যোগাযোগের সফলজন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩৬
নিজের মেধা, পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমেই নিজেকে অধিষ্ঠিত করেছেন সফলতার শীর্ষে, নিজের ক্যারিয়ারকে সাজিয়েছেন নানা মেধাবী রঙের ছোঁয়ায়। টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি বাংলালিংকের মার্কেটিং বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন নাফিস আনোয়ার চৌধুরী। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর জানার আগ্রহ তো ছিলই, সেই সাথে ছিল অনেক মানুষের সাথে যোগাযোগ। এই গুণটি কাজে লাগিয়ে তিনি আজ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল মুখ। তাকে নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
বাবার বদলির চাকরি ছিল, বাবার পিছু পিছু দুই ভাই ঘুরে বেড়িয়েছেন সারাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। বাবা আজ তাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার দেখিয়ে যাওয়া পথ ধরে হেঁটেছেন তারা। দেশের দ্রুত অগ্রসরমান টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি বাংলালিংকের মার্কেটিং বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন নাফিস আনোয়ার চৌধুরী। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর জানার আগ্রহ তো ছিলই, সেই সাথে ছিল অনেক মানুষের সাথে যোগাযোগ। এ জন্য বোধহয় পাবলিক রিলেশন্স আর কমিউনিকেশন্সের জায়গাটাতে দায়িত্ব পালন করতে খুব অপ্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয় না তার।
নাফিস আনোয়ার চৌধুরীর ছেলেবেলা কেটেছে উত্তরবঙ্গের বগুড়ায়, সেখানেই স্কুল জীবনের শুরু। এরপর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কেটেছে কিছু দিন। ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। রাইফেলস পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি দেন তারপর। নাফিসের আগে থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় ঝোঁক ছিল। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেলেন তিনি। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করেই যোগ দেন বিএটি-তে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো তখন এই ঘরানার ছেলেমেয়েদের কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ জায়গা। এই ঈর্ষণীয় সুযোগটা পেয়ে যাওয়াতে অনেক বড় একটা পরিসরে কাজের সুযোগ পান তিনি। এই অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তীতে কাজ করতে অনেক সাহায্য করেছে।
বছর চারেক আগে তিনি যোগ দেন বাংলালিংকে। এখানে আসার পরপরই তিনি ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করা শুরু করেন। পণ্যের সঠিক ব্র্যান্ডিং একটা জিনিসকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কাজটা নিজে নয়, সবাইকে নিয়েই করতে হয়। নাফিস বাংলালিংকে সুন্দর একটা কাজের পরিবেশ পেয়ে যান, যেটা তাকে এখানে কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।
বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একেকটি কোম্পানি একেকভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছুতে চাচ্ছে। সুতরাং প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এর সহজ অর্থ চাহিদা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কেটে টিকে থাকার জন্য ব্র্যান্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করছে। দিন দিন এটা বাড়বে। সুতরাং আজকের শিক্ষার্থী যারা এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবছে, তাদের সামনে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত্ অপেক্ষা করছে। মার্কিটিং সেক্টরে যারা কাজ করছেন তাদের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অ্যাড ডিপার্টমেন্ট থাকে, সেখানেও কাজ করা যায়। তবে এটি স্পেশালাইজেশনের যুগ। আপনি যদি ফিল করেন তাহলে প্রতিষ্ঠানকে বলতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং সাইটটা আপনি দেখতে আগ্রহী। এভাবেও শুরু করা যেতে পারে।’
নতুনদের জন্য কী পরামর্শ তার জানতে চাইলে নাফিস বলেন, ‘প্রথমেই আত্মবিশ্বাস। সবকিছুই সম্ভব এ কথা বিশ্বাস করতে হবে। নিজের বিশ্বাসের প্রতি আস্থা থাকতে হবে। এরপর সততা। দায়িত্বে অবহেলা করা যাবে না। তৃতীয়ত, ভিন্ন চিন্তা করতে হবে। গতানুগতিক ধারণা থেকে বের হয়ে এসে মৌলিক চিন্তা থেকে কাজ করতে হবে। এরপর চারপাশে কী ঘটছে সেটা জানতে হবে। আপডেট থাকতে হবে। নতুন কী হচ্ছে এটা জানা না থাকলে পিছিয়ে পড়তে হবে। ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ হিসেবে যারা ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেছেন, তাদের মনে রাখতে হবে এই পেশাতে সৃজনশীলতার চর্চার বিকল্প নেই। এই পেশায় সব সময়ই প্রয়োজন হবে সময়ের সাথে তালমিলিয়ে আপনার পণ্যের সর্বোচ্চ প্রচার নিশ্চিত করা এবং পণ্যটিকে আপনার টার্গেট কাস্টমারের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা। আর এই কাজে একটি স্থানে আটকে থাকলে চলবে না কোনোভাবেই। তা ছাড়া ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য নেতৃত্বের গুণ থাকা প্রয়োজন। যেকোনো কাজে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উত্সাহিত করতে হবে কাজটি সঠিকভাবে করার জন্য। একমাত্র নেতৃত্বের কারণে আপনার সফলতা কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। বর্তমান সময়ে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এ জন্য নেতৃত্বকে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে।’ সবশেষে নাফিস বলেন, ‘যে কাজই করুন আন্তরিকতার সঙ্গে করতে হবে। কাউকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা না করে, পরিশ্রম, মেধা, নিষ্ঠা এবং কর্মতত্পরতা দিয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুন। প্রাথমিক সফলতা এলেই, সফলতার আনন্দে বসে থাকলে চলবে না। কারণ, সফলতার শেষ নেই।’
প্রজন্মের এই কর্পোরেট নাফিস আনোয়ার চৌধুরী পারিবারিক জীবনে দুই ভাইয়ের মাঝে ছোট। বড় ভাই নিজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বাবা কয়েক মাস আগে চলে গেলন না ফেরার দেশে। প্রকৌশলী স্ত্রী সাবিহা রশীদ আর মা’কে নিয়েই এখন তার পরিবার। সবার সাথে যেভাবে আছেন, সেভাবেই বাকি জীবনটা কেটে গেলে মন্দ হতো না, এই তার উপলব্ধি।
নাফিস আনোয়ার চৌধুরী
ডাকনাম :নাফিস
জন্মতারিখ ও স্থান :৮ ডিসেম্বর, ঢাকা।
মায়ের নাম :আনোয়ারা বেগম
বাবার নাম :নাজমুল হক চৌধুরী
প্রথম স্কুল :বগুড়া ক্যান্ট পাবলিক স্কুল
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
প্রিয় মানুষ :আমার বাবা
অবসর কাটে যেভাবে :অনলাইনে বিভিন্ন তথ্যাদি আহরণ করে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজে ও পরিবারের মানুষের সন্তুষ্টি।