[ অ র্থ নী তি ]

রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করছে

বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশ যখন বর্তমানে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছিল, সে সময়ে হঠাত্ কালবৈশাখী ঝড়ের মত একরাশ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আসলে জনকল্যাণের জন্য যে অর্থনীতির বিকাশ তা নির্ভর করে থাকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। এ কারণেই ক্ল্যাসিক্যাল ইকোনোমিস্ট এ্যাডাম স্মীথ সব সময়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে সংকুচিত করার কথা বললেও রাজনীতি দ্বারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে এ্যাডাম স্মীথের অনেক তত্ত্বই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এমনকি লেসিজফেয়ার পলিসির বদলে গত শতকের ত্রিশের দশকের মহামন্দার পর কিনন্স সরকারি খাতের ব্যয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। পরবর্তীতে মুক্তবাজার অর্থনীতির চর্চা শুরু হলেও লেসিজফেয়ার পলিসির পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়নি। তবে অর্থনীতির চাকা ঘুরতে হলে সংযত ও সঠিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। নচেত্ ব্যাস্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির বিকাশ সাধন করা সম্ভব হয় না। যেখানে সমগ্র বিশ্বে মন্দা ছড়িয়ে পড়েছে, আরব বসন্তের কারণে মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত, সেখানে বাংলাদেশ ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত মোট জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধিতে বেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। রাজনৈতিক সহিংসতা ও স্থবিরতা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার অর্থনীতির প্রাণভোমরার কথা চিন্তা করে বেশ সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি আক্ষেপ করে বললেন যে, এদেশের ভাবমূর্তি যেখানে ধীরে ধীরে বিদেশে উজ্জ্বল হচ্ছিল, জঙ্গিমুক্ত রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছিল, এখন তার বিপরীত চিত্র প্রদর্শিত হওয়ায় রফতানি-আমদানির ক্ষেত্রে আমরা সুযোগ-সুবিধা হারাচ্ছি। তিনি প্রশ্ন করেন, সময়মত পণ্য যেখানে প্রেরণ করা যাচ্ছে না, খালাস করা যাচ্ছে না, সেখানে এভাবে হঠকারী সহিংস তাণ্ডবলীলা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য দেশি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশে পরিণত হচ্ছে কেন? হঠাত্ করে অর্থনীতির উপর এই যে বাড়তি চাপ—মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, আইন-শৃংখলা বাহিনীর উপর হামলা চলছে, ফটিকছড়িতে তাণ্ডবলীলা হওয়ায় দেশের যখন সাধারণ জনমানুষ দুঃখের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে তার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির উপর পড়তে বাধ্য। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাচ্ছে। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। হরতালের দরুন সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির চলকগুলো সংঘাতময় পরিবেশে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি হঠাত্ করে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে থমকে দাঁড়াচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতে অর্ডার প্লেইস করতে ভয় পাচ্ছে। যেখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, সেখানে পোশাক খাতে অর্ডার প্লেইস করে সমস্যার উদ্রেক হবে বলে আশংকা করছে। এমনকি দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদেশি ক্রেতা এসে হরতাল দেখে বিদেশে ফিরে গেছেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যে বিস্ময়কর উত্থান তা দেশের পোশাক শিল্পখাতকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। অথচ বর্তমানে হরতালের কারণে পোশাক খাতে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে নারী শ্রমিকরা দারুণ অসহনীয় পরিবেশে পড়ে গেছে। দেশের নারীর ক্ষমতায়নের সিংহভাগ ঘটেছিল নারী শ্রমিকদের মাধ্যমে। অথচ এই নারীর ক্ষমতায়ন আজ একটি ভঙ্গুর পরিবেশে দাঁড়িয়ে পড়েছে। কেননা পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কল-কারখানা বিদেশে পণ্য রফতানি করতে না পেরে ব্যাংকের দায়দেনা শোধ করতে পারছে না। অন্যদিকে তারা সময়মত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে পারছে না। আবার সময়মত পণ্য বিদেশেও প্রেরণ করতে পারছে না। একদিকে যেমন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পরিবহনে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি কখনো কখনো পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম তা আসলে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে একটি প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। যে