা গোল খেয়ে যাওয়াটা সমস্যা ছিল।