শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?

সরকার উদার হলেই আশা করা যায় দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীতে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদার হওয়া প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া তার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালে এক তরফা নির্বাচনটি ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। দেশের জাতির কল্যাণের জন্য কোন সিদ্ধান্ততে অটল থাকা উচিত। কিন্তু নিজের এবং নিজের দলের বিশেষ স্বার্থের জন্য কোটি কোটি মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নিজ সিদ্ধান্ত অটল রাখার ফল ভাল হয় না। আগামীতে একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য পুনরায় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা দরকার। বিবেকবান রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের বুঝা উচিত যে সমস্ত দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই সে সব দেশে কি আমাদের দেশের মত গণতন্ত্র? আগে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। তারপর সরকার ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন দিতে পারবে। এখনও সময় আছে সকলে মিলে দেশটাকে গড়ি। তা না হলে শুধু শুধু স্বাধীনতাও মুক্তিযুদ্ধের কথা মুখে বলে লাভ নেই। এখনও দেশে ক্ষুধার্ত মানুষের হাজারও লাইন। অপরদিকে দেশের মন্ত্রী-এমপিরা ফাইভ স্টার হোটেলের খাবারও নষ্ট করছে। সুতরাং এসব বিষয় ভেবে দেখার সময় এসেছে। মো. খায়রুল আলম সবুজ বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষ, শ্যামলি আইডিয়াল পলিটেকনিক্যাল, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা ০০০০০০০০০০০ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, কাল্পনিক ভাবনা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হলো পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সহনশীলতা, নমনীয়তা। আর সরকারি দলের উপর বিরোধী দলের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করা। কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা নয়। ভালো কাজের প্রশংসা করা আর জনকল্যাণবিরুদ্ধ কাজের দোষকে ধরিয়ে দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান অবস্থার মতো রাজনৈতিক বিপর্যয় কখনো নেমে আসেনি। এ বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো আগামী জাতীয় নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে। বর্তমান সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত করে। তাদের যুক্তি বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো এদেশেও গণতন্ত্র পদ্ধতি চালু থাকবে। অন্যান্য দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। সুতরাং এ দেশেও হবে। সত্যিই এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, হতাশাব্যঞ্জক। এ অবস্থা শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য, যা কারও কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমার প্রার্থনা, আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনার বাবার হাতে গড়া এ দেশ। সুতরাং এর রক্ষার দায়িত্ব আপনার বেশি। এ দেশের প্রতি প্রেম অন্যদের তুলনায় আপনার বেশি এটাই স্বাভাবিক। তাই জনগণের দিকে তাকিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তাহলেই কেবল আঁধার কেটে আলোর হাতছানি দেখব বলে আশা রাখি। মো. মোজাম্মেল হক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০০০০০ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন মনে হয় হবে না বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় এখানে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শংকা ও বাধা-বিপত্তিমুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই হলো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। দিন যত যাচ্ছে আমাদের জাতীয নির্বাচন ততই নিকটে চলে আসছে। আর ততই বাড়ছে রাজনৈতিক কোলাহল, সংঘাত, মারামারি, খুন, গুম ইত্যাদি নাশকতামূলক কাজ। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্য নয়। সরকারি দল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিচ্ছে, যা এক প্রকার রাজনৈতিক উসকানি। আর এ উসকানির সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলগুলো নাশকতা সৃষ্টি করছে। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও নির্বাচন সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের যে দাবি তুলছে, তার দিকে সরকারও যেমন কর্ণপাত করছে না, তেমনি নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না বলে জানান দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। বিরোধী দল দমন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি না করা, সরকারি দলের সংগঠনগুলোর একচেটিয়া প্রভাব এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচন যে শান্তিপূর্ণ হবে না তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনিক সকল পর্যায়ে দলীয়করণ করার ফলে আগামী নির্বাচন কতটুকু নিরপেক্ষ হবে তা আজ জনমনে প্রধান প্রশ্ন। দেশকে আগাম অন্ধকার থেকে মুক্ত করার জন্য সরকারকে যেমন নমনীয় হতে হবে, তেমনি বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের সঠিক পন্থা খুঁজতে হবে। ফয়সাল আহমাদ অনার্স ৩য় বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা ০০০০০০০০০০ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। এদেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি সংঘাতময়। তার প্রধান কারণ হলো দেশের দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দলের পরস্পরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস না থাকা। নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে জনমতের উপর। আর জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনের জন্য প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। দলীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করলে সে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন্ন হবে। নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হলে সে নির্বাচন দেশ ও জাতির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর তা জন্য দায়ী হবে দলীয় সরকার। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাইলে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হতে হবে এবং সাথে সাথে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সকল দলের অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। আর যে কোন দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য। এই সমঝোতার জন্য সরকারি দলকেই এগিয়ে আসতে হবে। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং সকল দল শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এম এ মুকিত তৃতীয়বর্ষ, আল-কুরআন এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া