শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি?
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২২
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে
যদি দুইনেত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি ত্যাগ করেন
সতীনের মত আচরণ বন্ধ করেন। দুই নেত্রী পরস্পরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে গণতন্ত্রে সহযাত্রী ভাবেন, পরস্পরকে বিশ্বাস করেন। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। একজন আরেকজনকে সাপ আর চোরের মায়ের সাথে তুলনা করা বন্ধ করেন। ভারত এবং পাকিস্তানের প্রতি ভালোবাসা পরিত্যাগ করে দেশকে ভালোবাসেন, পরস্পরের প্রতি ষড়যন্ত্র পাল্টা ষড়যন্ত্র বন্ধ করেন। পরস্পরকে বন্ধু হিসেবে গণ্য করেন। জেলে যাওয়ার কথা মনে রাখেন। ডান-বাম দ্বারা বিভ্রান্ত না হন। সত্যিকার দেশকে যদি ভালোবাসেন, দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। খোলামনে যদি আলোচনায় বসেন, সংবিধান মানেন, সংবিধানের অপব্যাখ্যা না দেন, যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করেন। মানুষ খুন করা বন্ধ করেন। তৃতীয় শক্তির উত্থান না চান। পরস্পরকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ না করেন। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী যদি জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে আসে। বর্তমান সরকার যদি সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। বিরোধীদল যদি আর হরতাল না দেয়। সর্বোপরি দুই নেত্রী যদি গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাহলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।
মিকাইল হোসেন
বিএসএস (অনার্স) এমএসএস
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা জনগণের
জনমতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করার একমাত্র উপায় হল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যে, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হবে জনকল্যাণে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া! কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে বুঝা যায় যে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলো জনকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার চেয়ে বরং ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ বেশি। ফলে রাজনীতিতে প্রায়শই সৃষ্টি হচ্ছে সংঘাতময় পরিস্থিতি। বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু, ধর্মীয় ইস্যু। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু ও সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশের সাধারণ নাগরিক তথা সারাবিশ্বের মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একদিকে সরকারি বাহিনীর তাক করা বন্দুক আর অন্যদিকে হরতালকারীদের ককটেলের হাতছানি রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষকে যে আতংকিত করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন করে কেন সহিংসতা এই উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিচক্ষণতার পরিচয়। অন্যথায় ১/১১’র মত অস্থিতিশীলতায় সামরিক শক্তির আবির্ভাবের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যা হতে পারে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ!
রাকিবুল হাসান রাসেল
হিসাব বিজ্ঞান, ৩য় বর্ষ
সরকারি তিতুমীর কলেজ,
ঢাকা
বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গোটা দেশকে বিপদে ফেলে দিয়েছে
এশিয়া মহাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল সম্ভাবনাময়ী একটি দেশ বাংলাদেশ। এদেশের উপর দিয়ে একাধিকবার ধ্বংসযজ্ঞ কর্মকাণ্ডের পরও দেশটি দিন দিন অগ্রসর হচ্ছিল কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গোটা দেশকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কাজকর্ম থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন পণ্যবাহী যানগুলো পোড়ানো হচ্ছে নির্বিঘ্নে। যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের অস্বাভাবিক ক্ষতি হচ্ছে। দলীয় নেতাদের চাঁদাবাজির কারণে উন্নয়নের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। আমাদের দেশে দুর্নীতিযুক্তভাবে কাজ করতে হলে সেনাবাহিনীর দ্বারা কাজ করানো উচিত তাহলেই সরকারি উন্নয়নের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করি। উদাহরণস্বরূপ হাতিরঝিল প্রকল্পের কথা বলা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে এবং পরে সরকার দলীয় এবং বিরোধীদলীয় নেতারা কিভাবে দেশের উন্নয়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে নেতা-নেত্রীরা তাদের আচার-আচরণ দুই সতীনের সংসারের মতো চুল ছেঁড়া-ছিঁড়ি করে থাকেন আর তার খেসারত দিতে হয় কপাল পোড়া জনগণকে। গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক দল থাকবেই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক দল থাকলে তাদের প্রত্যেক দলের মধ্যে ভিন্ন মত থাকবেই। তাই বলে সবাই যার যার মুখ ঘুরিয়ে নিলে চলবে না। তাতে সংঘাত নিশ্চিত। তাই একঘেয়েমি এবং মতবিরোধ ভুলে গিয়ে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক সকল বিষয়ে বিবেচনাপূর্বক নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাশা করি। আশাকরি নির্বাচনী পূর্বপ্রস্তুতির জন্য সরকার এবং বিরোধীদলীয় নেতাদের আলোচনায় বসতে হবে নিজ স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে, শুধু নির্বাচনের স্বার্থে এগিয়ে এলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
মো. শামীম আহম্মেদ
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
দুই নেত্রীকে অবশ্যই সমঝোতায় পৌঁছতে
হবে
সংকটে প্রয়োজন সার্বক্ষণিক সমঝোতা। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজন সকলের শুভবুদ্ধির উদয়। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে দেশের প্রধান দু’টি দল যেভাবে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল দেশের প্রয়োজনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবার পারে তারা সুস্থ একটি সমাধান দিতে। দেশকে সম্মুখভাগে এগিয়ে নিতে কিংবা পশ্চাত্ভাগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিই উল্লেখ্য। মানুষে মানুষে কথন বা আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে তারা একে অন্যের সাথে কথনের বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারেন। আলোচনার টেবিল থেকেই পেতে পারি সুস্থ একটি নির্বাচনের সুবাতাস। নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা হলে ক্ষতি যা হবার তা আমাদের দেশেরই হবে। কাজেই অন্য কারো আশীর্বাদের প্রত্যাশায় না থেকে নিজেরা উদ্যোগী হলে হয়তো স্বচ্ছ একটি নির্বাচন সম্ভব হবে। তাই একে অন্যকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের প্রয়োজনে সকলে এক কাতারে দাঁড়ালে আবারো একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
নিরঞ্জয় জিতু
নাট্যকলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়