[ রা জ নী তি ]

কোন গন্তব্যে বাংলাদেশ?

আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মারমুখী অবস্থানের কারণে দেশের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। দিন যত যাচ্ছে, রাজনৈতিক সংকট ততই ঘনীভূত হচ্ছে। সর্বগ্রাসী সহিংসতা ও হানাহানিতে উদ্বিগ্ন ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। মূলত সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার একগুঁয়েমি, দমন-পীড়নের নীতি এবং বিরোধী দলের হরতাল ও নৈরাজ্যের কারণেই দেশে আজ এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন সব ঘটনা ঘটছে, যা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অকল্পনীয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে গায়ের জোরে স্তব্ধ করতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল নেতাকে সরকার কারারুদ্ধ করে রেখেছে। কারাগারে বিএনপির নেতাদের দীর্ঘ লাইনের কারণে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে দলটিতে। এমতাবস্থায় দলীয় মুখপাত্র ঠিক করতে বেগম খালেদা জিয়াকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দলের মুখপাত্র হিসেবে যে-ই দায়িত্ব পালন করছেন, তাকেই ধরছে পুলিশ। একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে আত্মগোপন করেছেন মধ্যমসারির ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। খোদ বেগম খালেদা জিয়াকে যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার করা হতে পারে— এমন গুজবও শোনা যাচ্ছে। অধিকন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার মনোবাসনা পূর্ণ করতে যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মামলায় বিএনপি নেতাদের দ্রুত বিচার আইনে সাজা দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণার পথেই সরকার এগুচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমতাবস্থায় ১৮ দলীয় জোটও একের পর এক হরতাল দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চাচ্ছে। হরতালের নামে নৈরাজ্য-সংঘাতের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। চলমান ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতির বেশ কিছু খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এ হিংসাত্মক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম। অস্থিতিশীল রাজনীতিতে নতুন নতুন পক্ষ সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ায় ক্রমশ ঘোলাটে হয়ে পড়ছে দেশের পরিস্থিতি। জটিল থেকে জটিলতর হয়ে পড়ছে সংকট উত্তোরণের পথ। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার পারস্পরিক অনাস্থা, বিশ্বাসহীনতা ও অসহিষ্ণুতা এতো প্রকট যে, সংলাপ-সমঝোতার কোনো উদ্যোগ, পরিবেশ ও সম্ভাবনা এখন আর নেই। সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য মানুষও যেন নেই সমাজে। অথচ গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতারা গলা ফাটিয়ে সংলাপ আর সমঝোতার কথা বলছেন। এসব শুনতে শুনতে দেশের মানুষও বিরক্ত। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) চলমান সমস্যা সমাধানে ‘ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কার্যক্রম বন্ধ, বিরোধী দলের সব নেতার মুক্তি এবং সব বড় দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের একটি কাঠামো ঘোষণার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সংকট উত্তোরণে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে একটি রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের সমানসংখ্যক সাংসদকে নিয়ে একটি সংসদীয় ঐকমত্য কমিটি হবে। এ কমিটি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান ও মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যের তালিকা তৈরি করবে। যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে; তাই বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে টিআইবির এ ফর্মুলাকে বিভিন্ন মহল স্বাগত জানিয়েছে। এ ধরনের প্রস্তাব দেশের ক্রান্তিকালে সমাধানের কোনো উপায় বের করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, এজন্য টিআইবি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন টিআইবিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে আলোচনার পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা সরকারকে তৈরি করতে হবে। অথচ এ প্রস্তাবের একদিন পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিআইবির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নতুন ‘ফর্মুলা’ দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করলে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে না। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সত্যিই অপ্রত্যাশিত। সার্বিক দিক বিচার করলে দেখা যায়, শুধুমাত্র আগামী নির্বাচন নয়; বরং সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়েও দেশের পরিস্থিতি আগামী দিনে আরো জটিল হতে পারে। অথচ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের রেকর্ড ভালো। এরশাদ পতনের পর গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে গোলযোগ পাকিয়ে এককভাবে নির্বাচন করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের ৬ষ্ঠ সংসদে তেমন কিছু জগাখিচুড়ি আইন পাস করিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৭ সালেও বিচারপতিদের অবসরের সময়সীমা বৃদ্ধি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে পছন্দমত লোক বসিয়ে সাজানো নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অনড় ছিল বিএনপি। