অবসরে শ্যুটার সাবরিনা!
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২২
বাংলাদেশের শ্যুটিংয়ের তো বটেই; বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় তারকা বলা যায় সাবরিনা সুলতানাকে। ছোট-বড় সাফল্য তো আছেই; ১৯৯৭ সালে এই সাবরিনা কমনওয়েলথ শ্যুটিং থেকে স্বর্ণ জিতে এনে দেশকে ভাসিয়েছিলেন আনন্দে। সেই সাবরিনাই কি না গতকাল অনেকটাই নিরবে-নিভৃতে অবসর নিয়ে নিলেন!
সাবরিনা নিজে বলছেন বটে, তিনি আর খেলতে চান না। কিন্তু আসলেই দেশের অন্যতম সেরা এই শ্যুটার অবসর নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, কর্মকর্তারা বা সাবরিনার স্বামী রিংকি পর্যন্ত বলছেন, সাবরিনা এখনই অবসরে যাবেন না!
গতকাল সকাল থেকেই গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে সংবাদকর্মীরা সাবরিনার অবসরের খবর পেয়ে ভিড় করেছিলেন। সাংবাদিকরা এই খবর জেনে গেলেও, সকাল থেকে শ্যুটিংয়ের কর্মকর্তারা কেউ বলতেই পারছিলেন না, আসলেই এরকম কিছু ঘটছে কি না।
দেশের এতো বড় একজন তারকা শ্যুটার অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা ফেডারেশন জানে না! ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু বলছেন, ‘আমাকে অফিসিয়াললি কিছু বলা হয়নি।’
সাবরিনার স্বামী, দেশের আরেক সাবেক তারকা শ্যুটার সাইফুল আলম রিংকি পেছনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর খেলা দেখছিলেন। তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, তিনিও বলছিলেন অন্য কথা, ‘ওর তো এখনো খেলার সময় আছে। সে চলে গেলে খেলবে কে। এমনিতেই মহিলা খেলোয়াড় কম। শ্যুটিংয়ের স্বার্থেই তার থাকার দরকার আছে-বললেন রিংকি।’
এমনকি সাবরিনার ক্লাব কর্মকর্তারাও বলছেন, তিনি অবসর নেবে না। কিন্তু সাবরিনা শ্যুটিং শেষ করে পরিষ্কার বলে দিলেন, তিনি আর খেলবেন না। খেলা শেষ করে সাবরিনা বললেন, ‘আমি আর খেলবো না। খেলতে চাচ্ছি না। অনেক খেলেছি। এটাই আমার শেষ খেলা।’
আবার একটু পর নিজেই বললেন, খেলা না ছাড়ার জন্য অনেক চাপ আছে তার ওপর। তাই হয়তো শুধু ক্লাবের হয়ে খেললেও খেলতে পারেন, ‘আমার স্বামী রিংকি এবং ক্লাব চাইছে না আমি অবসর নিই। কিন্তু আমি আর খেলতে চাই না। তবে ক্লাব যদি বলে তাহলে জাতীয় শ্যুটিংয়ে হয়তো নামতে পারি। কারণ ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপার আছে।’ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে ড্রেসিং রুম ঘুরে এসে সাবরিনা দেখেন তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য বড় বড় তিনটি ফুলের বুকেট নিয়ে অপেক্ষায় বিওএর সদস্য কামরুন নাহার ডানা, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে হামিদা বেগম এবং জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠনরে পক্ষ থেকে রওশন আক্তার ছবি।
সেখানেই ডেকে আনা হলো ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপুকে। এই কর্মকর্তা সবাইকে নিয়ে তার রুমে গেলেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন বলে শোনা গেছে।
১৯৯২ সালে শ্যুটিংয়ে আসা সাবরিনা নিজের অবসর নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন সেটা বুঝা গেছে। এর আগেও তিনি অবসর নেয়ার কথা বলে ক্লাবের চাপে, পারিবারিক চাপে ফিরে এসেছেন।
সাাধারণ সম্পাদকের রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলের বুকেট তুলে দিয়ে বিদায় সাবরিনাকে বিদায় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিওএ সদস্য ডানা। ফুল হাতে সাবরিনা। চোখের পানি ঝরল স্বামী সাইফুল আলম রিংকির। ছিলেন একমাত্র পুত্র রওনক। কিন্তু তারপরও পরিষ্কার বুঝা গেল না সাবরিনা শ্যুটিং থেকেই পুরোপুরি অবসর নিলেন নাকি শুধুমাত্র কোনো গেমস থেকে অবসর নিলেন। বিকালে জানতে চাইলে টেলিফোনে সাবরিনা বলেন, ‘জাতীয় শ্যুটিংয়ে খেলব না।’
এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই কী তাহলে শেষ হল দেশের অন্যতম সেরা এই শ্যুটারের ক্যারিয়ার? গতকাল সকালেও নিজের ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করেছেন তিনি। এমন একজন শ্যুটার সাবরিনা আরো গৌরবময় এবং জৌলুসপূর্ণ বিদায় আশা করতেই পারতেন!