আঁটসাঁট পোশাক

এই গরমে আরাম পেতে দেশীয় জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে তরুণীরা পাবেন টপস, কুর্তা, কামিজ, ফতুয়া, পঞ্চো আর কাফতানের মতো ট্রেন্ডি পোশাক। এসব পোশাক দেখতে যেমন আধুনিক, তেমনি আরামদায়কও। সারাদিন আরামদায়ক আর ঢিলেঢালা পোশাক তরুণীরা পরতে পারবেন। ফতুয়া হাতাছাড়া ও হাতাসহ উভয় ধরনের ডিজাইন করা হয়েছে। আছে ফ্রক, ফ্রকের নিচের অংশের কাটে আছে বৈচিত্র্য। কোনোটা ঘেরে বেশি, কোনোটা ত্রিকোনা আবার কোনোটা গোল কাটের। ফ্রকের গলায় নকশা করতেই বসানো হয়েছে কাপড়ের ফুল। আরও আছে কাফতান ও পঞ্চো। কাফতানের সুবিধা হলো, ওড়না সামলাতে হয় না। আবার পোশাকটা হালফ্যাশনের। প্রতিটি পোশাকেই আছে রঙের বৈচিত্র্য। ফ্যাশনের পরিবর্তন সম্পর্কে ট্রেন্ডজ-এর ডেপুটি ম্যানেজার শাহজাদা স্বাধীন খান বলেন, ‘ফ্যাশনের পরিবর্তনের ধারাটা বজায় রেখেছে মূলত তরুণরাই। এখন ছেলে-মেয়েরা একটু পশ্চিমা ফ্যাশনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। দেশীয় পোশাকের ক্ষেত্রে শর্ট বা খাটো এবং ফিটিং ধরনের পোশাক পরতে বেশি পছন্দ করেন। ছেলেরা শর্ট পাঞ্জাবির চেয়ে একটু ছোট এবং ফতুয়ার চেয়ে একটু বড় ধরনের পাঞ্জাবির সাথে আলিগরি কিংবা ঢিলেঢালা কাবলি এ দুই ধরনের সালোয়ার ব্যবহার করেন। ইদানীং স্কার্ফের ব্যবহারও লক্ষণীয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেদের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে গত কয়েক বছর যাবত্ ফতুয়া এবং টি-শার্টের মতো পোশাকগুলোর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তারুণ্যের এই ফ্যাশন সচেতনতার কারণেই খানিকটা ট্রেন্ডি লুক এসেছে প্রচলিত স্টাইলের শার্ট-প্যান্টে।’ মূলত নব্বইয়ের মাঝামাঝি সময় পাঞ্জাবিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে কথা বলে জানা যায় এর প্রধান কারণ হচ্ছে সেই সময় থেকেই বুটিক হাউসগুলোর উত্থান শুরু। এরপর এর আকার, ধরন, কাটিং, রং সবকিছুতেই পরিবর্তন আসে। এক সময় সাদা কিংবা অফ হোয়াইট ছাড়া কোনো পাঞ্জাবি চোখে পড়ত না। অথচ এখন এমন কোনো রং নেই যা পাঞ্জাবিতে ব্যবহার হচ্ছে না। সেই সাথে বাড়তি অনুষঙ্গ হিসেবে বুকে, হাতে, গলায়, নানা রকম মেটাল, বোতাম, চুমকি, ব্লক স্ক্রিন প্রিন্ট দিয়ে করা নকশা পাঞ্জাবির ধাঁচটাকেই করে দিয়েছে আলাদা। হাঁটু পর্যন্ত লম্বা শর্ট পাঞ্জাবি চলে এসেছে পাঞ্জাবির ফ্যাশনে। পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবি তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারালেও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে বর্তমানের ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে এর কাটিংয়ের ভিন্নতার জন্য। ছেলেদের পাঞ্জাবিতে অবশ্য নতুন শব্দ যোগ হয়েছে। তা হলো শর্ট, একটু চাপা। এসব পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি সালোয়ার বেশ মানানসই। শার্টের পরিবর্তনটাও ইদানীং বেশ লক্ষণীয়। আগের বড় ঢিলেঢালা ফরমাল শার্টের পরিবর্তে এখন জায়গা করে নিয়েছে শর্ট শার্ট। জিন্সের ডিজাইন ও রঙে এসেছে অনেক পরিবর্তন। জিন্স অনেক আগে থেকেই ব্যবহূত হলেও তার ডিজাইন ও রঙে ছিল অনেক সীমবদ্ধতা। এখন তারুণ্যের প্রতীক হচ্ছে জিন্স। ছেলেরা ফতুয়া, গেঞ্জি, টি-শার্ট, শর্ট-শার্ট, পাঞ্জাবির সঙ্গে যেমন জিন্স চড়াচ্ছে পায়ে, তেমনি মেয়েদের টপস, ফতুয়া, কামিজ ও শর্ট কামিজের সঙ্গেও জিন্স খুব চলছে। একসময়ের জনপ্রিয় বেলবটম মাঝে ঘুরে এসেছিল তরুণীদের পরনে। মেয়েদের কামিজেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। পায়ের গোড়া ছুঁই ছুঁই কামিজের পরিবর্তে এখন হাঁটু পর্যন্ত খাটো কামিজেই বেশি আরামবোধ করেন মেয়েরা। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও শপিংমলগুলোতে তাই এখন এ ধরনের কামিজের সংগ্রহও অনেক বেশি। ফুলহাতা, ছোট হাতা কিংবা বাঁ হাতা ছাড়া শর্ট কামিজের পাশাপাশি তরুণীরা এখন ফতুয়াতেও অনেক স্বাচ্ছন্দ্য পান। ট্রেন্ডজ-এর ডেপুটি ম্যানেজার শাহজাদা স্বাধীন খান বলেন, ‘গরমে পরতে আরাম হয় সে জন্য হলুদ, সবুজ, নীলসহ নানা রং। গরমের কথা মাথায় রেখে সুতি ও নেট কাপড়ের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। আবার সামনে আসছে বৃষ্টির মৌসুম; তাই আছে শিফন, সিল্ক, শাটিন ও জর্জেট কাপড়ের পোশাক। কাফতানের গলায় আর হাতায় আছে পাইপিং। এ ছাড়া সুতার কাজ, ব্লক প্রিন্ট, বাহারি ফুল, নেটের লেইস, কুরুশ কাঁটার নকশা আর কোমরে ফিতা ব্যবহার। এই পোশাক লেগিন্স, জিন্স এমনকি ক্যাপ্রি দিয়েও পরা যায়। আমরা কাপড়ে জ্যাকার্ট ফ্রেবিক্স ব্যবহার করি সিল্কের পোশাকে। এতে কাপড়ের নিজস্ব ক্যারেক্টার বজায় থাকে।’ নিজেদের পোশাকের ডিজাইন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সালোয়ার-কামিজ অনেকটা পার্টি টাইপের। টপসগুলো ট্রেন্ডি। আর কটনের তৈরি পোশাকগুলো প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় সেভাবেই তৈরি করা। আমাদের পোশাকগুলোর মূল ক্রেতা কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পড়ুয়ারা। আর এসব পোশাক তাদের ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে। তাই তাদের কাছে এসব পোশাকের চাহিদা বেশি।’