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণ ও নির্ঝঞ্ঝাটভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলো। কিন্তু ২০১৩ সালে এসে বাস্তবতা অনুধাবনে মহাজোট সরকারের অনাগ্রহ কিংবা মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে দেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে চরম উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এরকম একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি কতদিন চলবে? এ ক্রান্তিকালের আদৌ কি উত্তোরণ ঘটবে? ইতোমধ্যে গত ১১ এপ্রিল ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াত-শিবিরের হাতে আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার পর কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা। লাগাতার হরতালকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বেসরকারি বিল তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অপরদিকে সরকারের মামলা-হামলায় বিক্ষুব্ধ বিরোধী দল এপ্রিলের শেষের দিকে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউন দেয়ার কথা ভাবছে। এখান থেকে সরকার পতনের লক্ষ্যে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে আর কী কী ঘটবে? এক-এগারো, নাকি তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু আসছে? সরকারের একগুঁয়েমিতায় জনমনে জেঁকে বসা নানা আশঙ্কার মধ্যে একটি হচ্ছে, সরকার বিএনপিকে ছাড়া মহাজোট শরীক এরশাদকে নির্বাচনকালীন প্রতিপক্ষ বানিয়ে কার্যত একদলীয় নির্বাচনের দিকে যাবে। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুত্ ও দুর্নীতি— প্রায় সবগুলো সূচকে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ায় সরকারবিরোধী জনমত এতো তীব্র যে সরকারের মধ্যেই আশংকা তৈরি হয়েছে, দলীয় কিংবা নির্দলীয়— যেকোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক না কেন, তাতে মহাজোটের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। এজন্য বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন মামলায় সাজা দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। তবে সকল মহল থেকে যখন সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তখন এরশাদকে নিয়ে এ ধরনের একটি নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। সরকার এরশাদকে নিয়ে এখন একক নির্বাচনের দিকে যেতে পারে বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের গত চার বছরের যে কর্মকাণ্ড, তাতে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলেও জনগণ সেটা মেনে নেবে বলে মনে হয় না। তাতে করে সংঘাত আরো বাড়বে; সরকার আরও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠবে। আবার, সরকারের একরোখা মনোভাবের বিপরীতে বিএনপিও যদি কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত রাখে; তাহলে হয়তো বিরোধী দল শিগগিরই অসহযোগ আন্দোলনের দিকে যেতে পারে। এর পাশাপাশি গোলাম আযম ও কামারুজ্জামানের বিচারের রায়ও শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে। সেক্ষেত্রে জামায়াত-শিবিরও তাদের সাম্প্রতিক ধারা অনুযায়ী পুনরায় সহিংসতায় মেতে উঠবে। আবার হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি নিয়েও দেশে নতুন আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ৫ মে ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে তারা। সরকার তাদেরকে আর কতদূর অগ্রসর হতে দিবে, তা-ও ভেবে দেখার বিষয়। এ ধরনের একাধিক প্রতিপক্ষকে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো উপায় থাকবে না। সেক্ষেত্রে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন আরো ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আরেকটি সম্ভাব্য চরম পরিণতি হচ্ছে, জরুরি অবস্থার মধ্যেও গোলযোগ-সহিংসতা অব্যাহত থাকলে; কিংবা সরকার যদি জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তে না যায়— সেক্ষেত্রে অনিবার্য সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে আবার এক-এগারোর মতো অবস্থা হবে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় বা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির বাইরের কোনো পক্ষ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত বা নিয়ন্ত্রিত একটি সরকারকে জনগণ স্বাগত জানায়, এমন উদাহরণও দেশে রয়েছে। উপরোক্ত তিনটি আশঙ্কার যে-কোনো একটি সত্য হলে, তা দেশ, গণতন্ত্র ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই কোনো সুফল বয়ে আনবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেছিলেন, ‘সর্বোত্তম সামরিক সরকার, সবচেয়ে ঘৃণিত গণতান্ত্রিক সরকারের চেয়েও নিকৃষ্ট।’ তাই গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত রাখতে হলে সম্ভাব্য একটি ইতিবাচক উপায় হচ্ছে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেমন— টিআইবি প্রদত্ত ফর্মুলার মতো অথবা অন্যকোনো গ্রহণযোগ্য রূপরেখা অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা। রাষ্ট্রপতি নিজেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। সরকার যদি সরাসরি বিরোধী দলের দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে না চায়, সেক্ষেত্রে এটি হবে ‘সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না’র মতো একটি ব্যবস্থা। শান্তিপূর্ণ কিন্তু আরেকটি ‘অসম্ভব’ পথ হচ্ছে, বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। যদিও বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এটি এখন সুদূরপরাহত। আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই স্থিতিশীলতা আনে।’ স্বাধীনতার পর গত চার দশকে গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খেয়েছে। রাজনীতিবিদদের ভুল সিদ্ধান্ত, বিভেদ ও ক্ষমতার মোহের কারণে গণতন্ত্র বার বার পরীক্ষার সন্মুখীন হয়েছে। আবার গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছেন রাজনীতিকেরাই। দেশ ও গণতন্ত্রের এ সংকটাপন্ন অবস্থায় এই রাজনীতিকেরা এখন কী করেন, তার দিকে তাকিয়ে আছে দ্বি-দলীয় বৃত্তের ঘূর্ণিপাকে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়া দেশবাসী। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়