সমস্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের উপরে হামলা চালানো হচ্ছে সেগুলোর মালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এক ধরনের নেতিবাচক ঘটনার উদ্ভব হয়েছে। কেননা বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হচ্ছে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ধনাত্মক হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক যে, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের কথা বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। আসলে বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে ইচ্ছুক তারা যখন দেখেন যে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে তাদের ক্ষতির আশংকা থাকে তখন তারা এদেশে বিনিয়োগে ইচ্ছুক হচ্ছেন না। এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশে বিদেশ থেকে দেশে পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে আসতে চাচ্ছেন না। এই যে সহিংসতা তা অর্থনীতিকে পেছনের দিকে ধাবিত করছে। বিদেশ থেকে দেশে পর্যটক আসার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তারা একটি সমস্যাশংকুল পরিবেশের মধ্যে পতিত হয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হচ্ছে পোশাক খাত ও তত্সংলগ্ন নারী শ্রমিক এবং প্রবাস থেকে কষ্টার্জিত বৈদেশিক অর্থ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, নারী শ্রমিকরা আজ বঞ্চিত হচ্ছেন, তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে মিল-কল-কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার পণ্য পরিবহনের সরবরাহজনিত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি দেশে সহিংসতার কারণে বিনষ্ট হওয়ার জন্য প্রবাসীরাও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশের বিভিন্ন দেশে ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে একজন পাকিস্তানি শ্রমিক যে মজুরি পাচ্ছে তার দুই-তৃতীয়াংশ দেয়া হচ্ছে সমকক্ষের একজন বাংলাদেশি শ্রমিককে। অন্যদিকে একজন ভারতীয় শ্রমিকও বাংলাদেশি শ্রমিকের চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছেন। আসলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হলে দেশের অভ্যন্তরে ইমেজ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে হরতালের জন্য কৃষিপণ্যের সাথে জড়িত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিপণ্য উত্পাদন প্রক্রিয়ায় যারা জড়িত তারা যখন পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না, তখন তাদের আয় হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে তা বিনষ্ট হচ্ছে; পুরো উত্পাদন প্রক্রিয়াই স্থবির হয়ে পড়ছে। এই স্থবিরতা দেশের জন্য একটি ভয়ানক অশনি সংকেতস্বরূপ। ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকেরা অনেক কষ্ট করে তাদের জীবন কাটাচ্ছে। এমতাবস্থায় হরতাল, নৈরাজ্য ও সহিংসতা তাদের উত্পাদন ব্যবস্থা, বণ্টন ও বিপণন ব্যবস্থাতেও আঘাত হানছে। পল্লী বিদ্যুত্ কেন্দ্রে হামলা একটি চরম আতংকজনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্নতার ফলে কৃষিজাত পণ্য উত্পাদন নিদারুণভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই অব্যবস্থা কাটিয়ে উঠা দরকার। অথচ এই যে পল্লী বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সহিংস হামলা তা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার করছে। ব্যাংক ব্যবস্থাতেও মন্দার সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ খেলাপির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এই যে অব্যবস্থাপনা তার ফলে মোট দেশজ উত্পাদনে প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। একের পর এক নৈরাজ্য ঘটানোয় নিম্ন আয়ের কর্মজীবীরা খুবই কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। কর্মহীন হয়ে তাদের পক্ষে জীবনে চলার মত গতি প্রবাহ নেই। সাধারণ খেটে খাওয়া মজুরদের কথা ভাবার মত অবকাশ নেই। ব্যাস্টিক অর্থনীতিতে সম্পদ-স্বল্পরা এক্ষণে আরো গভীর সমস্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। এই অব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যে ধরনের শক্তিমত্তার প্রয়োজন তা কিন্তু এ মুহূর্তে নেই। এদিকে অর্থনীতিতে হরতাল যে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে তার শিকার হচ্ছেন নিম্নবিত্ত থেকে আরম্ভ করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই। হরতালের কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে সেশন জটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সময়মত পরীক্ষা দিতে পারছেন না। