শিক্ষানুরাগী একজন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৩৭
একান্ত শিক্ষানুরাগ থেকে আবু হাসানাত মো. ইয়াহিয়া প্রতিষ্ঠা করেন কারিগরি বিশেষায়িত বহুমুখী প্রতিষ্ঠান সাইক গ্রুপ অব মেডিকেল ইনস্টিটিউশনস। যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছেন মেডিকেল টেকনোলজি’র ডিপ্লোমা ও বিএসসি কোর্স, সিভিল, টেক্সটাইল ও অ্যারোনটিক্যালসহ বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহ। এই তরুণ উদ্যোক্তার কাছে জানতে চেয়েছি এমন সব উদ্যোগের পেছনের কথা।
‘সাধারণ কোনো ডিগ্রি নিয়ে চাকরির বাজারে এখন আবেদন করাই যেন বৃথা। এমনকি এমবিএ, বিবিএ সনদ নিয়েও দ্বারে দ্বারে ঘুরছে প্রার্থীরা। ফলে তরুণদের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে একধরনের অনিশ্চয়তা, হতাশা এবং তারা হচ্ছে বিপথগামী। এই প্রেক্ষাপটে আমি নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের জন্য কর্ম ক্ষেত্রে প্রবল চাহিদা আছে এমন যুগোপযোগী বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা থেকে উদ্যোগ নিলাম কারিগরির বিভিন্ন ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহ এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত প্রসারিত মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও বিএসসি পর্যায়ের উচ্চতর কোর্স পরিচালনার।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৯০টি মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স করাচ্ছে। কোর্সগুলো যথাক্রমে ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন পিজিওথেরাপি ও ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি ইত্যাদি। ন্যূনতম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি বা এইচএসসি পাস বা সমমানের শিক্ষার্থীরা এসব কোর্সে ভর্তি হতে পারবে।
আমরা ২০০৩ সাল থেকে প্রথমে মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স এবং পরবর্তীতে উচ্চতর পর্যায়ে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ডেন্টাল, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ল্যাবরেটরি, বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি) কোর্স এবং স্নাতক পর্যায়ে এমএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্স ও নার্সিং কোর্স পরিচালনা করছি। এখানে ব্যবহারিক ক্লাস তথা ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের জন্য রয়েছে নিজস্ব সাইক ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ৫০০ ছেলে-মেয়েদের পৃথক ছাত্রাবাস ও ৬০০০ বইসমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। ইন্টার্নশিপের জন্য দেশের বৃহত্তম হসপিটাল ক্লিনিকগুলোর সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০০৯-এ ল্যাব মেডিসিন ও ২০১০-এ ডেন্টালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ১ম স্থান অর্জন করে আমাদের শিক্ষার্থীগণ। ‘সাইক’ থেকে পাস করা প্রায় সকল ছাত্র-ছাত্রীই দেশের সরকারি-বেসরকারি হসপিটাল, ক্লিনিকে এবং বিদেশেও সম্মানজনক বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন।
মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে, বিশেষ করে ঘন বসতিপূর্ণ দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা খাতে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাহিদা এখন প্রকট। কারণ, চিকিত্সা সেবা খাতটি কেবল চিকিত্সকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই খাতকে সচল রাখতে এর সঙ্গে ডাক্তার ও নার্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাও। সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষকরে এদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে জড়িয়ে আছে প্রকৃত রোগ নির্ণয় তথা সুচিকিত্সা প্রাপ্তির বিষয়টি। ফলে মানসম্পন্ন চিকিত্সা তথা উন্নত স্বাস্থ্য সেবার বিষয়টি চিকিত্সকদের পাশাপাশি দক্ষ সেবিকা ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তাই আজকাল প্রায় সব হাসপাতাল-ক্লিনিকই গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়টিতে। এই সেক্টরটি আজ এমনই একটি জনকল্যাণমুখী সেক্টর যেখান থেকে আলোকিত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায়।