শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০০
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথাযথ প্রয়োগ চাই
বর্তমানে দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত সৃষ্ট সমস্যার প্রধান দুই দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অনুসরণ করে তাহলে একটি সুন্দর সমাধান আসতে পারতো। বর্তমান মহাজোট সরকার গায়ের জোরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে চায় এবং অন্যদিকে বিরোধী জোট নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতিও বিরোধী দলের পূর্ণ আস্থা নেই। সরকারি দল বিরোধী জোটকে নির্বাচনের বাইরে রাখবে বলেও শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে কোন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যেন তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সুতরাং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হলে বর্তমানে প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের কোন বিকল্প নেই। আশা করব রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান দেখিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিবে।
এএইচএম ওবায়দুল্লাহ্
এমএসএস নৃবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
হিংসাত্মক রাজনীতি পরিহার ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়
বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতা আর অচলাবস্থা বিরাজ করছে তার জন্য আমি মনে করি আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বহীনতাই দায়ী। বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ অত্যন্ত ভয়ানক রূপ ধারণ করছে। ঘন ঘন হরতাল, ভাংচুর, বিস্ফোরণ, পরীক্ষার্থীদের হয়রানি, ব্যবসায়ী, শ্রমিক তথা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আজ বড়ই ভোগান্তির শিকার। এই অচলাবস্থার মাঝে সুষ্ঠ,ু নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আজ আমাদের দেশেও ‘আব্রাহাম লিংকন ও মাওসেতুংয়ের খুব প্রয়োজন। বাংলার মানচিত্রে যখন শকুনের হিংস থাবা, সীমান্তে কাঁটাতারে যখন ঝুলন্ত ফেলানীর লাশ ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আমার মনে হয় না। তাই আসুন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবার দাবিতে আমরা জ্বলে উঠি আপন শক্তিতে।
পীর সাইদুর রহমান খান
এল.এল.বি (অনার্স) আইন বিভাগ,
প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, বনানী, ঢাকা
জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রয়োজন
ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ২০১৪ সালেই নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের সে হাওয়া প্রায় অনিশ্চিয়তার দিকে যাচ্ছে। প্রধান দু’দলের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। ফলে দেশে আজ সংঘাতময় পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এ কথা সঠিক যে, আস্থা অর্জনের জন্য বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। প্রধান দু’দল সেটা বোঝে, কিন্তু কেন এত তালবাহনা সমস্যা থাকলে সমাধান অবশ্যই সম্ভব, দু’দল আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে পারে। দু’দলেই নির্বাচনে বিশ্বাস করে। আর যদি সংবিধান, নির্বাচন ও জনগণকেই বিশ্বাস করেন, তবে স্বাধীন এ দেশটাকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে আলোচনা করে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করুন। তবেই জনগণ আপনাদের ভালোবাসবে। মামলা, হামলা, রক্তে কোন দিন সমস্যা সমাধান হয়নি। আলোচনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
মো. জামাল উদ্দিন
আইন বিভাগ (২য় বর্ষ)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা শূন্যের কোটায় অবস্থান করছে
এ দেশের নির্বাচন হলো সমষ্টিগত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় একটি বৃহত্ গঠনমূলক কাজ। সকলেরই মতামতভিত্তিক অধিকাংশরই সমর্থিত কাজের মধ্যদিয়ে নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এ নির্বাচন তথা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন-এর ক্ষেত্রে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার প্রয়োজন। যেখানে সুষ্ঠু রাজনীতি নেই সেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন-এর আশা করা পণ্ডশ্রমেরই নামান্তর। এদেশের রাজনীতি ভালো নয় আমি এটা বলবো না কিন্তু এদেশের রাজনীতির মধ্যে বিশাল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রবেশ করেছে। যার ফলে প্রত্যেক জাতি, ধর্ম ও গোষ্ঠী তাদের দেশ ও দেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের মধ্যে অবস্থান করছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কার্যপরিচালনা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানমূলক সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত হতে হবে উভয় দলকেই। তাহলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে বলে মনে হয়।
মো. আল আমিন
বিবিএ, শেষ পর্ব,
অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,
বনানী, ঢাকা
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জনগণের একমাত্র প্রত্যাশা
মানুষ অধিক আশায় বিভোর এবং স্বার্থন্বেষীমহল একটি ক্ষতির বদলে পাল্টা ক্ষতি সাধনে বিশেষ তত্পর। এগুলো সুষ্ঠু কাজে বাধার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়ায়। চলমান সরকার সকল দলের সিদ্ধান্তে বা সাদর সম্মতিতে নির্বাচনের ফুলশয্যা তৈরি করে জাতিকে উপহার দিতে পারে একটি সোনালি ভবিষ্যত্। আর তা না হলে জনগণই দেশকে অশান্তি থেকে মুক্ত করে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ আনয়ন করবে। সরকারি দলের পতন বিরোধী দল সৃষ্টি করতে পারে না। কেবল পারে রাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ ও মজলুম জনতা। সর্বশেষে বলতে চাই, চলমান সরকারের মেয়াদ শেষান্তে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত।
মো. আমিনুল ইসলাম
এম বি এ (ইভিনিং প্রোগ্রাম) এনরোল্ড
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়