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা হরতালের ভুক্তভোগী। মে-জুন মাসে ‘ও’ লেভেল/ ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা। সেখানকার পরীক্ষার্থীরাও হরতাল আতংকে দিন কাটাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিকমত পড়াশোনা হচ্ছে না। একদিকে কোর্স যথাযথভাবে শেষ করতে না পারায় যেমন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তা জাতীয় সমস্যায় রূপান্তরিত হচ্ছে। মানব সম্পদ উন্নয়নে ক্ষতি হচ্ছে। একের পর এক হরতাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সঠিকভাবে এবং সময়মত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্ত হরতাল দেশের উন্নয়নকে কেবল বাধাগ্রস্ত করছে তা নয়, ব্যক্তি হীন স্বার্থে সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে নৈরাজ্য-সহিংসতা এবং পরধর্মের প্রতি বিদ্বেষ এবং সর্বোপরি নারীর প্রতি অবমাননা দ্বারা দেশের অগ্রযাত্রা আজ এক ভঙ্গুর পরিবেশের মধ্যে ঠেলে দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিদেশে বিনষ্ট হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের দরকষাকষিতেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কেবল ব্যালেন্স অব ট্রেড পজিশনে ঘাটতি বাড়ছে তা নয়, বরং ব্যালেন্স অব পেমেন্টেও নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। হরতাল-নৈরাজ্য-সহিংসতা একটি রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ। জোসেফ স্টেগলিজ মন্তব্য করেছেন যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তার মেয়াদে যেটুকু ক্ষতি হয় তা অটোক্রেটিক সরকারের আমলে একবারে নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে সম ক্ষতি হয়। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করতে হলে সবার সাথে মিলে মিশে একসাথে কাজ করা দরকার। কেবল নৈরাজ্য দ্বারা কোন উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। দেশের মোট শ্রমশক্তির অর্ধেক হচ্ছে নারী। নারীদের জিডিপি-তে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে পারলেই কেবল রাষ্ট্রযন্ত্র ভাল চলতে পারে। অথচ নারীদের শ্রম অধিকার কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মত রাষ্ট্রে পরিণত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের অপচেষ্টা রাষ্ট্রের জন্য যেমন ক্ষতিকারক তেমনি সঠিকভাবে মানুষের জন্যও লজ্জাজনক। আবার বিদেশে পণ্য প্রেরণের ক্ষেত্রেও একটি রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন। পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যখন দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখন আল জাজিরা মন্তব্য করছে যে, ভারতের চালে চীনের প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। অথচ চীনের প্রস্তাবনায় বিশ্বব্যাংক প্রণীত মূল নক্সা পরিবর্তন করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিয়ুর রহমান-ই যথার্থ বলেছিলেন বলে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয়। এদিকে হরতালের কারণে এনজিও থেকে যে সমস্ত ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতারা ঋণ নিয়েছিলেন তারা সময়মত অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। যারা বৃহত্ অংকের ঋণ নিয়েছিলেন ব্যাংক থেকে তারাও বিপদে আছেন। আবার বীমা ব্যবসাতেও ধস নেমেছে। এমনকি শেয়ার মার্কেটে যারা বিনিয়োগ করছেন তারাও নানামুখী সমস্যায় পড়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতা দূর হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। (ক) হরতাল ও সহিংসতা বাদ দিয়ে কর্মসূচি দেয়া দরকার যাতে অর্থনীতির ক্ষতি না হয়; (খ) অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে জনকল্যাণের বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় আনা দরকার; (গ) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি যাতে বাস্তবায়িত হয় সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া উচিত, এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার; (ঘ) মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থানমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। (ঙ) নারীর ক্ষমতায়ন বিনষ্ট হওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। (চ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে বজায় রাখতে হবে। উপরোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনা করা দরকার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সামস্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। আর ব্যাস্টিক অর্থনীতি হচ্ছে সামস্টিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা। এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক কল্যাণ নির্ভর করে থাকে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহারের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা দরকার। দেশের সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। লেখক : উপাচার্য, প্রেসিডেন্সী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা এবং ম্যাক্রো ও ফিন্যান্সিয়্যাল ইকোনোমিস্ট