দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২৫ এপ্রিল
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ক্রিকেটাররা
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০০
দুঃস্বপ্ন-হারারে টেস্টকে হয়তো এভাবেই মনে রাখবেন ক্রিকেটাররা। তবে, সেই তেতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাইছেন তারা। প্রত্যেকের মধ্যে অনুশোচনাবোধ কাজ করছে, দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে মনে মনে ‘পণ’ও করছেন। কিন্তু এসব প্রতিজ্ঞার মধ্যেও বাংলাদেশ আরো একটি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শ্রীলংকার মত জিম্বাবুয়ে সফরেও ইনজুরির দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে দলের ভেতরে। দ্বিতীয় টেস্টে ভালো খেলার প্রত্যাশার পাশাপাশি থাকবে ইনজুরির মত বড় দেয়াল।
সেই ইনজুরিকে জয় করতেই ব্যাট-বল নিয়ে গতকাল সোমবার একাই মাঠে নেমে পড়লেন তামিম ইকবাল। দলের এমন পরিস্থিতির মুখে হোটেলে বসে থাকতে পারলেন না তিনি। কাল জাতীয় দলের কোন অনুশীলন ছিল না। কিন্তু হোটেলে বিশ্রাম না নিয়ে হারারের স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে নিজে নিজেই অনুশীলন করেছেন বলে টেলিফোনে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান সাদ। শুধু তামিম নন, ব্যাটিং প্রাকটিস করেছেন অলরাউন্ডার মোমিনুল হক সৌরভও। দ্বিতীয় টেস্টে এই দুই ক্রিকেটার দলে থাকবেন কিনা তা সরাসরি কিছু বলতে পারেননি দলের ম্যানেজার, তবে সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি তিনি, ‘আজ (কাল) শুধু তামিম ও মোমিনুল অনুশীলন করেছে। দলের সিডিউলে আজ শুধু বিশ্রাম ছিল। জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারে এই দুইজনের সিদ্ধান্ত নিবে টিম ম্যানেজমেন্ট।’
দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফিরবেন তামিম। কিন্তু ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে ছিটকে পড়লেন রুবেল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন। দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দুই পেসারের পরিবর্তে তিন পেসার রাখা হবে। সেক্ষেত্রে একজন স্পিনার কমে যেতে পারে। কাল এসব তথ্য দিলেন ম্যানেজার সাদ। মিডল অর্ডারে মোমিনুল খেললে দলের জায়গা হারাতে পারেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দল এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে যে, টিম ম্যানেজমেন্টের দল সাজাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ইনজুরি থেকে সেরে উঠে দলের সাথে যোগ দিতে এখন জিম্বাবুয়ে আছেন শফিউল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান জিয়া। রুবেল ও শাহাদাতের পরিবর্তে এরা দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। এই দুইজনের খেলার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিতে পারেননি জাতীয় দলের এই ম্যানেজার। তবে দ্বিতীয় টেস্টে দলে বেশকিছু জায়গায় পরিবর্তন হবে এটি মোটামুটি নিশ্চিত।
জিম্বাবুয়ের কাছে মাত্র চারদিনে টেস্ট ম্যাচ হেরে যাওয়া এবং ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর ক্রিকেটাররাও অনুশোচনায় পুড়ছেন। হোটেলে সারাদিন সময় কাটালেও কোনভাবেই মানতে পারছেন না কেন এমন পরাজয় হল। গত রবিবার রাতে কোচ শেন জার্গুনসেন প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ডেকে কথা বলেছেন। কার কোথায় কি সমস্যা আছে সেগুলো শুনেছেন। কোচও চেষ্টা করেছেন, তখনি সমাধান দিতে। ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ কমাতে কাল অনুশীলনের কোন সিডিউল রাখা হয়নি। ক্রিকেটাররা মনে করে এখান থেকেও নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। দলের ম্যানেজার ক্রিকেটারদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সবাই চাচ্ছে যেন দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নিজেদের ফিরে পেতে। শ্রীলংকায় যে ভালো ক্রিকেট খেলে এসেছে তারা, এখানে সেই ধারাবাহিকতা রাখার চেষ্টা তাদের। কাল (আজ) থেকে অনুশীলন শুরু করবে সবাই।’ দ্বিতীয় টেস্টের আগে মাত্র দুইদিন অনুশীলন করার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। সেরা একাদশ ঘোষণা হতে পারে দুইদিনের অনুশীলন শেষে।