চলচ্চিত্র প্রীতি

স্কুলে থাকতে অনেক সুযোগ খুঁজতেন যে, কীভাবে এটা ওটা করা যায়। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন শিশু সাংবাদিকতা শব্দটির সাথে প্রথম পরিচিত হন। শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করলেন একসময়। মানুষের এত কাছাকাছি যেয়ে কাজ করার সুবাদে শিশুদের অবস্থা দেখা আর বোঝার সুযোগ বাড়তে লাগল। এতে করে প্রীতি নিজেদের সাথে আর দশ জন ছেলে-মেয়ের অবস্থার তুলনা করতে শিখলেন এবং তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে মনে গেঁথে ফেললেন। সেটা তার সাধ্যে যতটুকু কুলায় তিনি করবেন, প্রীতি সেদিনই ঠিক করেছিলেন। জয়পুরহাটের মতো ছোট শহর থেকে কিছু করা তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তবুও চেষ্টা করে গেছেন নিজের মতো করে ছোটদের জন্য কাজ করে যাবেন। প্রীতি ক্লাস টেনে থাকতে ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি তাদের উত্সবে শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। প্রথমে তেমন একটা মাথা ঘামাননি। কিন্তু ফিল্ম জমা দেওয়ার তারিখ যতই কাছে আসতে থাকে ততই যেন মনে হয় কিছু একটা করতে হবে। সেই বার তাড়াহুড়া করে বানিয়ে ফেলা সেই ফিল্মটাতেই পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। প্রীতির জন্য সেই অনুপ্রেরণা অনেক বেশি। ২য় ফিল্ম ‘মিস ইউ’-এর কাজ শেষ করেছিলেন প্রীতি বহু ঝামেলা পার করে। তা করে আবার উত্সবে জমা দেন এবং আবার তা ২য় পুরস্কার লাভ করে। এর মাঝে ইউনিসেফের আয়োজনে ওয়ান মিনিট জুনিয়র নামক একটা ওয়ার্কশপ করেন এবং ১ মিনিটের উপর একটা ফিল্ম করেন। প্রীতি মুক্তিযুদ্ধের উপর শিশুদের নিয়ে একটি ফিল্ম করেন। এই ফিল্মের কাহিনী তার মায়ের ছোটবেলার কাহিনী ছিল। ‘ঝরা পাতার গল্প’ নামের এই ফিল্মটি ১৭ মার্চ শিশু দিবস উপলক্ষে ‘চ্যানেল আই’-তে প্রচারিত হয় এবং ‘মিনা অ্যাওয়ার্ড’ ২য় পুরস্কার লাভ করে। এতগুলো শিশুতোষ চলচ্চিত্র করে হাত পাকানো প্রীতি ছোটদের চলচ্চিত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজও করেছেন, ছিলেন ক্ষুদে বিচারকের ভূমিকায়ও। প্রীতি বর্তমানে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্দ্যালয়, দিনাজপুরে পড়ছেন। এ ছাড়া এখানকার ডিবেটিং ক্লাব, নাট্য সংগঠনের সাথে জড়িত। তার জীবনের মূল লক্ষ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ। শিশুদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নারীদের নিয়েও কাজ করার ইচ্ছে তার। প্রীতির মনে হয়, ‘এখন আমাদের বিভিন্ন রকম লক্ষ্য থাকে, জানি না যে, যা চাই তা হতে পারব কি না। তবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার বড় জায়গা মিডিয়া। তাই নিজেকে মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করতে চাই।’ অন্য তারুণ্য প্রীতি তার মাকে জীবনে আদর্শ হিসেবে মানেন। কারণ, তিনি ছোটবেলা থেকে তার প্রতিটি জন্মদিনে তাকে বই উপহার দিয়েছেন। যেগুলো আজ তার জন্য সম্পদ, সেগুলো খুলে দিয়েছিল তার ভাবনার জগত্। প্রীতির মা অনেক বই পড়েন আর তার জ্ঞানগুলো তার ছেলেমেয়েদের সাথে ভাগ করে নেন। তার একটাই কথা যে বই থাকলে তার আর কিছু লাগে না। প্রীতি কাজের ক্ষেত্রে সব সময় পরিবার থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্ল্যাসিকাল নামক ভাবটা খুব টানত। ছোট খালামণি যখন গান শিখতে যেতেন, প্রীতিকে তার সাথে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তখন তার বয়স ছিল চার। তখন থেকেই ভালো লাগা শুরু হয় গান, আবৃত্তির প্রতি। আর নাটক ও ফিল্মের প্রতি ভালোবাসাটা আপনাআপনি হয়ে গিয়েছে। ‘মূলত পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই নির্মাণের প্রতি ঝোঁক বেড়ে গিয়েছে।’ প্রীতি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে ক্যামেরাকে সাথে নিয়েই চলতে চাই। আমি বিশ্বাস করি যে, জীবনের কথা কলমে-কাগজে আর ক্যামেরার মাধ্যমেই প্রকাশ করা যায়। এখনও অনেক পথ চলতে হবে।’