নায়ক-খলনায়ক সুয়ারেজ!
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০০
লুইজ সুয়ারেজকে নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। বর্ণবাদী আচরণ থেকে শুরু করে হাত দিয়ে গোল আটকে দেয়া সবই তার কাছ থেকে দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। গত রবিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচেই ঘটালেন আরেক কাণ্ড। অ্যানফিল্ডে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে কামড় দিয়ে বসলেন ডিফেন্ডার ব্রানিস্লেভ ইভানোভিচের বাহুতে; জন্ম দিলেন নতুন বিতর্কের!
তবে ম্যাচ শেষে অমার্জনীয় আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সুয়ারেজ। ক্লাব থেকে বহিষ্কার না হলেও জরিমানা গুণতে হবে তাকে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে তিনি চেলসির ডিফেন্ডার ব্রানিস্লেভ ইভানোভিচের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে নয়। বরং সুবিধাজনক স্থান নেয়ার সময় সুয়ারেজ উত্তেজনাকর মুহূর্তে ইভানোভিচের বাহুতে কামড় দেন। অ্যানফিল্ডের অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। স্বাগতিকদের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করে নায়ক বনে যাওয়া সুয়ারেজ এখন এই ঘটনার জম্ম দেয়ায় খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। খোদ লিভারপুলের ম্যানেজার ব্রেন্ডন রজার্স ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিবিত করেছেন।
তবে ক্ষমা চাইলেও রেহাই পাচ্ছেন না উরুগুয়ের এই খেলোয়াড়। জরিমানা করা হয়েছে তাকে ক্লাবের পক্ষ থেকে। এমন কাজ যে তিনি আগেও করেছেন। তীব্র সমালোচনার তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। সুয়ারেজের সমতাসূচক গোলে একটি পয়েন্ট পেয়েছে লিভারপুল। তবে এর আগে তার এই কৃতকর্মের জন্য বিপাকে পড়েছেন তিনি। পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে তিনি ইভানোভিচের বাহুতে দাঁত বসিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনার আগে আবার নিজ বক্সে হ্যান্ডবল করেছিলেন সুয়ারেজ। ফলে গোল হজম করতে হয় লিভারপুলকে। টুইটারে সুয়ারেজ ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘বিকালে যা হয়েছে সে ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ইভানোভিচ এবং পুরো ফুটবল বিশ্বের কাছে ক্ষমা চাইছি অমার্জনীয় আচরণের জন্য। এই ঘটনার জন্য আমি খুবই দুঃখিত।’
টুইটারে সুয়ারেজের এই বার্তাটি দেয়ার মিনিটখানেক বাদে লিভারপুলের ওয়েবসাইটে ক্ষমা চেয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। ক্লাব অফিসিয়ালরাও সুয়ারেজের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য সমালোচনা করেন। লিভারপুলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইয়ান আয়ার একটি বিবৃতিতে বলেন,‘লিভারপুলের জার্সি গায়ে তার এই আচরণ মানানসই নয়। আমরা ব্যাপারটি অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখবো এবং অপেক্ষা করব ফুটবল এসোসিয়েশনের নির্দেশনার জন্য।’
লিভারপুল ম্যানেজার রজার্স ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কোন বক্তব্য না দিলেও ভিডিও দেখে সুয়ারেজের সমালোচনা করেন। রজার্স বলেন,‘ভিডিও ফুটেজ দেখার পর লুইসের উদ্দেশ্যে বলতে হয় ,তার এই আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।’
সুয়ারেজ ২০১০ সালে সাত ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন একই কাজ করায়। তিনি তখন নেদারল্যান্ডের দল আয়াক্সের হয়ে খেলতেন। ডাচ লিগের ম্যাচ ছিল। পিএসভি আইন্দহোভেনের খেলোয়াড় ওটমান বাকালের সাথে একই আচরণ করেন সুয়ারেজ। এই ঘটনার পর সুয়ারেজের নাম প্রচার হয় ‘কানিবাল অফ আয়াক্স’ হিসেবে।
এখানেই শেষ নয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার প্যাট্রিক এভরার উদ্দেশ্যে বর্ণবাদমূলক এবং অপমানজনক কথা বলায় আট ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সুয়ারেজ। প্রোফেসনাল ফুটবলারস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান গর্ডন টেলরও সমালোচনা করেন সুয়ারেজের এবং এই ঘটনাটি বাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিবিত করেন। সুয়ারেজ টুইটারে এটাও জানান যে ইভানোভিচের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করছেন।