অসন্তোষ জানিয়ে গেছে আইসিসি প্রতিনিধিরা

ভেন্যু পরিদর্শন নিয়ে বিসিবির বিভ্রান্তিকর তথ্য

আইসিসির পরিদর্শকরা বাংলাদেশে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলো পর্যবেক্ষণের পর অসন্তোষ প্রকাশ করে গেছে। যদিও আইসিসির পর্যবেক্ষণের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছিলেন যে, ভেন্যু পর্যবেক্ষণ শেষে আইসিসি প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন । বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ছয়টি ভেন্যু পর্যবেক্ষণের পর বিসিবির কাছে আট পৃষ্ঠার এক লিখিত আপত্তিপত্র দিয়ে যায়। ২৩ এপ্রিল কক্সবাজার স্টেডিয়াম পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে আইসিসি প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ মিশন শেষ হয়। এতে সিলেট ও কক্সবাজার স্টেডিয়ামের কাজ সময়মত শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তারা। শুধু তাই নয়, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়াম, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং বিকেএসপির এক নম্বর মাঠের কাজ নিয়েও তাদের অসন্তুষ্টির কথা জানায় এই প্রতিনিধি দল। আইসিসির ইভেন্ট ম্যানেজার ক্রিস্ট স্ট্যাটলির নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের দলটি কক্সবাজার ও সিলেটের ভেন্যু দুইটিতে কাজ শুরুর পর কতটা হলো তা ১৫ দিনের মধ্যে ছবিসহকারে জানাতে সময় বেঁধে দিয়েছে। বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ইসমাইল হায়দার মল্লিক এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সত্যি কথা কি- সিলেটের স্টেডিয়াম নিয়ে আমরা নিজেরাও চিন্তিত। সেখানে অনেক কাজ বাকি। আমাদের যেটা মনে হয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকেও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তো চাইবো না, আমাদের দেশ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলে যাক। বোর্ড সভাপতি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছেন, আরেকটি মিটিং হবে খুব শীঘ্রই’। সিলেট স্টেডিয়াম প্রসংগে আইসিসির বক্তব্য হলো- সেখানে যে পরিমাণ কাজ বাকি তাতে এই বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে কিনা এ নিয়ে তাদের শংকা আছে। কেননা ফ্লাড লাইট, মাঠ ও গ্যালারির সবকাজ এখনো বাকি। আর এগুলো শেষ করতে অনেক সময় লাগবে। এর সত্যতা মেলে যখন গ্রাউন্ডস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটির ম্যানেজার সৈয়দ আবদুল বাতেন বলেন, ‘সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামের কাজ করার জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ১৫ মে দরপত্র খোলা হবে এবং জুন মাস থেকে কাজ শুরু হবে’। আইসিসির প্রতিনিধিরা জুলাইয়ের শেষে আবার ভেন্যু পরিদর্শনে আসবে। ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা ভেন্যুগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করতে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। আইসিসি প্রতিনিধি দল লিখিত পত্রে বলে গেছে এই সময়ের মধ্যে কোনো ভেন্যুর কাজ শেষ করতে হবে। নইলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য সেই ভেন্যুটি বাতিল করা হবে। বিষয়টিকে আশংকা হিসেবে না দেখে গ্রাউন্ডস ম্যানেজার বলেছেন, ‘যদি কোনো কারণে সিলেট স্টেডিয়ামের কাজ শেষ না হয়, তবে আমরা ফতুল্লার মাঠ ব্যবহার করবো। এছাড়া বগুড়ার ভেন্যু তো আছে’। কক্সবাজার স্টেডিয়াম নির্ধারিত আছে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে; কিন্তু বিসিবি এখনো সরকারের কাছ থেকে জমি বুঝে পায়নি। তারপরও বিসিবি সদস্য মল্লিক বলেন, ‘কক্সবাজার স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। কাজ শুরু করলে দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে’। গত ২৩ এপ্রিল বিসিবির কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুকে কক্সবাজার স্টেডিয়ামের কাজ শুরুর জন্য দায়িত্ব দেয়া হলেও সেখানে এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে কিউরেটর বাবু বলেন, ‘আসলে এখনো জমি বুঝে পায়নি বিসিবি। তাই কাজও শুরু করতে পারিনি’। তিনি আরো বলেন, ‘জমি পেলেই তো মাঠের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। সমুদ্র থেকে আট ফুট উপরে মাঠ তৈরি করতে হবে। তারপর উইকেট তৈরির কাজ করতে হবে’। জানা গেছে, সময়মত কক্সবাজার স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে না পারলে বিকেএসপির দুই নম্বর গ্রাউন্ডে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভেবে রেখেছে বিসিবি। এদিকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের কাজ নিয়েও অসন্তুষ্ট আইসিসি। তারা বিসিবিকে ৫০০ সিটের হসপিটালিটি বক্স তৈরির নির্দেশনা দিয়ে জানায় যে, সেগুলো অবশ্যই উন্নতমানের হতে হবে। বর্তমানে এসব বক্সে ৩৮৮ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া দুইটি বাড়তি ড্রেসিংরুমের কথাও উল্লেখ করেছে তারা।