সাকিব-মুশফিকে স্বস্তির ছোঁয়া
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২১
বাংলাদেশের ইতিহাসে সেটা জঘন্যতম টেস্ট ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। তবে বিতর্কের সুযোগ নেই সাকিব আল হাসানের পারফরমেন্স নিয়ে। চারদিনে শেষ হওয়া হারারের প্রথম টেস্টটি নিঃসন্দেহে সাকিবের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ টেস্ট। ক্যারিয়ারে এই প্রথম দুই ইনিংসেই দুই অংকের নিচে আউট হয়েছিলেন এবং দুই ইনিংসেই উইকেটশূন্য ছিলেন।
অবশেষে সেই ভয়াবহ স্মৃতি পেছনে ফেলে আবার কিছুটা স্বরূপে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। সেই সঙ্গে স্বরূপে ফেরার পথে আছেন কলম্বো টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমও। আর এই দুজনের ওপর ভর করেই চলতি জিম্বাবুয়ে সফরে কালই প্রথম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারার মতো একটা দিন পার করলো বাংলাদেশ। হারারের দ্বিতীয় টেস্টে কাল টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দিনশেষে ৬ উইকেটে ৩০০ রান তুলতে পেরেছে মুশফিকের দল। ৮১ রানে সাকিব ও ৬০ রানে মুশফিক ফিরে গেছেন। তবে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৩৭ রানে উইকেটে আছেন নাসির হোসেন; সঙ্গী জিয়ার রান ৮।
বাংলাদেশের দিনের শুরুটা দুই ওপেনার মোটামুটি ভালো করলেও আবার প্রথম টেস্টের স্মৃতি আসলে ফিরিয়ে এনেছিলেন টপ-অর্ডারের খেলোয়াড়রা। বিনা উইকেটে ৪৪ রান থেকে ১২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। আর সেখান থেকেই ১২৩ রানের প্রতিআক্রমণ করা এক জুটি করে দলকে বের করে আনেন সাকিব-মুশফিক।
জিম্বাবুয়ের ফিল্ডাররা প্রথম ওভারেই দুটি রান আউটের সুযোগ ও একটি ক্যাচ না ফেললে ওপেনার জহুরুল ইসলাম খাতা খোলার আগেই বিদায় নিতে পারতেন। অবশ্য এরপর দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে বেশ ধৈর্য দেখিয়ে খেলছিলেন জহুরুল। কিন্তু ২৪ রান করে কেগান মিথের বলে মাথা গরম করা এক শট খেলে ফিরে আসেন তিনি। দলের খাতায় আর ১৪ রান যোগ হতে আবার যেন সেই ‘অধারাবাহিক’ নামটা প্রতিষ্ঠিত করতে মাত্র ৪ রান করে আউট আশরাফুলও। তৃতীয় উইকেটে আরেকটা ৪৪ রানের জুটি করে আবার বেশ আলো ছড়াচ্ছিলেন তামিম ও মোমিনুল। তামিমকে দেখে মনে হচ্ছিল ফিফটি তো বটেই; পঞ্চম সেঞ্চুরিটাও বুঝি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ৪৯ রানে এসে ফিফটির জন্য যেন ভয়ানক ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পরপর কয়েকবার সিঙ্গেলের জন্য অসম্ভব চেষ্টা করার পর ওরকমই এক চেষ্টায় রানআউট হলেন। এর আগেই অবশ্য হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুলের পর দেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ২ হাজার রান করে ফেলেছেন তামিম। মজার ব্যাপার হল সাকিব ও মুশফিকও আছেন দুই হাজারি ক্লাবের খুব কাছাকাছি।
তামিম ফেরার ২৩ রান পর দারুণ খেলতে থাকা মোমিনুলও খেপাটে এক শট করে আউট। তখন আসলেই আবার হারারেতে শঙ্কার ছায়া। সেই ছায়া দূর করতে হাত লাগালেন এবার দলের অধিনায়ক মুশফিক এবং এই জিম্বাবুয়েতেই অধিনায়কত্ব হারানো সাকিব।
বিকেএসপির এই দুই তারকাও শুরুতে খুব যেন ধৈর্যের অভাবে ভুগছিলেন। বেশ কয়েকবার করে দর্শকদের বুক কাঁপিয়ে দেয়া পাগলাটে শট খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে না নেয়ায় দুজনই শুরুটা পেয়েছেন। আর সেটাকে কাজেও লাগিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য ওরকম পাগলাটে শট খেলতে গিয়েও আরো একটি উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে সেঞ্চুরির প্রায় দুয়ার থেকে ফিরে এলেন সাকিব। ৮১ রানে দাঁড়িয়ে চিগুম্বুরার শট-বাউন্সি বলে সামনে এসে শট করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন উইকেটের পেছনে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: প্রথম দিন শেষে
তামিম রান আউট (মাসাকাদজা) ৪৯
জহুরুল ক ওয়েলার ব মেথ ২৪
আশরাফুল ক ক্রেমার ব মাসাকাদজা ৪
মমিনুল ক মাসাকাদজা ব চিগাম্বুরা ২৩
সাকিব ক মুতাম্বামি ব চিগাম্বুরা ৮১
মুশফিক এলবিডব্লিউ ব জার্ভিস ৬০
নাসির ব্যাটিং ৩৭
জিয়াউর ব্যাটিং ৮
অতিরিক্ত (বাই ২, লেগ বাই ৭,ওয়াইড ১, নো ৪) ১৪
মোট (ছয় উইকেট, ৮৮ওভার) ৩০০
বোলিং: জার্ভিস: ১৮-৩-৮৫-১, মেথ: ১৬-৭-২২-১, মাসাকাদজা: ১৭-২-৫২-১, চিগাম্বুরা: ১৮-৪-৫৯-২, ক্রেমার: ১৯-২-৭৩-০।